প্রতিশোধে জান্তা নিচ্ছে অঙ্গ|292356|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ মে, ২০২১ ০০:০০
প্রতিশোধে জান্তা নিচ্ছে অঙ্গ
রূপান্তর ডেস্ক

প্রতিশোধে জান্তা নিচ্ছে অঙ্গ

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আন্দোলন করছিলেন কবি খেত থি। আন্দোলনরত অবস্থায় কিছুদিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল মিয়ানমারের পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে বন্দি করে রাখা হয় বেশ কয়েক দিন। বন্দি থাকা অবস্থাতেই খেত থি’র মৃত্যু হয়। বিখ্যাত এই কবির মরদেহ যখন তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়, তখন তার স্বজনরা দেখতে পান, খেতের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জান্তা সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

৪৫ বছর বয়সী এই কবির শেষের কবিতার লাইনগুলো ছিল এমনÑ ‘তারা মাথায় গুলি করছে, কিন্তু তারা জানে না বিপ্লব থাকে হৃদয়ের অন্তস্তলে।’ ক্যু হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে তিনি লিখেছিলেনÑ ‘আমি নায়ক হতে চাই না। আমি শহীদও হতে চাই না। আমি দুর্বল হতে চাই না, আমি বোকাও হতে চাই না। আমি অন্যায্যতাকে সমর্থন দিতে চাই না। বেঁচে থাকার জন্য যদি এক মিনিট সময়ও থাকে, তবু চাইব আমার বিবেকটি যেন সেই মিনিটের জন্য পরিষ্কার থাকে।’

খেতের স্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, গত শনিবার সশস্ত্র সেনারা তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল শেয়োবো শহরে। খেতের স্ত্রী চাও সু বলেন, ‘আমার ওপর অত্যাচার চালানো হয়। তাকেও (খেত) নির্যাতন করা হয়। তারা (সেনাবাহিনী) জানিয়েছে যে, খেতকে বন্দি শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু সে আর ফিরে আসেনি, এসেছে তার মরদেহ। সকালের দিকে আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয় আমি যেন মনায়া হাসপাতালে যাই। আমি ভেবেছিলাম হয়ত হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, দেখতে পাই খেতের শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তুলে নেওয়া হয়েছে।’

হাসপাতালের পক্ষ থেকে চাও সুকে বলা হয়, তার স্বামীর হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল। কিন্তু তিনি নিশ্চিত যে, হাসপাতালের দেওয়া ব্যাখ্যা ঠিক নয়। অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স গ্রুপের মতে, কবি খেতকে বন্দি শিবিরেই হত্যা করা হয়েছে।

মিয়ানমারে গত ১০০ দিনে এ নিয়ে তৃতীয় কবিকে হত্যা করা হলো। মার্চের শুরুতে গুলি করে হত্যা করা হয় কে জা উইনকে (৩৯)। জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই দেশটির সংস্কৃতিকর্মীরা সেনাবাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। অনেক

সংস্কৃতিকর্মীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কিছুদিন আগে ২৫ হাজার কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হলেও সেখানে ছিলেন না কোনো সংস্কৃতিকর্মী।