টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসে বছরের সর্বনিম্ন লেনদেনের মুখে ডিএসই|284654|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০২১ ১৪:০৯
টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসে বছরের সর্বনিম্ন লেনদেনের মুখে ডিএসই
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসে বছরের সর্বনিম্ন লেনদেনের মুখে ডিএসই

মার্জিন ঋণের সুদহার বেঁধে দেওয়া, বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ সীমা বেঁধে দেওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত দুই মাস ধরেই অস্থিরতায় রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার।

গত সপ্তাহের দরপতনের পর রবিবারও সূচকের পতন দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। তবে লেনদেন শুরুর আধ ঘণ্টায় হারানো মূল্যসূচক পুনরুদ্ধার হলেও শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ তলানিতেই রয়ে গেছে।

দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ২৫৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ। দিন শেষে এ লেনদেনের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকর নিচে থাকবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। আর এটি হলে, তা হবে চলতি বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন।

আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছিল ৪৮৮ কোটি টাকা। সেদিনের হিসাবে এটিও বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন।

মূলত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি, মার্জিন ঋণ বিতরণ কমে যাওয়াসহ বিনিয়োগকারীরা সাইড লাইনে ফিরে যাওয়ায় শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে লেনদেন কমে গেলেও ব্যাংক, বিমাসহ আর্থিক শেয়ারে কিছুটা উত্থান দেখা গেছে। পাশাপাশি দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারেও কিছুটা দর বাড়তে দেখা গেছে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত লেনদেনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের মতো আজও বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে। আর সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার কারণে মার্জিন ঋণ সমন্বয় করছে কিছু ব্রোকারেজ হাউস।

এমন পরিস্থিতিতে গত দুই মাসের অস্থিরতায় অধিকাংশ শেয়ার দর কমে গেলেও পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাব রয়েছে। অধিকাংশ ক্রেতা এখনো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিসেম্বর হিসাব বছর শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যেই বেশকিছু ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। বিমাসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও লভ্যাংশ ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই বাজারে লেনদেনে ধীরগতি থাকলেও সেব কোম্পানির শেয়ারে কিছুটা আগ্রহ দেখা গেছে।

দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর বেড়েছে, ১২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে ও কমেছে ৫টির দর। এর মধ্যে দুর্বল মৌলভিত্তির আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮টির দর বেড়েছে, অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টির ও কমেছে ৫টির দর।

আজ সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বিমা খাতের। এ খাতের ৪৯ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৩১টির, যার প্রায় সবগুলো সাধারণ বিমা খাতের। অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির, যেগুলোর বেশিরভাগ জীবন বিমা খাতের কোম্পানি। এসব কোম্পানির শেয়ার দর দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে।

দেড়টা পর্যন্ত ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া সিকিউরিটিজগুলোর মধ্যে ১২৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩৭টির দর।

এ সময় পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৮ পয়েন্ট। অবশ্য এ সময়ে সেরা কোম্পানি নিয়ে তৈরি সূচক ডিএস৩০ আগের দিনের তুলনায় সামান্য কমেছে। অবশ্য প্রধান মূল্য সূচকে কিছুটা বাড়তি পয়েন্ট যোগ হলেও লেনদেন পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।