নির্ধারিত দিনে বেতন-বোনাস হয়নি অনেক পোশাক কারখানায় |292378|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ মে, ২০২১ ০০:০০
নির্ধারিত দিনে বেতন-বোনাস হয়নি অনেক পোশাক কারখানায়
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্ধারিত দিনে বেতন-বোনাস হয়নি অনেক পোশাক কারখানায়

২৭ রোজার (১০ মে) মধ্যে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের গত মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়ার নির্দেশনা ছিলো শ্রম মন্ত্রণালয়ের। তবে শ্রমিক নেতাদের দাবি পোশাক কারখানায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কারখানায় গতকাল সরকার নির্ধারিত দিনে বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়নি। অবশ্য আজ ও আগামীকালও পোশাক কারখানায় কাজ করবেন শ্রমিকরা। ফলে শেষ দিনে এসে বাদবাকি কারখানাগুলোর বেশিরভাগই বেতন ও বোনাস  দেবে। বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, গতকাল নাগাদ ৯০ শতাংশ কারখানা মে মাসের বেতন ও ৯২ শতাংশ কারখানা বোনাস পরিশোধ করেছে।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে  বেশিরভাগ কারখানার বেতন হয়ে যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ১২টি কারখানা নিয়ে। এ কারখানাগুলো করোনার আগে-পরে লোকসান দিয়ে বড্ড বেকায়দায় আছে বলে আমাদের জানিয়েছে। কোনো ব্যাংক তাদের অর্থায়ন করতে রাজি হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আশা করি সমস্যায় থাকা ১২টি কারখানা থেকে আরও কয়েকটি বেতন হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতার বিষয়ে বিজিএমইএ অত্যন্ত আন্তরিক। কারণ আমাদের কারখানার প্রাণ হচ্ছে শ্রমিকরা। তারা ভালো থাকলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও ভালো থাকবে। এজন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।  

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা আবারও সরকারের কাছে প্রণোদনার ঋণ চেয়েছেন। এর আগে গত বছর শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে স্বল্প সুদে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা দেয় সরকার।

কারখানা মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতন বোনাস ইস্যুতে এবার তেমন অসন্তোষ নেই। এবার অসন্তোষ দেখা দিয়েছে শ্রমিকদের ছুটি ইস্যুতে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন দিনের বেশি ছুটি দিতে চাচ্ছে না মালিকপক্ষ। অন্যদিকে শ্রমিকরা চাচ্ছে অতীতে বন্ধের দিনে কাজ করায় ঈদের সময়ে সাত থেকে ১০ দিন ছুটি । এই ইস্যুতে গতকাল গাজীপুর, আশুলিয়াসহ রাজধানীর কিছু এলাকায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। আশুলিয়ায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছে।

সম্প্রতি কারখানা মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় ১০ মে’র মধ্যে শ্রমিকের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। গতকাল শেষ দিনে শ্রমিক নেতা ও ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সাবেক মহাসচিব তৌহিদুর রহমান বলেন, সরকার নির্ধারিত দিনে অন্তত ২০ শতাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করেনি। অবশ্য এ কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো শ্রম অসন্তোষ না থাকলেও শ্রমিকের ছুটি ইস্যুতে অসন্তোষের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের প্র্যাকটিস হলো শ্রমিকরা বন্ধের দিনে বাড়তি কাজ করলে ওই ছুটি ঈদের সময় নেয়। কিন্তু এবার তিন দিনের বেশি ছুটি দিতে চাচ্ছে না মালিকপক্ষ। কেউ কেউ দিলেও মৌখিকভাবে দিচ্ছে। অর্থাৎ এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। গাজীপুর, আশুলিয়া, রাজধানীর মিরপুর এলাকার বেশকিছু কারখানায় অসন্তোষ হয়েছে। হা-মীম গ্রুপে পুলিশের গুলিতে ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, বড় কারখানাগুলো বেতন-বোনাস দিয়েছে। তবে মাঝারি ও ছোট আকারের কারখানাগুলোর অনেকেই  দেয়নি। আাগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) নাগাদ এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

বর্তমানে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত সচল কারখানা প্রায় দুই হাজার তিনশ। এই দুই সংগঠনের বাইরে আরও প্রায় এক হাজার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো নিয়মিত সচল থাকে, সে তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে নেই।