রেমিট্যান্স আহরণে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ|293013|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ মে, ২০২১ ০০:০০
রেমিট্যান্স আহরণে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রেমিট্যান্স আহরণে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ

কভিড পরিস্থিতির মধ্যেও রেমিট্যান্স আহরণে এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ। ২০২০ সালের রেমিট্যান্স আহরণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ২০১৯ সালে এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির অবস্থান ছিল অষ্টম।

করোনা সংকটে সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলের দেশ নাইজেরিয়ার রেমিট্যান্স আহরণে বড় ধরনের ধস নামায় দেশটি শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশের তালিকা থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে অষ্টম অবস্থানে নেমে আসে। ফলে সপ্তম অবস্থানে থাকা পাকিস্তান এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে আসে। 

গত বুধবার বিশ্বব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন সংক্ষিপ্তসারে এই তথ্য তুলে ধরে।

অথচ গত বছর করোমা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স ২২ শতাংশ কমবে। বাংলাদেশে কমবে ২০ শতাংশ।

তবে সেই বিশ্বব্যাংক এখন তাদের পূর্বাভাস বদলেছে। চলতি ২০২১ সাল এবং আগামী ২০২২ সালেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি বলছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ২০২১ সালে রেমিট্যান্স ২.৬ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ২.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে কভিড-১৯ সংকটেও রেমিট্যান্স শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আর্থিক প্রণোদনা, নগদ টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন ও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো বৃদ্ধি পাওয়া, তেলের দাম এবং মুদ্রা বিনিময় হার স্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে ভারতে, ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন রেমিট্যান্স আহরণ করে ৬ হাজার কোটি ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মেক্সিকোর রেমিট্যান্স ছিল ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ফিলিপাইনের রেমিট্যান্স ছিল ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিসরের রেমিট্যান্স ছিল ৩ হাজার কোটি ডলার। ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের রেমিট্যান্স ছিল ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। সপ্তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার। এছাড়া অষ্টম অবস্থানে থাকা নাইজেরিয়ার রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। নবম অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার এবং ১০ম অবস্থানে থাকা ইউক্রেনের রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এই প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ প্রণোদনা যোগ করে মোট ৩ শতাংশ প্রণোদনা দেয় কোনো কোনো ব্যাংক। এর ফলে কভিড সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বাড়তে থাকে।

অথচ গত বছর কভিড পরিস্থিতিতে ২ লাখ ১৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফেরত আসে বলে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, গত বছরের জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৬টি দেশে অবস্থানরত ৭০ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী করোনায় আক্রান্ত হয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত মারা যায় ২ হাজার ৩৩০ জন।

আলোচিত সময়ে এই অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ ভারতের রেমিট্যান্স কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স আহরণ ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় ভারতের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। একই কারণে রেমিট্যান্স কমে যায় যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য রেমিট্যান্স আহরণকারীদেশগুলোর। এছাড়া নেপালের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সারা বিশ্বের রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশগুলো মোট ৭০ হাজার ২০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে। ২০১৯ সালের তুলনায় বৈশ্বিক রেমিট্যান্স আহরণ কমেছে ২.৪ শতাংশ।

এর মধ্যে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ৫৪ হাজার কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে। যা এর আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১.৬ শতাংশ কম। ২০১৯ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো ৫৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স আহরণ করেছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৪ শতাংশ। পাকিস্তানের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৮ শতাংশ।

এবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে অঞ্চলভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল। ওই অঞ্চলে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬.৫ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ২.৩ শতাংশ। অন্যদিকে পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে রেমিট্যান্স কমেছে ৭.৯ শতাংশ, ইউরোপ ও সেন্ট্রাল এশিয়ায় রেমিট্যান্স কমেছে ৯.৭ শতাংশ।

এছাড়া সাব-সাহারা আফ্রিকায় রেমিট্যান্স কমেছে ১২.৫ শতাংশ। কেবল নাইজেরিয়াতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৮ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণেই সাব-সাহারা আফ্রিকায় রেমিট্যান্সে বড় ধরনের ধস নামে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়। নাইজেরিয়াকে বাদ দিলে ওই অঞ্চলের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ২.৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমেছে

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, ২০২০ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমেছে। যা এসডিজির লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। এই লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ২০০ ডলার রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের খরচ করতে হয়েছে ৬.৮ শতাংশ অর্থ। অন্যদিকে, চতুর্থ প্রান্তিকে এই খরচ কমে ৬.৫ শতাংশে নেমে আসে।

রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ সবচেয়ে কম দক্ষিণ এশিয়ায়, ৪.৯ শতাংশ। যেখানে সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ৮.২ শতাংশ। রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ সবচেয়ে কম রাশিয়ায়, মাত্র ১ শতাংশ।

চলতি বছরেও দেশের রেমিট্যান্স আহরণে উচ্চ প্রবৃদ্ধি : চলতি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৭২ কোটি ডলার। যা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছিল ৫৪৬ কোটি ডলার।