‘গুম-খুনের শিকার’ ও করোনায় মারা যাওয়া নেতাকর্মীদের পাশে বিএনপি|292857|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ মে, ২০২১ ২০:১৮
‘গুম-খুনের শিকার’ ও করোনায় মারা যাওয়া নেতাকর্মীদের পাশে বিএনপি
রেজাউল করিম লাবলু

‘গুম-খুনের শিকার’ ও করোনায় মারা যাওয়া নেতাকর্মীদের পাশে বিএনপি

শফিউল বারী বাবুর বাসায় বরকত উল্লাহ বুলু।

‘গুম ও খুনের শিকার’ এবং করোনায় মারা যাওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ ছাড়া কারারুদ্ধ নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গেও ঈদ ও তার পর দিন শনিবার দেখা করেন তারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে জানান, তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে রবিবারও নেতাকর্মীদের বাসায় যাবেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।

শুক্রবার ঈদের দিন ও শনিবার এসব পরিবারের সদস্যদের বাসায় যান বিএনপি নেতারা। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ কর্মসূচি ঢাকাসহ সারাদেশে পালন করেন দলের নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুম ও খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবার যেন না ভাবে তারা একা। বরং সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা যে একই পরিবারের সদস্য সেটা বোঝাতে বিশেষ এ দিনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এমন আয়োজন। এবার কারাবন্দী নেতাদের পরিবারের সদস্যদের বাসায় গিয়ে তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা’।

তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে এসব পরিবারের সদস্যদের মাঝে দলের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছিল। যদিও সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার নেতাকর্মীদের ঈদের আনন্দ নেই গত এক যুগ ধরে’।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি দলের সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন নিজানকে নিয়ে ঈদের দিন কারারুদ্ধ বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি’।

যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি করোনায় মারা যাওয়া টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান বুলবুলের শহুরের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি’।

মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি খিলগাঁও ও শাহজাহানপুর এলাকায় গুম, খুনের শিকার নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়েছিলাম’।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু।

ঈদের দিন : করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় অবস্থানরত বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ঈদের দিন দেখতে গিয়েছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এরপর তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বনানীর বাড়িতে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা ঈদের দিন ঢাকায় ৭০/৮০ জন নেতাকর্মীর বাসায় গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন’।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বাসায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল আলম চৌধুরীর বাসায় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল্লাহ হাসানের বাসায় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নিখোঁজ তরিকুল ইসলাম ঝন্টুর বাসায় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চৌধুরী আলমের বাসায় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কারাবন্দি ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইছহাক সরকারের বাসায় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমন ও জাহেদুল করীম তানভীরের বাসায় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, জাকির হোসেন সিদ্দিকীর বাসায় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও নুরউদ্দিন জনি, মাহবুবুল হক সুজনের বাসায় মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, পুরনো ঢাকায় মো. সোহেল, সম্রাট মোল্লার বাসায় যান ঢাকা দক্ষিণে গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন’।