শিশু ইয়াছিনের ওপর মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্মমতা|280192|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ মার্চ, ২০২১ ২১:৫৭
শিশু ইয়াছিনের ওপর মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্মমতা
গাজীপুর প্রতিনিধি

শিশু ইয়াছিনের ওপর মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্মমতা

ছোট্ট শিশু ইয়াছিন, বয়স মাত্র সাত বছর। দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখত মুদি দোকানি বাবা মফিজুল ইসলাম ও গৃহিণী মা শারমিন আক্তারের সংসার। সন্তানকে শিক্ষিত মানুষ করার আশায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে শ্রীপুরে দাদির কাছে পাঠিয়ে দেন তারা। দাদি ভাড়া বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেওয়ায়, কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন ইয়াছিনের মা-বাবা।

কিন্তু সম্প্রতি মাদ্রাসা শিক্ষকের চাহিদামতো পড়ছিল না ইয়াছিন। পড়া জমা না দেওয়ার অজুহাতে ইয়াছিনকে বেত দিয়ে নির্মমভাবে কয়েক দফা মারধর করেন। মারধরে এখন সারা শরীরেই আঘাতের চিহ্ন শিশুটির। একপর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে বুধবার সকালে সে পালিয়ে চলে আসে দাদি ভাড়া বাড়িতে।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকার মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশুর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে। তার বাবা মফিজুল ইসলাম নিজ এলাকায় মুদির ব্যবসা পরিচালনা করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ওই মাদ্রাসার মুহতামিম। তার বাড়িও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার দাইরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম ফিরোজ রশিদ। শ্রীপুরের কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামে তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলে নিজ ভবনে মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা গড়ে তোলেন তিনি।

উক্ত মাদ্রাসায় নুরানি, নাজেরা ও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবার দিনভর ব্যস্ততার কারণে এক বছর আগে ইয়াসিনকে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি করা হয়। সম্প্রতি পড়ালেখার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সে পড়া দিতে পারছিল না। এর জেরে কয়েক দফা মারধর করা হয় তাকে। বুধবার সকালে হুজুরের মারধরের কারণে সে কান্নাকাটি করে, তার স্বজনের বাড়িতে চলে আসে।

শিশুর মা শারমিন আক্তার বলেন, এভাবে কোন মানুষ কোন পশুকেও মারতে পারে না। অথচ তার শিশু সন্তানকে মারধর করা হয়েছে। সন্তানকে লেখাপড়া করানোর জন্য এখানে দিয়েছিলাম, কিন্তু তা আর হলো না। হুজুরের বিচার তো আর আমরা করতে পারব না তাই এর বিচারের ভারটা আল্লাহর কাছেই দিয়েছি।

শিশুর বাবা মফিজুল হক বলেন, হুজুর ক্ষমা চেয়েছে, এর সঙ্গে স্থানীয়রাও আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে তাই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সে পড়া দিচ্ছিল না, তাই তাকে মারধর করেছি। কিন্তু বিষয়টা এত বড় হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা মোস্তারী বলেন, শিশুটিকে নিয়ে তার স্বজনরা দুপুরে আমার কার্যালয়ে এসেছিল। তাদের থানায় অভিযোগের পরামর্শ দিয়েছি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।