নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লিকেজে বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৬|281248|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ মার্চ, ২০২১ ১২:৫৪
নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লিকেজে বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৬
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লিকেজে বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ছয় তলা বাড়ির ষষ্ঠ তলায় গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন লেগে শিশুসহ একই পরিবারের ছয়জন দগ্ধ হয়েছেন।

দগ্ধদের গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে বারোটায় ফতুল্লা থানার মাসদাইর পতেংগার মোড় এলাকায় নাসরিন আক্তারের মালিকানাধীন ছয়তলা বাড়ি হাজী ভিলার ষষ্ঠ তলার ভাড়াটে বাসিন্দার ফ্ল্যটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

দগ্ধরা হলেন- পোশাক কারখনারা শ্রমিক মো. মিশাল (২৬), তার স্ত্রী মিতা বেগম (২৩) মেয়ে আফসানা আক্তার (৪), দেড় বছরের শিশু মিনহাজ, মিশালের দুই শ্যালক হোসিয়ারি শ্রমিক মো. মাহফুজ ও সাব্বির হোসেন (১৫)।

এক মাস আগে পরিবারটি ষষ্ঠ তলায় তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্বজনরা জানান, গ্যাসের চুলার লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে ওই ফ্ল্যটের বিভিন্ন রুমে তা জমাট বাঁধতে থাকে। রাতে খাওয়ার পর পরিবারের কেউ সিগারেট অথবা মশার কয়েল জ্বালানোর উদ্দেশ্যে আগুন জ্বালালে মুহূর্তের মধ্যে ঘরে আগুন ধরে যায় এবং অন্যান্য রুমে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পরিবারের ছয়জন দগ্ধ হন। তাদের ডাক চিৎকারে বাড়ির অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা এসে আগুন নেভানোসহ দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়।

নারায়ণগঞ্জ শহরের মন্ডলপাড়া ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, আগুনের খবর পেয়ে মন্ডলপাড়া ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয়রা।

আগুনে ওই ফ্ল্যাটের অধিকাংশ আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার পরির্দশক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণে ওই ফ্ল্যাটের তিনটি কক্ষের দরজা, জানালা ভেঙে গেছে, সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তবে রান্নাঘর মোটামুটি অক্ষত অবস্থায় ছিল। সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সিলিন্ডারের গ্যাসই অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, আগুনে দেড় বছরের শিশু মিনহাজের শরীরের ৫০ শতাংশ, আফসানা আক্তারের ২০ শতাংশ ও মিতা বেগমের শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। “তাদেরকে প্রথমে আমাদের এখানে আনা হলেও পরে শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। আর ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনজনকে সরাসরি শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়।