কর্মচারীদের বেতন-ভাতার দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ কর্মকর্তার|292339|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ মে, ২০২১ ০০:০০
কর্মচারীদের বেতন-ভাতার দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ কর্মকর্তার
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

কর্মচারীদের বেতন-ভাতার দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ কর্মকর্তার

কম্পিউটারের ‘আইবাস সিস্টেম’ ব্যবহারের মাধ্যমে জালিয়াতি করে রেলওয়ের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটনের পর গত শনিবার ফয়সাল মাহমুদ নামে ওই কর্মকর্তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইবাস সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ফয়সাল স্বীকার করলেও এখনো পর্যন্ত সে কত টাকা লোপাট করেছে সেটি জানা যায়নি। তবে শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই রেলকর্মীদের নামে বেতনভাতা তৈরি করে ফয়সাল তার অ্যাকাউন্টে ৪৩ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে আরও অন্তত কোটি টাকা সে লোপাট করেছে বলে ধারণা করছে রেলওয়ের অর্থ বিভাগ। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফয়সালকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত ফয়সাল মাহমুদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায়। তার বাবা মো. লুৎফর রহমান রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। ২০১৮ সালে ওই পদে থাকা অবস্থায় রাজশাহী থেকে অবসরে যান তিনি। ফয়সাল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনিতে রেলওয়ে কোয়ার্টারে থাকেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গত বছর ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৭ দিন যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রেলওয়ে স্টেশনগুলোর আয় শূন্যের কোটায় নেমে এলে কর্মীদের বেতনভাতা প্রদান কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। ওই সময় কর্মীদের বেতন পৌঁছে দিতে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালানোর কারণেও সমালোচনার মুখে পড়ে রেলওয়ে। মূলত এরপর থেকেই রেলের বেতনভাতা প্রদান কার্যক্রম ডিজিটাল করার চলমান প্রক্রিয়া গতি পায়। রেলওয়ের হিসাব ও অডিট বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের বাছাই করা কর্মীদের অনলাইনে বেতনভাতা প্রদানের আইবাস সিস্টেমের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে রেলওয়ে। এ প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ফয়সাল রেলওয়ে কর্মীদের অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিস্টেমে জালিয়াতির মাধ্যমে রেলওয়ের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সালকে প্রথমে আরএনবির হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে গত রবিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলশী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’

রেলওয়ের হিসাব বিভাগের তথ্যমতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ইএফটিতে রেলওয়ে কর্মীদের বেতনভাতা পরিশোধের প্রয়োজনে গত বছর সেপ্টেম্বরে ফয়সাল মাহমুদকে এককভাবে অডিট বিভাগ থেকে ঢাকায় প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। এরপর চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে একজন অডিটর, একজন হিসাব কর্মকর্তা ও দুজন জুনিয়র অডিটরকে একই বিষয়ে প্রশিক্ষণে পাঠায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যদিও এর আগে ডিসেম্বর মাসেই রেলকর্মীদের নামে বেতনভাতা তৈরি করে ফয়সালের অ্যাকাউন্টে ৪৩ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পায় রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম-চট্টগ্রাম) তারেক মোহাম্মদ শামস তুষার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঊর্ধ্বতনদের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রেলের একজন কর্মকর্তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফয়সাল মাহমুদকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে সে আইবাস সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করলেও এখনো পর্যন্ত কত টাকা লোপাট করেছে সেটি নির্ণয় করা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানা যাবে। এছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব আইনে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’