ছয়বার গাড়ি বদল, হেঁটে ঢাকা থেকে চাঁদপুর, এরপর ট্রলারে মেঘনা পাড়ি|292625|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ মে, ২০২১ ১৯:১২
ছয়বার গাড়ি বদল, হেঁটে ঢাকা থেকে চাঁদপুর, এরপর ট্রলারে মেঘনা পাড়ি
চাঁদপুর প্রতিনিধি

ছয়বার গাড়ি বদল, হেঁটে ঢাকা থেকে চাঁদপুর, এরপর ট্রলারে মেঘনা পাড়ি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারা দেশে চলছে লকডাউন। এতে করে লঞ্চসহ সব দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে তাতে দমছেন না ঘরমুখো মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে চাঁদপুর থেকে পাড়ি দিচ্ছেন উত্তাল মেঘনা। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

যাত্রীরা বলছেন, ঝুঁকি আছে জেনেও পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদের সময়টা কাটাতেই এত কষ্ট সহ্য করা।

বুধবার ভোর থেকে চাঁদপুর বড়স্টেশন ঘাটে দেখে যায়, যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে পাড়ি দিচ্ছেন মেঘনা নদী।

শরীয়তপুর জেলার ফতেজংপুুর এলাকার বাসিন্দা শুক্কুর আলী বলেন, আমি ঢাকা গুলিস্তান থেকে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোরে রওনা দেই। ছয়বার গাড়ি বদল করে ও হেঁটে অবশেষে চাঁদপুর বড়স্টেশন পৌঁছাই বেল ৩টায়। এখান থেকে ট্রলারে করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে বাড়ি যাব পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে।

তিনি বলেন, রাস্তায় প্রতি কদমে কদমে ভোগান্তি। ঢাকা থেকে কিছু রাস্তা বাসে, কিছুটা পিকআপ ভ্যানে, পায়ে হেঁটে ও অটোরিকশায় অনেক ঝুঁকি নিয়ে এসেছি। এখন আবার মেঘনা পাড়ি দিতে হবে নৌকায় করে। সবক্ষেত্রে কয়েক গুণ বেশি টাকা দেওয়া লেগেছে। নদী এখন শান্ত থাকলেও খারাপ হতেও বেশি সময় লাগে না মেঘনার। এত কষ্টের পরও বাড়ি ফিরতে পারলে সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক যাত্রী মো.রাসেল বলেন, আমি শরীয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ যাচ্ছি। সব ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত কষ্ট ও ভোগান্তি স্বীকার করে যাওয়া লাগছে। আগে ট্রলার ভাড়া ৬০ টাকা থাকলেও এখন ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন। ঝুঁকি আছে যেনেও এই নদী পাড়ি দেওয়া লাগছে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায়।

চাঁদপুর বড় স্টেশন এলাকার নৌকার মাঝি মো. তাফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীদের শরীয়তপুরে ফেরিঘাট এলাকায় নামিয়ে দিচ্ছি। এ জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা মূলত পর্যটকদের নৌকা দিয়ে আশপাশের চরে ঘুরাই। কিন্তু এখন যাত্রীদের চাপ থাকায় যাত্রী বহন করছি। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি নৌকায় বয়া ও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করি।

চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, কোন নৌকা যেন অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এসব নৌকা মূলত আশপাশে এলাকায় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে, দূরে কোথাও যায় না।