দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো রনি আহম্মেদের প্রদর্শনী|295920|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ জুন, ২০২১ ১২:১৭
দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো রনি আহম্মেদের প্রদর্শনী
নিজস্ব প্রতিবেদক

দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হলো রনি আহম্মেদের প্রদর্শনী

১৪ জুন পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়ে বাংলাদেশের শিল্পজগতে জায়গা করে নিয়েছেন রনি আহম্মেদ। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার ও চিত্রশিল্পী।

রনি আহম্মেদের সব সৃষ্টির উৎসই অন্তরাত্মা। তার ভাষায়, “আমার ভাষা মনকে কেন্দ্র করে নয়, বরং আত্মাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়।”

তার এই নিয়ত পরিবর্তনশীল, অথচ চিরন্তন ভাষারই কিছুটা আন্দাজ মিলবে ‘নূর-ই-মোহাম্মদ’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে। গুলশানের বেঙ্গল গ্যালারিতে এই আয়োজন শুরু হয় প্রথম রমজান।

এত দিন প্রদর্শনীটি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে দেখতে পারছিলেন আগ্রহীরা। কিন্তু অনেকেই চিত্রকলার স্বাদ আস্বাদনের ঘাটতির কথা বলে আসছিলেন। এবার সবার জন্য শরীরীভাবে উন্মুক্ত হলো এ প্রদর্শনী।

বেঙ্গল গ্যালারি কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪ জুন পর্যন্ত ‘নূর-ই-মোহাম্মদ’ উন্মুক্ত থাকবে। তবে একই সময়ে ২০ জন দর্শনার্থীদের সীমিত থাকবে প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীতে অবস্থানকালে মাস্ক পরে থাকতে হবে এবং যথাযথ দূরত্ব মানতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আবারও আসা যাক প্রদর্শনীর বিষয়বস্তুতে। নূর-ই মোহাম্মদ— নাম শুনেই কিছুটা ধারণা পাওয়া যায় রনি আহম্মেদের আধ্যাত্মিক জগৎ সম্পর্কে। এই নূর স্বয়ং মহান আল্লাহ, রাসুল মোহাম্মদ (সা.) এর মাধ্যমে মানুষ যার সন্ধান পেতে পারে। বলাবাহুল্য, রনি আহম্মেদ ব্যক্তিজীবনেও এই আলোর সন্ধানেই জীবন উৎসর্গ করেছেন। প্রায় এক দশক ধরে সুফিবাদের চর্চা করে আসছেন এই শিল্পী, তার সকল শিল্পকর্মেই যার প্রত্যক্ষ ছাপ পড়েছে। তার নিজের আগের শিল্পকর্মগুলোর থেকেও এই সময়কালের আঁকা ছবি ও অন্যান্য ইনস্টলেশনগুলো স্পষ্টভাবেই ভিন্ন। তার এই পরিবর্তন, এই আলোর পথে যাত্রারই এক শৈল্পিক প্রকাশ এই প্রদর্শনী।

ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান আর্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, মেলিয়া বেলি বোসের ভাষ্যমতে, এই চিত্রকর্মগুলো সুফিবাদের পথে রনি আহম্মেদের ব্যক্তিগত যাত্রা, তার শৈল্পিক পরিবর্তনের স্মারক।

ব্যক্তিজীবনে সুফি ইসলামের চর্চা করলেও, রনি আহম্মেদ হিন্দুত্ববাদ, বৌদ্ধধর্ম, খ্রিষ্টান মতাদর্শসহ বিভিন্ন প্রাচীন মতাদর্শ নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করেছেন। আর তাই তার এই শিল্পকর্ম সময় এবং স্থানিক মাত্রা অতিক্রম করে সহজেই। বস্তুত, নূর ই মোহাম্মদ হলো সেই চিরন্তন সত্তা, যা সময়, স্থান কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ভাষার ওপর নির্ভর করে না।

একইসময়ে এই প্রদর্শনী ভীষণভাবে সমকালীন। এই মহামারির সময়ে নিজের ভেতরে ডুব দিতে উদ্বুদ্ধ করবে এই ছবিগুলো, ভরসা করতে শেখাবে মহান সৃষ্টিকর্তার সর্বোত্তম পরিকল্পনার ওপর।

ইসলামি শিল্প ঐতিহ্য, ক্যালিগ্রাফির সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লোকায়ত ধারার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন রনি আহম্মেদ। আবার তার আগেকার কার্টুন, স্যাটায়ার আর ব্যঙ্গাত্মক চিত্রকর্মের কিছুটা রেশ এখনো রয়ে গেছে কোন কোন ছবিতে, যদিও এগুলোর অন্তর্নিহিত বার্তা একদমই হালকাভাবে নেয়ার উপায় নেই।

“আমি এমন এক জগৎ সৃষ্টি করতে ভালোবাসি, যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, অথচ যা চিরন্তন। আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি, আমার স্টাইল দেখা এবং অদেখার মধ্যে বদলেছি বারবার”, রনি আহম্মেদ বলেছেন তার শিল্পকর্ম সম্পর্কে। তার জীবনাদর্শ, অর্থাৎ সুফিবাদকেই তিনি ভাষা দিতে চেয়েছেন এই শৈল্পিক প্রয়াসে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর আমি সুফিবাদের মাধ্যমে আত্মার নির্বাণের পথ অনুসন্ধান করেছি নিরন্তর। এই পথেই আমি এক আলোকোজ্জ্বল শৈল্পিক ভাষার খোঁজ পেয়েছি। সবকিছুর মধ্যেই আমি মহান আল্লাহকে দেখি। আমাদের মহানবীর গভীর ভালোবাসার সন্ধান পেয়েছি আমি।

রনি আহম্মেদের ভাষায়, সুফিবাদের অসংখ্য বই পড়লেও এই পথের খোঁজ মিলবে না, যতটা মিলবে আত্মার গভীর উপলব্ধির মাধ্যমে। আত্মার সেই গভীর উপলব্ধি দর্শক অনুভব করতে পারলেই তার শিল্পকর্ম সফল হবে বলে মনে করেন এই শিল্পী।