ভ্যাট ফাঁকি, তানাজের বিরুদ্ধে মামলা|280038|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০
ভ্যাট ফাঁকি, তানাজের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভ্যাট ফাঁকি, তানাজের বিরুদ্ধে মামলা

তানাজ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মূসক নিবন্ধন নং-০০০০৬০২৭৮-০১০১। একজন গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের নাখালপাড়া কার্যালয়ে সংস্থার উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ভ্যাট গোয়েন্দা দল।

এই আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইসিডি কাস্টম হাউজের মাধ্যমে ব্যাটারির একটি চালানে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য খালাসের অভিযোগ গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট গোয়েন্দা এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।

অভিযানকালে নাখালপাড়ার নয়তলা ভবনের নবমতলায় একটি কক্ষে প্রতিষ্ঠানটির অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। ভবনের সিকিউরিটি গার্ড জানান, প্রতিষ্ঠানটির মালিক ওই ভবনের সপ্তমতলায় থাকেন। গোয়েন্দা দল সহযোগিতা চাইলে প্রতিষ্ঠানের মালিক এতে সাড়া দেননি।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সরকারি কাজে অসহযোগিতার কারণে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়। তেজগাঁও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির অফিসকক্ষের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন ভ্যাট গোয়েন্দারা। এ সময় অফিসকক্ষে রক্ষিত বাণিজ্যিক কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

স্থানীয় ভ্যাট সার্কেল অফিস ও অন্যান্য সূত্রে সংগৃহীত ভ্যাটসংক্রান্ত দলিলাদি পর্যালোচনা শেষে গোয়েন্দারা এই আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পান। প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট ১ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৫৯০ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করা হয়। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ আইন অনুসারে মামলা করা হয়েছে। এ টাকা আদায়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে মামলাটি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা উত্তরে পাঠানো হবে। মামলাটি ন্যায় নির্ণয়নে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে এই দাবি করা টাকার অতিরিক্ত দ্বিগুণ পরিমাণ জরিমানা হতে পারে।

তদন্তে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ভ্যাট গোয়েন্দার অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। ভ্যাট গোয়েন্দার ধারণা, কাস্টম হাউজে আন্ডার-ইনভয়েসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য খালাস করে ভ্যাট কর্তৃপক্ষের কাছে কম মূল্য সংযোজন ঘোষণা করেছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ ভ্যাট রাজস্ব হারিয়েছে।