আদালতে দায় স্বীকার এএসআই সৌমেনের|298537|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০
যুবক ও শিশুসহ স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা
আদালতে দায় স্বীকার এএসআই সৌমেনের
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

আদালতে দায় স্বীকার এএসআই সৌমেনের

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে স্ত্রী, সন্তান ও এক যুবককে গুলি করে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেন কুমার রায়। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক নিশিকান্ত সরকার গতকাল সোমবার দুপুরে  তাকে আদালতে হাজির করেন। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম সৌমেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।

এর আগে এএসআই সৌমেনের গুলিতে নিহত তার ‘স্ত্রী’ আসমার মা হাসিনা খাতুন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

সৌমেনের দায় স্বীকার করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালত পুলিশের পরিদর্শক সঞ্জয় রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল স্যারের খাস কামরায় দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ধরে মডেল থানার ট্রিপল মার্ডার মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সৌমেন রায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।’

এএসআই সৌমেনের জবানবন্দি নথিভুক্ত শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলেও জানান পরিদর্শক সঞ্জয়।

এদিকে গতকাল সকালে এএসআই সৌমেনের গুলিতে নিহত তিনজনকে জানাজা শেষে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার আগে গত রবিবার গভীর রাতে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে নিহতদের লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।

নিহত আসমা খাতুন এএসআই সৌমেনের বিধিসম্মত বৈবাহিক স্ত্রী কি না, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশিকান্ত সরকার। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসমার পরিবার ও সৌমেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সৌমেন রায় আসমা খাতুনের তৃতীয় স্বামী, আসমার সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিশু রবিন আসমার প্রথম স্বামীর সন্তান। অন্যদিকে সৌমেন রায়ের বাড়িতে রয়েছে বিবাহিত স্ত্রী ও বাচ্চা। এই সব ঘটনার মধ্যে কার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পর্ক এবং টানাপড়েনই বা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? যার কারণে এই হত্যাকান্ড এর সবকিছুই বিবেচনায় নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি।’

অন্যদিকে দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়া একজন পুলিশ সদস্য সরকারি অস্ত্র নিয়ে খুলনা থেকে কুষ্টিয়ায় এসে তিনজনকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে কার কতটুকু দায় বা কর্তব্যকাজে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তার সবকিছু খতিয়ে দেখতে কুষ্টিয়া ও খুলনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গত রবিবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে প্রকাশ্যে নিজের ‘স্ত্রী’ ও সৎশিশুসন্তানসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেন খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়।