বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটিপতি!|275109|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটিপতি!
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটিপতি!

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা সায়মন বিদ্যুতের অবৈধ পার্শ্ব সংযোগ দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন।

জানা গেছে, চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় একটি অবৈধ বাজারে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুতের অবৈধ পার্শ্ব সংযোগ দিয়ে কপাল খুলে গেছে সায়মনের। প্রায় ২০ বছর আগে তুষার কম্পিউটার নামে একটি ফটোকপির ব্যবসা দিয়ে কোনো রকম দিনাতিপাত করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু পরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের ব্যবসা শুরু করার পর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে চুনকুটিয়া এলাকার বিজয় টাওয়ারে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে তার। বেশ কয়েক খন্ড জমি ছাড়াও একই এলাকায় তার রয়েছে ফটোকপি ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে বিদ্যুতের ৮-১০টি হেভি লোডের মিটার। এসব মিটার থেকেই তিনি একটি বাজার ও আশপাশের এলাকায় পাশ্বসংযোগ দিয়ে আসছেন।

অথচ বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-এর ৩৮(খ) ধারা অনুযায়ী লিখিত অনুমতি ব্যতীত মিটার থেকে কোনো ব্যক্তিকে পার্শ্ব সংযোগ দিলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইন থাকলেও অজানা কারণে তা প্রয়োগ করছে না ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, এ বাজারে অবৈধ বিদ্যুৎ ও জেনারেটর সার্ভিসের নামে সরকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন সায়মন। তার কর্মচারী মাহবুব প্রতিদিন রাতে বিল কালেকশন করেন। বাজারে প্রতিটি লাইটের জন্য তাকে আলাদা করে বিল দিতে হয়। শুধু বাজার থেকেই প্রতিদিন ৪-৫ হাজার টাকা কালেকশন হয়। এ ছাড়া আশপাশের বিভিন্ন অফিস ও বাসাবাড়িতেও তার মাসিক ভিত্তিতে সংযোগ দেওয়া আছে।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, তিনি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করেই কাজ করেন। তার নামে বিভিন্ন এলাকার আলাদা আলাদা সংযোগ রয়েছে। এক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকলে অন্য এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে নেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে তাকে তেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালু করতে হয় না। তিনি আরও বলেন, একই তারের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সায়মন বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ক্ষুদ্র আকারে এ বাজারটি চালু হলেও ৮-৯ বছর ধরে বাজারটি ভালোভাবে চলছে। আমি বাজারে কোনো অবৈধ বিদ্যুৎ দিই না। যে বিদ্যুৎ দিই নিয়মিত তার বিল দিয়ে আসছি।

এ ব্যাপারে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের ডিজিএম আবু তৈয়ব জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি সব কাগজপত্র দিয়েই সংযোগ নিয়েছেন। লিখিতভাবে অভিযোগ করেন ব্যবস্থা নেব।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মাহবুব আলম বলেন, একাধিক মিটার নেওয়ার জন্য যে কেউই আবেদন করতে পারে, আমরা তদন্ত করে প্রাপ্যতা যাচাই করে মিটার দিই। তবে বিদ্যুৎসংযোগ নিয়ে রিসেল করার অধিকার কারও নেই।