তারকাদের ঈদ পরিকল্পনা|292400|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ মে, ২০২১ ০০:০০
তারকাদের ঈদ পরিকল্পনা

তারকাদের ঈদ পরিকল্পনা

গতবারের মতো এ বছরও ঈদের সময় চলছে লকডাউন। তাই সবাইকে ঘরবন্দি ঈদ কাটাতে হবে। এর মধ্যেও সবার ঈদ উদযাপন তো আর এক রকম হয় না। বিশেষ শোবিজ তারকারা নিজের মতো ঈদের আনন্দ খুঁজে নেন। কেমন কাটবে এবারের ঘরবন্দি ঈদ তা জানিয়েছেন শোবিজের জনপ্রিয় চার তরুণ তারকা

পরিবারের সঙ্গে আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া হবে

সিয়াম আহমেদ, চিত্রনায়ক

ছোট থেকেই বেশিরভাগ ঈদ বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকাতেই কেটেছে। আর এবার করোনার কারণে অন্য কোথাও বের হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। তবে এখনকার ঈদ আর দুই বছর আগের ঈদের মধ্যেও বেশ পার্থক্য ছিল আমার ক্ষেত্রে। কারণ, তখন ছিলাম অবিবাহিত, এখন বিবাহিত। নিজের বাড়ির আয়োজন আর শ^শুরবাড়ির দাওয়াত সমানতালে ব্যালেন্স করতে হয়। সমস্যা হয় যখন সিনেমার জন্য ওজন কমাতে হয়। এত এত মজার সব খাবার সামনে পেয়েও খেতে পারি না মন খুলে। সবটাই আসলে দর্শকের ভালোবাসা ও তাদের সঙ্গে ভালো কাজের কমিটমেন্টের জন্য। যাহোক, এবার ঈদে ঘরেই থাকব। সেটা কখনো নিজের বাড়ি, কখনো শ^শুরবাড়ি। এবার শপিং মলে গিয়ে শপিং করাটাকে আমরা সবাই মিলেই না বলেছি। কারণ এখন যে পরিস্থিতি দেশের তাতে জনসংযোগ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়। করোনামুক্ত পৃথিবী ফিরে পেলে আমরা সবাই অনেক শপিং করতে পারব, ঈদে অনেক আনন্দ করতে পারব। আর এখনকার একটু অসচেতনতার জন্য যদি আমাদের পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়, তাহলে সেটা হবে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার মতো। তাই আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই। ঘরে থেকেই খাওয়া-দাওয়া, পরিবারের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় স্বাস্থ্যকর সময় কাটাই। এই সময়টাই তো আমরা সব সময় পেতাম না। এখন যেহেতু পেয়েছি, তখন সময়টাকে কাছের মানুষের আরও কাছে যাওয়ার উপযুক্ত সুযোগ হতে পারে।

অন্যকে দেওয়ার মাঝেই শান্তি পাই

নুসরাত ফারিয়া, চিত্রনায়িকা

ছোটবেলায় ঈদ মানেই তো ছিল কী পোশাক কিনব, কীভাবে সাজব, কত টাকা সালামি পাব এসব। এখন আসলে সেগুলোতে মন নেই; বরং পরিবারের ছোটদের সালামি দিতেই বেশি ভালো লাগে। আমাদের যে পেশা তাতে প্রতিদিন নতুন জামাকাপড় পরতে হয়। অনেক সময় এত ভারী সাজ-পোশাকে দর্শক বা পর্দায় হাজির হতে হয় যে এসবের ওপর বিরক্ত হয়ে যাই। তাই যখন বাসায় থাকি, তখন আমি সবচেয়ে আরামদায়ক পোশাকটিই পরে থাকি। তাই এখন আর ঈদে নতুন জামা কেনার আগ্রহ পাই না। এর চেয়ে বরং পরিবারে যারা সারা বছর আমাদের কাজে হেল্প করে তাদের যদি একটা নতুন পোশাক দেওয়া যায় তারা যে কী খুশি হয়, সেটা আমি অনুভব করতে পারি তাদের চোখ-মুখ দেখে। আমার পরিবারে সব মিলিয়ে ১২-১৪ জন হেল্পিং হ্যান্ড আছেন। এবার ঈদে সবাইকে কাপড়-চোপড় কিনে দিয়েছি। জাকাতের বিষয়ে আমার বাবা-মা সব সময় খুব যতœবান। সেগুলোও ঠিকঠাক দেওয়া হয়েছে। এবার ঈদ ঘরবন্দি হলেও আবহাওয়া কিন্তু বেশ গরম। তাই একটি সুতি সালোয়ার-কামিজ পরেই ঈদের দিনটি কাটিয়ে দেব ভেবেছি। তবে যদি মন চায় তাহলে ভক্তদের জন্য ঈদের সাজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতে পারি।

গ্রামীণ পরিবেশে ঈদ করব

দিলশাদ নাহার কনা, সংগীতশিল্পী

আমি একটা সময় এতটা ব্যস্ত ছিলাম যে দাদাবাড়ি আসতেই পারতাম না সময়ের অভাবে। কিন্তু আমাদের পরিবারে পুরনো রেওয়াজ হলো কোরবানির ঈদ গ্রামের বাড়ি গাজীপুরেই করতে হবে সব চাচা-ফুফুকে। আমরা সারা বছর অপেক্ষা করতাম ঈদুল আজহার জন্য। কিন্তু করোনা গত দুই বছর তো সব হিসাব এলোমেলো করে দিয়েছে। এ জন্য এখন কিছুদিন পর পরই দেশ লকডাউনে চলে যাচ্ছে। আমিও লকডাউনে ঢাকার চার দেয়ালের মধ্যে বসে থাকার মানুষ না। লকডাউন ঘোষণা হলেই এক দিন আগে চলে আসি গাজীপুর। গত পহেলা বৈশাখও গাজীপুরে দাদাবাড়িতে কাটিয়েছি। এরপর গানের কাজে আবারও ঢাকা ফিরেছিলাম। এখন আবার ঈদের জন্য পুরো পরিবার সেখানে চলে যাব। আসলে গাজীপুরে করোনার যে মানসিক চাপ, সেটি অনেকটাই কম। অন্তত ঘরের বাইরে বেরোলেই জামাকাপড় সব ধোয়া, গোসল করা এসব ঝামেলা নেই। মাস্ক ছাড়া প্রাণ খুলে শ্বাস নেওয়া যায়। এমনিতেই আমাদের বাড়িটি প্রতিবেশী বাড়ি থেকে বেশ দূরে। তাই আরও আরাম করে থাকা যায়। এই গ্রামীণ পরিবেশটাই উপভোগ করব ঈদে।

গ্রামের ঈদ মিস করি

জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, মডেল ও অভিনেত্রী

অনেক বছর গ্রামের বাড়িতে ঈদ করা হয় না। এবারের ঈদও ঢাকাতে কাটাব। গ্রামে সামিয়া আপু আছে। তাকে ঈদে খুব মিস করব। সে আমার কাছে সব সময় খুব স্পেশাল মানুষ। সবাইকে বলব, আপনারা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গ্রামের দিকে ছুটবেন না। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাই মিলে সচেতন হতে হবে। ঘরে থেকেই যতটা পারুন আনন্দ করুন। টিভিতে নানা ধরনের মজার অনুষ্ঠান হবে, সেগুলো দেখতে পারেন।