মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে সিমেন্ট খাত|292382|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ মে, ২০২১ ০০:০০
মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে সিমেন্ট খাত
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে সিমেন্ট খাত

টানা দুই বছর নানামুখী সংকটের পর মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে দেশের সিমেন্ট খাত। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ সিমেন্ট কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে। এক্ষেত্রে সিমেন্টের বিক্রি বৃদ্ধি প্রধান ভূমিকা রাখলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়েও মুনাফা প্রবৃদ্ধি ফিরেছে কোম্পানিগুলো। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

দুই বছর সংকটে থাকার পর চলতি বছর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে এসেছে সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে সিমেন্ট বিক্রিতে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে অধিগ্রহণ করা কোম্পানি আমিরাত সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের সিমেন্ট বিক্রির আয়ও বেড়েছে।

চলতি জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশের সিমেন্ট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৮২ কোটি টাকা। বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয়ও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে হাইডেলবার্গের মোট বিক্রির বিপরীতে উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৮২ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৮ শতাংশ। উৎপাদন ব্যয় শেষে চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় হয়েছে ৯৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১১ শতাংশ বেশি। এ সময় পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের এই সময়ে ছিল ১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

সুদবাবদ ব্যয়, মুনাফায় কর্মীর হিস্যা ও কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে হাইডেলবার্গসিমেন্টের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে কোম্পানিটি ১৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান করেছিল। আর ২০২০ সালে ৮ কোটি টাকা নিট লোকসান হলেও কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের আরেক বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের বাজারে নতুন পণ্য সংযোজনের মাধ্যমে মহামারীর মধ্যেও নিট বিক্রি বাড়াতে পেরেছে। বাজারে নতুন সিমেন্ট ও অ্যাগ্রিগেট ব্যবসার সংযোজনে ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির নিট বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এ সময় উৎপাদন ব্যয় ও সুদবাবদ খরচ কমে যাওয়ায় লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে।

সম্প্রতি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ‘হোলসিম ওয়াটার প্রটেক্ট’ নামে পানি প্রতিরোধী বিশেষ সিমেন্ট বাজারে এনেছে। নতুন সিমেন্ট ও অ্যাগ্রিগেট ব্যবসার সংযোজন কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। চলতি প্রথম প্রান্তিকে পণ্য বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় হয়েছে ৬৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ সময় উৎপাদন ব্যয়ও কমেছে। কমেছে সুদ ব্যয়ও। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফা হয়েছে ১০৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে ৯৮ শতাংশ।

চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মেঘনা সিমেন্ট মিলসের সিমেন্ট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে এই প্রবৃদ্ধি ২৮ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মেঘনা সিমেন্টের বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ২৮২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২২৫ কোটি টাকা। এ সময় পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪০ শতাংশ বেশি। পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোম্পানির পরিচালন মুনাফার বেশিরভাগই ব্যয় হয় ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটিকে ঋণের সুদবাবদ ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। এতে কর পরিশোধের পর মেঘনা সিমেন্টের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮১ লাখ টাকা।

চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সিমেন্ট বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় হয়েছে ৭৩৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৭৬ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর নিট মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।