লং কভিড : সেরে উঠেও শেষ হয় না যে করোনাযুদ্ধ|287821|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০
লং কভিড : সেরে উঠেও শেষ হয় না যে করোনাযুদ্ধ
আরফাতুন নাবিলা

লং কভিড : সেরে উঠেও শেষ হয় না যে করোনাযুদ্ধ

গত বছর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠলেও জটিল শারীরিক অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে এ বছর পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন পোস্ট কভিড সিনড্রোম। এ সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়, কাজেও ফিরতে পারেন না অনেকে। সুস্থ হওয়ার পরও কেন এ ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে? সিএনএন অবলম্বনে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

লং কভিড

গত বছরের মার্চ মাসে লন্ডনে করোনায় আক্রান্ত হন ২৬ বছর বয়সী লিথ হিশমি। সুস্থও হয়ে গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন নতুনভাবে যেহেতু আক্রান্ত হচ্ছেন না তবে করোনা জয় করেছেন। এক বছর পর তার বুকে ব্যথা শুরু হয়, কিন্তু বিষয়টিকে তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি। সাবেক দৌড়বিদ ছিলেন বলে মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতো। তাই ভাবলেন এবারও তেমন কিছুই হবে। এমনকি চিকিৎসক পর্যন্ত তাকে জানালেন করোনার কারণে তিনি অসুস্থ হননি। লিথ বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিলেন এসব শুধু আমার কল্পনা। আমি অতিরিক্ত চিন্তা করছি।’

মনিক জ্যাকসন নামে লন্ডনের অন্য একজন বাসিন্দারও ঠিক একই রকম বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তার এই ব্যথাকে চিকিৎসকরা শুধু দুশ্চিন্তা বলেছিলেন। ৩২ বছর বয়সী এই ইলাস্ট্রেটর বারবার চিকিৎসকের কাছে যেতেন। কিন্তু ঠিক কী সমস্যা হচ্ছে সে বিষয়ে কেউ ধারণা দিতে পারতেন না। ‘আমার বারবার মনে হচ্ছিল, আমি শুধু মানুষের সময় নষ্ট করছি। আমার কথা কেউ বিশ্বাস করতেন না। যে চিকিৎসক বিশ্বাস করলেন তারা আমাকে সরাসরি না বলে কিছুটা সহানুভূতি দেখালেন। বললেন, আমরা আসলে বুঝতে পারছি না তোমার কী হয়েছে। এটা নতুন কোনো রোগও হতে পারে। আমার খুব অস্বস্তি লাগত এ ধরনের কথাগুলো শুনে।’

এমন অসুস্থতা শুধু লিথ ও মনিকের সঙ্গে হয়েছে এমন নয়। করোনার দীর্ঘ প্রভাবে ভুগছেন অনেকেই। তারা দুজনে যখন জানতে পেরেছেন তাদের মতো আরও অনেকেই এমন অসুস্থতায় ভুগছেন, অন্তত এটুকু নিশ্চিত হলেন যে এই ব্যথা তারা কল্পনা করছেন না। তারা সত্যি সত্যিই অসুস্থ ছিলেন।

এই ব্যক্তিরা আসলে ভুগছিলেন পোস্ট-কভিড সিনড্রমে। যেটি এই মুহূর্তে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী শুধু যুক্তরাজ্যেই, প্রায় সাত লাখ মানুষ জানিয়েছেন করোনায় তিন মাস আগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর তাদের মধ্যে এ ধরনের লক্ষণ দেখা গিয়েছে। এই সংখ্যার বেশিরভাগ মানুষ জানিয়েছেন দিনে কাজ করার সময় ব্যথা উঠলেও দিন শেষে ব্যথা কমে যায়। ৭০ হাজার মানুষ জানিয়েছেন তাদের এ ধরনের লক্ষণ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে।

গত মাসে প্রকাশিত পৃথক আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কভিড-১৯ এর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০ জনের মধ্যে সাত জন অব্যাহতি পাওয়ার পাঁচ মাস পরও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি। সংখ্যাটা দেখে বেশি মনে হলেও যারা ইতিমধ্যে লং কভিডে ভুগছেন তাদের ও তাদের চিকিৎসকদের এ তথ্য মোটেও অবাক করছে না।

দীর্ঘমেয়াদে ভুগছে ১০ শতাংশ

লিডস ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট ক্লিনিক্যাল প্রফেসর ও কনসালটেন্ট ড. মনোজ শিভান ছিলেন প্রথম ফিজিশিয়ান যিনি গত বছর কভিডের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নিয়ে প্রথম লেখালেখি শুরু করেন। রিহ্যাবের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হওয়ায় তিনি আগে থেকেই সার্স ও মার্স বিষয়ে জানতেন। কারণ মহামারী সমাপ্ত হয়েছে এমন ঘোষণা দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছে। সে সময় তিনি যে লক্ষণগুলো দেখেছিলেন এবার করোনাভাইরাসে ঠিক একই লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন। ড. মনোজ বলেন, ‘কভিডে সংক্রমিত ব্যক্তিরা চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আশা করেন। ১০ থেকে ২০ শতাংশ ব্যক্তি অবশ্য এই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ১০ শতাংশের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর ঠিক এ সময়ই শুরু হয় সত্যিকারের সমস্যা। একেক রোগীর মধ্যে লক্ষণ একেক রকম হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে একই রকম হয়। প্রধান পাঁচটি সমস্যা হচ্ছে শ্বাসকষ্ট, ব্যথা, মস্তিষ্ক ধোঁয়াটে হওয়া ও মানসিক সমস্যা। অনেক রোগী ডাইসটোনোমিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষণও অনুভব করেন। এ সময় বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরানো, দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যাগুলো সাধারণত দেখা যায় স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতা হলে। অনেকের শরীরে আবার র‌্যাশ ওঠে, হাঁটুতে ব্যথা হয়, কারও শরীরে অ্যালার্জি হয়।’

লং কভিডের মূল সমস্যা হচ্ছে এতে বিভিন্ন উপসর্গ বিভিন্ন রকমের। কোনোটার সঙ্গে কোনোটার মিল নেই। আর এটাই মূলত জনগণের স্বাস্থ্যচিন্তাকে বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ড. মনোজ আরও বলেন, ‘বুকে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, অথবা হাইপারটেনশন বা ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা অবশ্যই বড়। তবে এই রোগগুলো জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত। এসব রোগের চিকিৎসা-খরচ কিছুটা বেশি হলেও কোন জায়গায় গেলে সঠিক চিকিৎসা মিলবে সেটাও আমাদের জানা। উচ্চ রক্তচাপের জন্য যদি নির্দিষ্ট একটি ওষুধ কাজ না করে তবে অন্য আরেকটি ওষুধ দেওয়া হয়। এমন রোগে ভুগছেন কি না অথবা কোন ওষুধ খেতে হবে তার জন্য নির্দিষ্ট ক্লিনিক থাকে। যে কারণে রোগ নিয়ে রোগী বা চিকিৎসক কাউকেই ভাবতে হয় না। কিন্তু লং কভিডের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়। এই রোগের জন্য প্রয়োজন প্রফেশনাল, বেশ কয়েকজনের একটি দল। অবশ্যই এটি তৈরি করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল।’

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস প্রায় ৭০টি লং কভিড ক্লিনিক তৈরি করেছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী চাহিদা আরও বেশি। মনিক জ্যাকসন বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান ছিলাম যে আমাকে বোঝার ও সাহায্য করার মতো চিকিৎসক সময়মতো খুঁজে পেয়েছিলাম। কিন্তু এ ধরনের ক্লিনিকের খোঁজ আমি পাইনি। আমার সুস্থ হওয়া বেশ ওঠানামা করত। প্রতি মাসে নতুন নতুন লক্ষণ দেখা দিত। মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ছিল, হাতের আঙুল নীল হয়ে যেত, মুখের ডান পাশ একদম অনুভূতিশূন্য হয়ে যেত, আবার ডান দিক ঠিক হলে বাম দিকে এমন হতো, স্নায়ুর সংবেদনশীলতা এত বেড়ে গিয়েছিল যে মনে হতো মাথার চুল শরীর থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পরিবারের কাছে ফিরে আসার পর আমি বেশি অসুস্থ হয়ে যাই। গরমের সময়েও আমি অনেকগুলো শীতের পোশাক পরে থাকতাম। বুকে ব্যথা আর ইনসমনিয়ার কারণে মাসের পর মাস আমি ঘুমাতে পারিনি। আমি যে শুধু ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম তা নয়, কীভাবে ঘুমাতে হয় তাই যেন আমি ভুলে যাচ্ছিলাম। রাতে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা ঘুমাতাম আমি।’ মনিকের শারীরিক লক্ষণগুলো খুব অদ্ভুত ছিল। তিনি সেগুলোকে প্রতিরোধও করতে পারছিলেন না। যার কারণে তার ঠিক কী করা উচিত সেই বিষয়েও বুঝতে পারছিলেন না। অনলাইনে তিনি নিয়মিত খোঁজ করতেন তার মতো সমস্যায় আর কেউ ভুগছে কি না জানতে। যখন তেমন কাউকে পেলেন না, নিজের অভিজ্ঞতাই লিখে রাখা শুরু করলেন ভিজ্যুয়াল ডায়েরিতে। ধীরে ধীরে তার মতো আরও কয়েকজনকে পেলেন। সবাই মিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ খুললেন। সবাই জানালেন তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা।

সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিষয়ের প্রফেসর ড. নিসরিন আলওয়ানের মতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন লং কভিডের রোগীরা একত্রিত হয়ে নিজেদের সম্পর্কে জানানো শুরু করে তখনই বোঝা যায় এই রোগ তার কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখতে যাচ্ছে। ‘অনেক মানুষ এ বিষয়গুলো সম্পর্কে এখন জানে। তাই বলা যায়, আমরা অবশ্যই এ মুহূর্তে খুব ভালো জায়গায় আছি। কারণ যত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানবেন তত এ সম্পর্কে মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে তারা আগ্রহী হবেন। অনেকে জানেন না বলে এখনো লং কভিডের প্রভাব বিশ্বাস করছেন না। কারণ বৈশ্বিকভাবে এখনো লং কভিড নিয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এই ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হচ্ছে, সমস্যাগুলো সম্পর্কে কে কথা বলছেন। যেমন, কভিড নিয়ে আগের বেশ কয়েকটি ঘটনা থেকে এবং অন্যান্য অসুস্থতার সময় দেখা গেছে নারীদের বা সংখ্যালঘু কোনো গোষ্ঠীর কেউ যদি এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তবে সেসব কথাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অদ্ভুত শোনালেও সাইকোলজিক্যাল এই বিষয়টি একরকম ঝুঁকি। সত্যি বলতে দুশ্চিন্তারও।’

হিশমি ও মনিক দুজনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এসব গ্রুপের সদস্যদের সমর্থন করেন। মনিক বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলেন, নিজের ব্লগে বিভিন্ন রেফারেন্সে পাওয়া লেখা শেয়ার করেন। ‘খড়হম ঈড়ারফ ঝঙঝ’ নামে একটি পরামর্শক গ্রুপ চালু করেছেন হিশমি। রোগীদের বিভিন্নভাবে সমর্থন দিতে, আরও গবেষণা করতে এবং লং কভিডে ভুগছেন এমন মানুষদের সহায়তা দেওয়ার জন্য এই গ্রুপ থেকে নিয়মিত ক্যাম্পেইন করা হয়।

মনিক বলেন, ‘অসুস্থ হওয়ার পর ১০ মাস পর্যন্ত আমি এক কোনায় বসে থাকতাম। যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো অনুভূত না হতো ততক্ষণ সেখান থেকে নড়তাম না। ভ্যাক্সিন নেওয়ার পর থেকে এসব লক্ষণ ধীরে ধীরে কমে আসে। এখনো কেন এসব সমস্যা হচ্ছে অথবা কতদিনে রোগীদের অবস্থার উন্নতি হতে পারে সে সম্পর্কে বিজ্ঞান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু না জানালেও লং কভিড থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দ্বিতীয় মহামারী

বিশ্বজুড়ে ১৩৩ মিলিয়ন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না ঠিক কত মানুষ লং কভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ‘দ্বিতীয় মহামারী’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য চিকিৎসক ও লং কভিডে আক্রান্ত হওয়া ড. ক্লেরি রেনার বলেন, ‘লং কভিডে আক্রান্তের সংখ্যা প্রচুর। যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে একের পর এক এ সমস্যা দেখা যাচ্ছে, আমরা জীবন বাঁচাতে একরকম যুদ্ধ করে চলেছি। তাহলে যেসব দেশে সুযোগ সুবিধা কম, তাদের অবস্থা কতটা করুণ সেটা ধারণাই করা যায়। সেসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যাও হয়তো কেউ জানে না। কাজেই এখনো আমরা জানি না বিশ্বজুড়ে ঠিক কত মানুষ লং কভিডে আক্রান্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছে।’

এই মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন এমন তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন দীর্ঘস্থায়ী মানসিক বা স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছেন। ড. রেনার ভাবছেন যেভাবে লং কভিড প্রভাব রেখে চলেছে, এতে মানুষের কাজে ফিরতে বেশ কষ্ট হবে। কারণ লং কভিডের কারণে অনেকেই ঘটনা মনে রাখা, কথা বলার মতো সমস্যা, মনোযোগ ধরে রাখা, পড়া অথবা কোনো পরিকল্পনা করার মতো সমস্যায় ভুগছেন। ‘এই এক বছরে অসংখ্য মানুষ লং কভিডে ভুগেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। সুস্থভাবে কাজ করতে করতেই তারা এক সময় আর কাজ করতে পারবেন না। যদি ভালো অনুভবও করে, কিছুদিন পর আবারও মস্তিষ্কের বা শরীরের কোনো না কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটবেই।’

ড. রেনারের ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মিলে যাচ্ছে হিশমির সব লক্ষণ। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই তিনি আর কাজে ফিরতে পারছেন না। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তিনি কাজ করতেন। তার মূল কাজ চিন্তা করা। কারণ চিন্তা থেকেই নতুন নতুন কাজ আসবে। কিন্তু লং কভিডের কারণে চিন্তার জগৎ থেকে তিনি একরকম দূরে সরে গেছেন। তিনি কাজে ফিরতে চান। পারছেন না কোনোভাবেই। ‘আমার বয়স মাত্র ২৭। গত কয়েক বছরে কাজের স্বর্ণযুগ পার করেছি আমি। কিন্তু এখন আর পারছি না। আমি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। আমার মস্তিষ্ক কাজ করে না। এভাবে টিকে থাকা যায় না। আমি আবার কাজে ফিরতে চাই।’