টাকা পাচার ও চোরাচালান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ|292380|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ মে, ২০২১ ০০:০০
এপিজির প্রতিবেদন
টাকা পাচার ও চোরাচালান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

টাকা পাচার ও চোরাচালান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি)। দেশ থেকে টাকা পাচার ও চোরাচালান বন্ধ করতে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, মানি চেঞ্জার্স কোম্পানিগুলোর বিদেশি শাখা বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করার সুপারিশ করেছে এপিজি। এ ছাড়া বিভিন্ন বন্দরসহ যেসব খাতে বড় বড় লেনদেন বা পণ্যের আদান-প্রদান হয়, যেসব স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তা নজরদারির আওতায় আনতে সুপারিশ করেছে তারা।

বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক কার্যক্রমে ওপর এপিজির তৈরি দ্বিতীয় ফলোআপ প্রতিবেদনে তারা এসব সুপারিশ করেছে। সম্প্রতি এপিজি থেকে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে ওই প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু খাতে বাংলাদেশে এখনো মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অর্থায়নের ঝুঁকি রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় তদারকির ব্যবস্থা আরও জোরদারের সুপারিশ করেছে তারা।

এবারের প্রতিবেদনে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক গৃহীত বেশ কিছু কার্যক্রমে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এপিজি।

এ বিষয়ে বিএফআইইউর কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ এপিজির মূল্যায়নে যে অবস্থানে উঠেছে তাতে আগামী পাঁচ-সাত বছর আর কোনোভাবে কালো তালিকায় পড়ার আশঙ্কা নেই। এর মধ্যে এপিজির চাহিদার ভিত্তিতে অন্যান্য কাঠামো ও সুপারভিশনগত দুর্বলতাগুলোর উন্নয়ন করা হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। এপিজি যেকোনো মাধ্যমে টাকা পাচার বন্ধ করতে জোরালো পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করেছে। এভাবে টাকা পাচার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়নের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, এপিজি এবারের প্রতিবেদনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, মানি চেঞ্জার্স কোম্পানিগুলোর বিদেশি শাখা বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করার সুপারিশ করেছে। বিএফআইইউর কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে বাংলাদেশি এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শাখা নেই। শুধু ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজের শাখা আছে। সেগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত তদারকি করে। ফলে এ সুপারিশ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাদের অন্য যেসব সুপারিশ রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চোরাচালানের ব্যাপারে এপিজি বরাবরই আপত্তি তুলে থাকে। এটি একক কোনো দেশের বিষয় নয়। এর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশও জড়িত। ফলে এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এপিজি মনে করে, চোরাচালানের মাধ্যমে যেসব পণ্য ও এর আড়ালে অর্থ লেনদেন হয়, সেগুলোর একটি অংশ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এখনো সব খাতে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় কাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করতে পারেনি। এ কারণে দুর্নীতি, চোরাচালান, প্রতারণা, সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে দেশের পুঁজিবাজার ও সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

বিশ্ব ব্যাপী মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাজ করে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন ট্রাস্কফোর্স (এফএটিএফ)। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই কার্যক্রম তদারকি করে এগমন্ট গ্রুপ। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে এসব কর্মকান্ড তদারকি করে এপিজি। বাংলাদেশ এই অঞ্চলের দেশ এপিজির তদারকির আওতায় রয়েছে।

এসব কাজে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন ট্রাস্কফোর্সের ৪০টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হয়। এপিজি সে বিষয়গুলোই তদারকি করে। এগুলোর মধ্যে আর্থিক ও পণ্য লেনদেনে তদারকি বাড়ানোর বিষয়গুলো রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ৬টি পুরোপুরি, ২৩টি ব্যাপকভাবে ও ১১টি আংশিকভাবে বাস্তবায়ন করেছে।