মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি: চঞ্চল চৌধুরী|292704|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ মে, ২০২১ ১৯:৩২
মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি: চঞ্চল চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি: চঞ্চল চৌধুরী

জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী মা দিবসে ফেসবুকে নিজের মায়ের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেন। মা দিবসে ফেসবুকে মায়ের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে ধর্মীয় রোষানলে পড়েন চঞ্চল। প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায় ছবিতে তার মায়ের কপালে হিন্দুরীতি অনুসারে সিঁদুর লাগানো ছিল। আর তা দেখেই ওই ছবির কমেন্ট বক্সে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করে। কমেন্ট থেকে বোঝা যায়, অনেকেই এত দিন চঞ্চল চৌধুরীকে মুসলিম হিসেবে জেনে এসেছে। অনেকে চঞ্চল চৌধুরীকে মৃত্যুর আগে মুসলমান হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে। দু-একজন নেতিবাচক মন্তব্যও করেন। আর তা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিতর্ক।

এবার বিতর্ক নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন চঞ্চল চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চঞ্চল লেখেন, ‘আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল। এতে আমি শুধুই বিব্রত নই, সেই সঙ্গে মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি...এখন নিশ্চয়ই আমার পরিচয় নিয়ে কারও কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। ভবিষ্যতে নতুন করে আমার পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে ইনবক্স করলে ধন্য হবো। তবে পরিচয়ের নামে, এ রকম পরিস্থিতি কাম্য নয়।’

চঞ্চল বলেন, ‘গুটি কতক মানুষ যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন, ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোন অপরাধ? তাদের জন্য বলছি...অপরাধ নয়, এটা যেমন ঠিক, আবার বারবার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোন বাহাদুরি বা পৌরুষত্ব নেই।’

ভক্তদের উদ্দেশ্যে চঞ্চল বলেন, ‘বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে, আমার কাজ পছন্দ করে, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমার হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষ আমার মাকে মা ডেকেছেন, আমার পরিচিত জন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী সহ, দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন, আমি এ হেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি...তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।‘

অনেকেই গালি দিয়ে আবার কমেন্ট মুছেও ফেলেছিলেন, তাদের উদ্দেশে চঞ্চল বলেন, ‘সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও,পরবর্তীতে তাদের কমেন্ট গুলো ডিলিট করে দিয়েছেন, তাদের প্রতিও আমার ভালোবাসা রইলো। কারণ তারা একপর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতি টা বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে,অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেয়া গালি গুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অভিযোগ করেছেন,বলেছেন...কই আমার বিরুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি....এ নিয়েও আর কোন বিতর্কের দরকার নেই।’

সবশেষে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে চঞ্চল বলেন, ‘আপনাদের সবার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, এই বিষয়টাকে কেউ ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউই কাউকে অসম্মান করে কিছু লিখবেন না। পারলে গঠন মূলক কিছু লিখুন। সেটাই হবে সভ্য মানুষের কাজ। শুধু একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, যে পেশারই হোন না কেন, আপনার কর্ম দিয়ে দেশের জন্য কতটুকু মঙ্গল করছেন, সেটাই আসল কথা। সব ধর্মেই ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ রয়েছে। আমার মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম, সহনশীলতা, আর ধর্মীয় উদারতা দিয়ে হোক। আমাকে নিয়ে অতি:সত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক। আমার পরিচয়....আমি মানুষ, আমি বাংলাদেশি, আমি বাঙালি...আর ধর্ম পরিচয়টা প্রত্যেকের মতোই জন্মগত । এতে কারও কোন আপত্তি থাকলেও, আমার কোন সমস্যা নেই। আর সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন...সেটা হলো, আমি একজন শিল্পী...আমার কাছে হিন্দু,মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই সমান এবং আপন।’