শিশু মিমের পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই|291058|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ মে, ২০২১ ০০:০০
শিশু মিমের পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই
সুমন্ত চক্রবর্ত্তী, খুলনা এবং ছগির হোসেন, শরীয়তপুর

শিশু মিমের পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই

‘দাদিকে (মৃত) দেখার জন্য আমরা সবাই আসছিলাম দাদা বাড়ি। কিন্তু এখন বাবা-মা ও বোনেরা কেউ বেঁচে নেই। আমি এখন একা হয়ে গেলাম।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল ৯ বছরের শিশু মিম খাতুন। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ সে। গতকাল সোমবার সকালে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে একটি বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। এতে খুলনার তেরখাদা উপজেলার তেখাদা ইউনিয়ানের পারোখালী গ্রামের মনির হোসেন এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ওই পরিবারের মধ্যে বেঁচে আছে শুধু মিম।

দুর্ঘটনার পর জীবিত উদ্ধার হয় মিম। প্রথমে আহত অবস্থায় তাকে পাচ্চর রয়েল হাসপাতালে নেওয়া হয়। একটু সুস্থ হলে দোতরা স্কুলের মাঠে আনা হয় মিমকে। মা, বাবা, দুই বোন নেই জেনে তার কান্না আর থামছিল না। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান। তিনি লাশের সারি থেকে মিমের মাধ্যমে মনির, হেনা, সুমি ও রুমির লাশ শনাক্ত করেন।

সরেজমিন তেরখাদার পারোখালীতে দেখা যায়, সন্ধ্যায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছলে পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম। বাবা-মা ও ছোট দুই বোন হারিয়ে বাকরুদ্ধ মিম, শুধু ফ্যালফ্যাল করে সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে।

নিহত মনির হোসেনের ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামান জানান, তেরখাদা সদর ইউনিয়নের পারোখালী গ্রামের মনির শিকদার। চার ভাইবোনের মধ্যে মনির তৃতীয়। রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১১ মসজিদ মার্কেটে কাটা কাপড়ের দোকান। ওই এলাকার বাসিন্দাও তিনি। মনির শিকদার বাড়ি আসছিলেন মমতাময়ী মাকে শেষবারের মতো দেখতে। সঙ্গে ছিল স্ত্রী হেনা বেগম, বড় মেয়ে মিম, মেজো মেয়ে সুমি খাতুন (৭) ও ছোট মেয়ে রুমি খাতুন (৪)। কিন্তু মাকে শেষবারের মতো আর দেখা হলো না, নিজেই সপরিবারে চলে গেলেন মায়ের সঙ্গেই। পদ্মা নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেডের সঙ্গে যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সংঘর্ষে স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ মনিরের মৃত্যু হয়। প্রাণে বেঁচে আছে শুধু তাদের ৯ বছর বয়সী মেয়ে মিম খাতুন।

কামরুজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ভাই আসছিলেন। শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মিম ছাড়া আর সবাই মারা গেছে। মার কবর দেওয়া হয়েছে আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায়। তাদের (ভাই-ভাবি) লাশ সন্ধ্যার মধ্যেই পৌঁছে যাবে। গরমের সময় এবং সকালে মারা যাওয়ায় আশা করছি রাতেই কবর দেওয়া হবে। নিহতদের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থান আমার মায়ের পাশে সারিবদ্ধ করে দাফন করব বলে কবর তৈরি করেছি।’

তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এফএম অহিদুজ্জামান বলেন, ‘মাদারীপুরের শিবচরের ঘটনাস্থলে কথা বলেছি, তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ সরকারি তত্ত্বাবধায়নে আনার ব্যবস্থা করেছি। মায়ের লাশ দেখতে এসে লাশ হয়ে গেল পুরো পরিবারটি। সত্যি বড় হৃদয়বিদারক। ছোট মিমের জন্য বেশ কষ্ট লাগছে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের খরচে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে মিমসহ নিহত মনির, হেনা, সুমি ও রুমির মরদেহ তাদের নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।’