বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতকে দুষলেন আওয়ামী লীগ নেতারা|286657|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৪২
সালথার হামলায় ৫ মামলা
বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতকে দুষলেন আওয়ামী লীগ নেতারা
ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতকে দুষলেন আওয়ামী লীগ নেতারা

ফরিদপুরের সালথায় সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের পরিকল্পনা রয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের স্থান পরিদর্শন করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা এমন মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সালথা উপজেলা পরিষদের এসে পৌঁছান নেতারা। প্রতিনিধি দলের উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক হোসেন, আব্দুর রহমান, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

এ ছাড়া ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে উপজেলা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে দলটি।

সমাবেশে বক্তরা হেফাজতে ইসলামকে এদেশের ‘নব্য রাজাকার’ উল্লেখ করে বলেন, সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতের সঙ্গে তাদের দোসর বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা জড়িত। এ দেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।

সালথা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রথান অতিথি কর্নেল ফারুক হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হবে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। নিরীহ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। আর জড়িতদের মধ্যে যদি আওয়ামী লীগের কেউও থাকে তাকেও যেন রেহাই দেওয়া না হয়’।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় একজন হেফাজত নেতা (মাওলানা আকরাম হোসেন) তিনি হেফাজত ও বিএনপি-জামায়াতের স্বার্থ রক্ষার জন্যই এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ হামলায় রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে। আমরা দেশের সব স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই’।

আওয়ামী লীগের কেন্দীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘যারা দেশের উন্নয়ন আর অগ্রগতি বিশ্বাস করে না তারাই এ হামলা চালিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে যারা এ হামলা চালিয়েছেন এবং নেপথ্যে যারা ছিল তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

আওয়ামী লীগ ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক, মির্জা আজম, ‘যারা দেশকে অশান্ত করতে চাইছে তারা স্বাধীনতা বিরোধী, মামুনুল হকদের পরিবার অতিতে দেশ স্বাধীনের বিরোধীতা করেছিল’।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, সহিংসতা ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো তিন-চার হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

তিনি বলেন, ওই মামলায় এখন পর্যন্ত আমরা ২৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি, আশা করছি অন্যদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পারব।

আরো ৪ মামলা: সালথায় সহিংসতার ঘটনায় মোট পাঁচ মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৭ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বৃহস্পতিবার এ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

যে পাঁচ মামলা করা হয়েছে, তাতে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ২৬১ জনের। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ জনকে।

নতুন যে চারটি মামলা হয়েছে, তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর। এ মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরেক মামলা করেছেন ইউএনওর গাড়িচালক মো. হাশমত আলী। তিনি ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করেছেন এবং ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

অপর মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস। এ মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৩ থেকে ৪ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

অপর মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার। এ মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে তিন থেকে চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সালথা থানার এস আই (উপ পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন।

এ পর্যন্ত যে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে, তাতে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ২৬১ জনের। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ জনকে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা এসব তথ্য নিশ্চিত করে  জানান, গ্রেপ্তার ২৮ জনের মধ্যে ১১ জনকে বুধবার ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার বাকি ১৫ জনকে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় করোনা মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি ফুকরা বাজারে যান। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। সেখানে এক ব্যক্তিকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে আসেন এবং সেখানে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাঠান। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত জনতা এসআই মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালান। এতে তার মাথা ফেটে যায়।

পরে স্থানীয় জনতা পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও বাহিরদিয়া মাদরাসার মাওলানা আকরাম হোসেন এবং জনৈক আরেক মাওলানার গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে দেয়। গুজবে কান দিয়ে হাজারো মানুষ এসে থানা ঘেরাও করে। সেই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত এ পুলিশের আট সদস্যসহ আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন (২৫) ও মিরান মোল্যা (৩৫) নামের দুই যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।