বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ|288933|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০
বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ
সাইফুর রহমান মিরণ, বরিশাল

বরিশালে ডায়রিয়ার প্রকোপ

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় হিমশিম অবস্থার মধ্যেই বরিশালে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার নিয়েছে। হঠাৎই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ডের শয্যায় ঠাঁই মিলছে না। ফলে অনেক ডায়রিয়া রোগীকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও গাছতলায় ঘাসের ওপর শুয়েও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি মাঝে মাঝে হাসপাতালের বাইরে ভ্যানে শুইয়েও চলছে চিকিৎসাসেবা।

এদিকে হাসপাতালে জায়গা সংকটের সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়ার চিকিৎসার স্যালাইনেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে যথাযথ সেবা যেমন মিলছে না, তেমনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরসহ বরিশাল জেলা ও বিভাগের হাসপাতালগুলোর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রতিদিন রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগে চলতি বছর এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ১১৪ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল বুধবার বরিশাল মহানগরের জেনারেল হাসপাতলে নতুন করে ২৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে সেখানে ৬২ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বরিশাল সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড রোগীতে ঠাঁসা। ওয়ার্ডে জায়গা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় কর্র্তৃপক্ষ ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল চত্বরে প্যান্ডেল নির্মাণ করে দিয়েছে। তবে সেই প্যান্ডেলের ভেতরের শয্যা ছাড়িয়ে মাটিতে ঘাসের ওপর বিছানা পেতেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাইরে গাছতলাতে কিংবা রিকশাভ্যানের ওপরও রোগীদের রাখতে দেখা গেছে।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স অর্চনা রানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ (গতকাল বুধবার) সকাল থেকে নতুন করে ২৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। রোগী আসা বন্ধ হচ্ছে না। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর জন্য মাত্র ৪টি বেড বরাদ্দ আছে। অথচ রোগী আছে ৬২জন। কর্র্তৃপক্ষ চাপ সামাল দিতে ২৪টি নতুন বেড দিয়েছে। পরে প্যান্ডেল নির্মাণ করে সেখানেও অনেকগুলো বেড দেওয়া হয়েছে।’

স্যালাইন সংকটের কথা অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘একজন রোগীকে ২-৪টা পর্যন্ত আইভি স্যালাইন দেওয়া যায়, কিন্তু তার বেশি প্রয়োজন হলে তা সম্ভব হয় না।’ তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, কেউ সর্বোচ্চ ১টার বেশি আইভি স্যালাইন পাচ্ছেন না। আর রাতের বেলা ভর্তি হওয়া রোগীরা একটা স্যালাইনও পাচ্ছেন না।

আমিনুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, গত সোমবার সন্ধ্যার পর তার রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর চিকিৎসাসেবা তাৎক্ষণিক শুরু হলেও আইভি স্যালাইন সরকারিভাবে হাসপাতাল থেকে না পাওয়ায় বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। ৯২ টাকা দামের একটি স্যালাইন হাসপাতালের সামনের ওষুধের দোকান থেকে ১২০ টাকায় কিনে আনেন তিনি।

আরেক রোগীর স্বজন সোহেল বলেন, তার রোগী ভর্তির পর প্রথম স্যালাইনটি পেয়েছেন, এর পরেরগুলো বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা গরম। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ভেতরে কোনো জায়গা না থাকায় বাইরে খোলা জায়গায় প্যান্ডেলের নিচে রোগীরা প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল সদর (জেনারেল) হাসপাতালের আরপি ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘একটু পরপরই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। অথচ মহিলা ও পুরুষ মিলে মাত্র ৪ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড। সেখানে ২৪টি নতুন বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনাসহ সব কিছুতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় প্যান্ডেল করে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনে আরও বেড দেওয়া হয়েছে। তারপরও রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রকোপ কেবল বরিশাল সদরেই নয়। গত প্রায় ১ মাস ধরে গোটা বিভাগে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে উদ্বিগ্ন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগও।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার ১১৪। সবথেকে বেশি আক্রান্ত জেলা ভোলা। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসের আবহাওয়া অত্যধিক গরম হওয়ায় খাবার থেকে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে।