সজল দে’র দুটি কবিতা|294980|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ মে, ২০২১ ১৪:৪০
সজল দে’র দুটি কবিতা

সজল দে’র দুটি কবিতা

সজল দে

কবি সজল দে কক্সবাজার জেলার রামুর বুকে বাঁকখালীর বাঁকে ২০ শ্রাবণ ১৩৮৫ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: আয়ুর খোলস (২০২১)। পেশায় তিনি দ্য টেরিটরিয়াল নিউজ’র সাব-এডিটর ও বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজারের ঘোষক।

 

তাঁতির চরকা

প্রায় আদিবাসী শূন্য; কলাঝিরি পর্বতচূড়ায়

শেষ বৈশাখের বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যাকাশের বুকে এখনো জেগে আছে

অস্তগামী চিকন কাস্তের মতো ঈদের চাঁদ।

আরও দূর পাহাড় থেকে

ভেসে আসা হিল্লোল বাঁশির সুর

সাথে তঞ্চঙ্গ্যা তামাকের মোহিনী পিনাকে

হাসে মণিপুরির রক্তজবা চোখ।

পোড়ামাটির ভেজা গন্ধে

স্বপ্ন দেখে বিচক্ষণ শজারু।

আফিমে আসক্ত বন বিভাগ!

মানুষের রোষানলে পুড়ে ছাই বাঁশ, বেত, বৃক্ষ

এবার পড়েছে হাত পাথরে।

এক জোড়া কোকিলের ডাকে জেগে ওঠে ত্রিপুরাহীন ত্রিপুরা পাড়া।

চোখ জুড়ে সৃজন প্রাঙ্গণ আর

মাথার ভেতর সুদর্শনচক্রের মতো ঘুরে যাচ্ছে তাঁতির চরকা...

 

সাম্যের বীজতলা

প্রশান্তির দীর্ঘশ্বাস তোমার হাতে দিলাম

তোমার যা খুশি তা করো…

এবার চলো ভালোবাসার ডুব সাঁতারে 

কাটিয়ে দিই কালবেলা।

প্রার্থনা শেষে ছুটে আসা অসহায় পুরোহিত

ঠাঁই খুঁজে বকুলের কুঁড়েঘরে,

আকণ্ঠ অমরত্ব পান করে

নরকের তীব্র যন্ত্রণার কথা বেমালুম ভুলে

হরিপদ সরকার প্রতিদিন স্বর্গ রচে মর্ত্যে

কুকুরের দল করে শোরগোল

হরিণেরা ছুটে যায় কচি ঘাসের আলপনা ছুঁতে,

মাইলের পর মাইল শূন্য বীজতলা, 

বীজ নিয়ে বিলুপ্ত নপুংসক গুইসাপ!

একী অভিশাপ নাকি হা-হুতাশ—

চলো, অসাম্যের বন্ধ্যা ভূমি চষে

আমরা রচিবো সাম্যের বীজতলা...