বার্সেলোনা-আতলেতিকোকে সুযোগ ফিরিয়ে দিল রিয়াল|292368|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ মে, ২০২১ ০০:০০
বার্সেলোনা-আতলেতিকোকে সুযোগ ফিরিয়ে দিল রিয়াল
ক্রীড়া ডেস্ক

বার্সেলোনা-আতলেতিকোকে সুযোগ ফিরিয়ে দিল রিয়াল

আগের দিন বার্সেলোনা-আতলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের মধ্যে ম্যাচ ড্র করে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগা শিরোপা লড়াইয়ে সুযোগ করে দিয়েছিল। ২৪ ঘণ্টা পর সেভিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে রিয়াল সুযোগ করে দিল বার্সা-আতলেতিকোকে।

ম্যাচটি জিতলেই শীর্ষে উঠে যেত রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু উল্টো জেগেছিল হারের শঙ্কা। শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে লস ব্লাঙ্কোসরা। ফলে ৩৫ ম্যাচ শেষে ৭৫ পয়েন্টে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে দুইয়ে রিয়াল, সমান পয়েন্টে তিনে বার্সা। ৭৭ পয়েন্টে শীর্ষেই আছে আতলেতিকো। 

মুখোমুখি লড়াইয়ে রিয়াল আতলেতিকো ও বার্সা দু’দলের সঙ্গেই এগিয়ে। ফলে মৌসুম শেষে এ দু’দলের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও লিগ জিতবে রিয়াল। রবিবার যদি রিয়াল ম্যাচ জিতত তবে আতলেতিকোর সমান ৭৭ পয়েন্ট হতো তাদের। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১২ মিনিটের সময় বল সেভিয়ার জালে পাঠিয়েছিল রিয়াল। রাইটব্যাক আলভারো ওদ্রিওসোলার ক্রসে হেডে বল জালে জড়ান করিম বেনজেমা। কিন্তু এ সময় অফসাইডে ছিলেন ওদ্রিওসোলা। ফলে গোলটি ভিএআরে বাতিল করে দেন রেফারি। উল্টো ২২ মিনিটের সময় পিছিয়ে যায় রিয়াল। সেভিয়ার হয়ে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফার্নান্দো রেগেস।

৬৭ মিনিটে টনি ক্রুসের পাস থেকে আসেনসিওর গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন বার্সেলোনা থেকে সেভিয়ায় ফেরা ইভান রাকিতিচ। ওই পেনাল্টি নিয়ে বেশ নাটক হয়। যা নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সময়েও ক্ষোভ প্রকাশ করনে রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান। ঘটনা ছিল এমন ৭৫ মিনিটের সময় সেভিয়ার কর্নার ঠেকিয়ে পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন বেনজেমা। এ সময় তাকে ফাউল করেন বোনো। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ভিএআরে দেখে পাল্টে যায় সিদ্ধান্ত। পেনাল্টি পায় সেভিয়া। প্রশ্ন জাগতে পারে কেন? সেভিয়ার যে কর্নার থেকে পাল্টা আক্রমণে উঠে মাদ্রিদ পেনাল্টি পেয়েছিল, সেটির শুরুতে নিজেদের বক্সে কর্নার ঠেকানোর সময় বল লেগেছিল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার মিলিতাওয়ের হাতে। তাতে পেনাল্টি পায় সেভিয়া।

পিছিয়ে থেকে গোলের খোঁজে থাকা রিয়াল বেশ কিছু আক্রমণ করলেও সফল হয়নি। জেগেছিল হারের শঙ্কা। ম্যাচের যোগ করা ছয় মিনিট সময়ের চতুর্থ মিনিটে টনি ক্রুস বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। তার শট বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা সতীর্থ ইডেন হ্যাজার্ডের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। গোলটি হয় হ্যাজার্ডের নামে। কিন্তু তাতে যে খুশিই হবে ক্রুস। ওই গোলেই ২-২ সমতা এনে মূল্যবান ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

ম্যাচের পর ভিএআরের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুভিস্টারকে জিদান বলেন, ‘খুব বেশি রাগ হচ্ছে। রেফারির সঙ্গে (ম্যাচের পর) কথা বলেছি, ব্যাখ্যা চেয়েছি। রেফারি আমাকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেটা আমি মানতে পারছি না। বিষয়টি অনেক প্যাঁচানো।’ তার মতে মিলিতাও’রটা পেনাল্টি হলে দ্বিতীয়ার্ধে হোরদানেরটাতেও পেনাল্টি পাওয়া উচিত রিয়ালের। ‘আমি কী ভাবছি, সেটা এরই মধ্যে বলেছি। তাদের আমাকে বোঝাতে হবে হ্যান্ডবলের নিয়মটা আসলে কী!’ ভিএআরের ওপর বিশ্বাস আছে কি না, এমন প্রশ্নে জিদান বলেন, ‘আমি ফুটবলে বিশ্বাস রাখি। আমি শুধু বলছি যে, আমি ম্যাচে দুটি হ্যান্ডবল দেখেছি, তারা শুধু আমাদেরটাতে হ্যান্ডবল ধরেছে।’ ম্যাচ ড্র হলেও খেলোয়াড়দের ওপর সন্তুষ্ট জিদান, ‘আমি কখনো রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করি না, কিন্তু আজ আমি ক্ষুব্ধ। তবে যা হওয়ার হয়েছে। এখন আমি যাই বলি, কিছুই আর পাল্টাবে না। দল যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ছিলাম অসাধারণ, আমাদের আরও বেশি কিছু প্রাপ্য ছিল।’ ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে শিষ্যদের সামনে তাকানোর পরামর্শ দিয়েছেন জিদান, ‘আমাদের সামনে তিনটা ফাইনাল। আমাদের চ্যাম্পিয়নস লিগের কথা ভুলে যেতে হবে। আমাদের সামনে যা আছে, সেদিকে এখন মনোযোগী হতে হবে।’