ডেমোক্র্যাটদের চাপে বাইডেন|292987|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ মে, ২০২১ ০০:০০
ডেমোক্র্যাটদের চাপে বাইডেন
রূপান্তর ডেস্ক

ডেমোক্র্যাটদের চাপে বাইডেন

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কম তুলাধুনা করেনি রিপাবলিকানরা। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা এড়িয়ে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও নগ্নভাবে ইসরায়েলের পক্ষ নিতে দেখা গেছে এবারের ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত ইস্যুতে। জো বাইডেন প্রথম ফোন দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে। তিনি আব্বাসকে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানো বন্ধ করতে বলেন। দ্বিতীয় ফোনে বাইডেন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, নিজেদের রক্ষায় ইসরায়েল হামলা চালাতেই পারে।

কিন্তু এমন কথা বলে নিজের দল ডেমোক্র্যাট পার্টির সমালোচনার তোপে পড়েছেন বাইডেন। অধিকাংশ ডেমোক্র্যাটই মনে করেন, জো বাইডেনের উচিত ছিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ নিয়ে বক্তব্য দেওয়া, যেহেতু বাইডেন তার নির্বাচনী প্রচারণায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এগিয়ে রেখেছিলেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যাদের অবস্থান অনেকটা উদারনৈতিক তারা বাইডেনের সমালোচনা করছেন। একই সঙ্গে তারা হোয়াইট হাউজের সমালোচনা করেও বলছেন যে, পূর্ব জেরুজালেম ইস্যুতে বাইডেনের উচিত হয়নি প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেওয়া।

এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার বাইডেন নিজ দলের উভয় সারির নেতাদের সঙ্গেই আলোচনায় বসেন। সেখানে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন ইসরায়েল ইস্যুতে ওয়াশিংটনের গভীর বোঝাপড়া রয়েছে। কিন্তু উদারপন্থি ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন, বাইডেন যাতে ইসরায়েল ইস্যু থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে আসেন। আর তাও না পারলে বাইডেন অন্তত জনসমক্ষে ইসরায়েলের সহিংসতার বিষয়টি স্বীকার করুক, এমনটা চাইছেন তারা।

সিনেটর আলেকজান্দ্রিয়া ওকাশিও কর্টেজ সম্প্রতি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই? বাইডেন প্রশাসন যদি তার এক মিত্রের পক্ষে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে কে দাঁড়াবে? কীভাবে তাহলে তারা (প্রশাসন) মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে দাঁড়াবে?’ মিশিগানের সিনেটর রাশিদা তালিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসরায়েল মিডিয়াকে টার্গেট করছে যাতে বিশ্ববাসী ইসরায়েলের বর্ণবাদী নেতার পরিচালিত যুদ্ধাপরাধ দেখতে না পারে।’ সিনেটর ক্রিস ভ্যান বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসন যদি মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে তার পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্র হিসেবে মনে করে, তাহলে এ পরিস্থিতি তার জন্য পরীক্ষার।’

ইতিমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় শুধু গাজাতেই ১৩০ নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছে। শহরগুলোতে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতি বেশিদিন চললে, তা আরও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।