গাজীপুরে পুলিশ হেফাজত সংঘর্ষে আহত ২০|285569|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি
গাজীপুরে পুলিশ হেফাজত সংঘর্ষে আহত ২০
বায়তুল মোকাররমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ
রূপান্তর ডেস্ক

গাজীপুরে পুলিশ হেফাজত সংঘর্ষে আহত ২০

            

 

 

রূপান্তর ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের গতকাল শুক্রবারের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয়েছে। তবে গাজীপুরে হেফাজত নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও হেফাজতকর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে হেফাজত নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গতকাল জুমার নামাজের পর গাজীপুর নগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, হেফাজতে ইসলামের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ

পৃষ্ঠা ১১ কলাম ৩ >

 

 

গাজীপুরে পুলিশ হেফাজত সংঘর্ষে আহত ২০

হিসেবে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল সহকারে ‘মুসল্লি’রা চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হয়। পরে তারা মিছিল সহকারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের মাঠের মধ্যেই সমাবেশ করার অনুরোধ করে। এ সময় হেফাজত নেতাকর্মীরা ও ‘মুসল্লি’রা ঈদগাহ মাঠের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর হেফাজতকর্মী ও মুসল্লিরা চান্দনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। জবাবে হেফাজতকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এসময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হেফাজত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন হেফাজতকর্মী আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলামের অন্তত ২০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আধাঘণ্টা ধরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি জাকির হাসান বলেন, হেফাজতকর্মীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তাদের মহাসড়ক ছেড়ে যেতে বললে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ শতাধিক টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইটপাটকেলে কমপক্ষে ৮ জন পুলিশ আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে দুপুরে জুমার নামাজের পর মহানগরীর বোর্ড বাজারে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় কয়েক হাজার মুসল্লি ঢাকা-ময়মনসিংহ সহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়।

রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ : বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে গতকাল হেফাজতে ইসলামের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয়েছে। জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। সমাবেশে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব।

পূর্বঘোষিত এ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররমের চারপাশে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেয়। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। মসজিদের উত্তর গেটেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের বিক্ষোভ। 

এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে তারা কর্মসূচি পালন করেছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে ছিলাম। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

হাটহাজারীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ : পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ-সমাবেশের অংশ হিসেবে হাটহাজারী উপজেলায় হেফাজতের ব্যবস্থাপনায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘এই দেশ মুসলিম প্রধান দেশ। এদেশের পুলিশ গুলি করে নিরীহ মুসলমান হত্যা করবে, এটি বরদাশত করা যায় না। খুনি কর্মকর্তাদের তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।  আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালিয়ে চরম ব্যর্থতা ও বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে।’

নিহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের বর্বরোচিত হামলায় যারা শহিদ হয়েছেন তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং যে ৩৬ জনের নামে মামলা হয়েছে তা সহ হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে করতে হবে।’

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা শোয়াইব জমিরীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় সহ অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মাওলানা জুনাইদ বিন ইয়াহইয়া।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সমমনা ইসলামী দল। গত ২৬ মার্চ জুমার নামাজ শেষে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় হেফাজত। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে আন্দোলনকারী, পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। হাটহাজারীতে মারা যায় ৪ হেফাজতকর্মী। এর প্রতিবাদে হরতালের ডাক দেয় হেফাজত। হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে সরকার সমর্থক ও পুলিশের সংঘর্ষে প্রাণ যায় আরও কিছু নেতাকর্মীর। এর প্রেক্ষিতে গতকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে হেফাজত।