লকডাউন কোনো সমাধান নয়: মো. জসিম উদ্দিন|302322|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৪ জুলাই, ২০২১ ২০:২৫
লকডাউন কোনো সমাধান নয়: মো. জসিম উদ্দিন

লকডাউন কোনো সমাধান নয়: মো. জসিম উদ্দিন

মো. জসিম উদ্দিন ব্যবসায়ী নেতা, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি। করোনাকালের ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এই ব্যবসায়ী নেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের এহ্সান মাহমুদ

দেশ রূপান্তর : শুরুতেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায়। অবশ্য বিগত কয়েক বছর যাবৎ একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে এফবিসিসিআই নির্বাচন নিয়ে লোকজনের আগ্রহ কম। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের পছন্দের ব্যক্তিই হন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। এই বিষয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই।

জসিম উদ্দিন : এফবিসিসিআই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী সংগঠন। এই সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়াটা তাই আনন্দের। এর আগে এই সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলাম। নির্বাচিত পরিচালক ছিলাম। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক হয়েছিলাম। নির্বাচনকে আমি কখনো ভয় পাইনি। বিগত কয়েক বছর যাবৎ এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতিদের পরামর্শে নতুন সভাপতি মনোনীত করা হচ্ছে। এইবারও তাই হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একটি সম্পর্ক তো রয়েছে। আমাদের জাতীয় সংসদের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেখানে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। আবার মন্ত্রিপরিষদের দিকে তাকালেও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি দেখা যাবে। তবে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হতে হলে সরকারি দলের সমর্থক হওয়াটাই একমাত্র যোগ্যতা হবে এটা আমি বলতে পারছি না। কিন্তু, একটি রাজনৈতিক সরকার যখন দেশের ক্ষমতায় থাকে তখন ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যেতে সরকারের সঙ্গে ভালো জানাশোনা রয়েছে এমন কেউ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকলে সেটি ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূলে থাকে।

এখন আগামী দুই বছরের (২০২১-২৩) জন্য নতুন পর্ষদের দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করবে এফবিসিসিআই। কার্যকর এফবিসিসিআই গঠন, সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য অর্জনে এফবিসিসিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের যুক্ত করে কাজ করতে চাই। ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীর ঐক্য সুদৃঢ় করতে চাই। ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিকাশ এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতের অংশীজনদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করার এই যাত্রা আরও বেগবান করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এছাড়া আমাদের দেশের সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০, ভিশন-২০৪১ ও একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকায় এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন সম্ভাবনায় প্রতিনিয়ত সাড়া দিয়ে এক নির্ভয় দূরদর্শী নেতৃত্ব সমৃদ্ধ করে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। এক্ষেত্রে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনেই আগামী দিনে মনোযোগ দিতে চাই।

দেশ রূপান্তর : করোনা মহামারীতে এখন বিশ^ অর্থনীতি অনেকটা স্থবির। ব্যবসা-বাণিজ্যর ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে এসেছে এমন একটা সময়ে আপনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব পেলেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জসিম উদ্দিন : আমরা এমন এক সময় দায়িত্ব নিয়েছি, যখন সারা বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এটি একটি বিশেষ সময় আমাদের সবার জন্য। এই ক্রান্তিকালে আমাদের সরকারের পাশে থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমরা ভালো আছি। তবে ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে কাজ করব। এফবিসিসিআই সব সময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশে আছে। বর্তমান পর্ষদের প্রথম কাজ হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা। বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পকারখানাকে ক্লাস্টারিং করে তাদের রপ্তানি বাজারে নিয়ে যেতেও কাজ করা হবে।

করোনার এই মহামারীর সময়ে দায়িত্ব নিয়ে আমার মনে হয়েছে, আমরা জাতিগতভাবে একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জাতি। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পরে আমরা একটি নতুন স্বাধীন দেশ পেয়েছিলাম। তখন বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে নিজের নেতৃত্বগুণে ঘুরে দাঁড়াতে কাজ শুরু করেছিলেন। তাই করোনার প্রতিকূল পরিবেশেও এই আদর্শ সামনে রেখে আমরা দেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখে আরও উন্নত ও সুগঠিত করতে কাজ করে চলেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু ব্যবসায়িক প্রণোদনাও দিয়েছেন। যার সুফল দেশের ব্যবসায়ীরা পাচ্ছেন।

দেশ রূপান্তর : বর্তমান করোনা সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি কী প্রভাব পড়বে বলে আপনি মনে করেন?

জসিম উদ্দিন : করোনার এই সময়টাতে যে সব দেশ দীর্ঘমেয়াদে লকডাউন দিয়েছে, তারা সবাই কিন্তু কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর্থিকভাবে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার শুরু থেকেই মানুষের জীবিকার দিকে নজর দিয়েছিল, এর ফলে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি। এবার নতুন বাজেট জীবন জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে করা হয়েছে। যেখানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যবসাবান্ধব বাজেট। আমার মনে হয় এর সুফল দেশের ব্যবসায়ীরা পাবেন। এখানে আমাদের কাজ হচ্ছে সরকারের এইসব সুযোগ-সুবিধা ব্যবসায়ীদের জন্য নিশ্চিত করা। গত সপ্তাহে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সেখানে এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে টিকিয়ে রাখা যায়, সেসব নিয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ করে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, মাঝারি শিল্পকারখানার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অনেকেই ব্যাংকের কাছে যান না। ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে তাদের একটি বড় অংশ রয়েছে। তাই আমরা চেষ্টা করব এই শ্রেণির উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী যারা রয়েছেন, তাদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার। এটা করতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সারা দেশের যে সেন্টারগুলো রয়েছে, তার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই দেড় বছরেরও বেশি সময়ে করোনার প্রভাবে দেশের অনেক ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এইসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে হবে। নইলে এটা অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

করোনা সংক্রমণ রোধে এখন যে লকডাউন দেওয়া হয়েছে, তা জীবন বাঁচাতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জীবিকার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হবে। লকডাউন কোনো সমাধান নয়। আবার সরকার এটা না করেও পারছে না। এইভাবে দীর্ঘদিন লকডাউন চালিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই, এটা বুঝতে হবে। অপরদিকে, করোনা এখন অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যু সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে নতুন সংক্রমণের সংখ্যাও। মানুষের মধ্যে সচেতনতা না বাড়াতে পারলে লকডাউনেও সুফল পাওয়া যাবে না। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হবে না। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে। আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে দেশের সব ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছি। যার মাধ্যমে নতুন করে সংক্রমণ যাতে এড়ানো যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের দিকে। দেশের একটি বড় অংশের মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা গেলে সুফল পাওয়া যাবে। এ জন্য দরকার হলে সরকারের পাশাপাশি সংগঠন থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রমিকদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে, যাতে করে উৎপাদন অব্যাহত থাকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। 

করোনা ও লকডাউনের প্রভাব এর মধ্যেই পড়েছে আমাদের অর্থনীতিতে। করোনার আগে মনে করা হয়েছিল, আমাদের জিডিপি আট থেকে উন্নীত হয়ে নয় বা দশ হবে। কিন্তু সেটি এখন পাঁচে নেমে এসেছে। ইউরোপ বা আমেরিকার কথা যদি বলি, তারা এখন সবকিছু খুলে দিয়েছে। ব্যাপক পরিমাণে টিকা দানের পরে তারা এটি করতে পেরেছে। আমেরিকাতে গেল মাসে ২৩ ভাগ কেনাকাটা বেড়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে সবকিছু খুলে দেওয়ার ফলে। লকডাউন তুলে নেওয়ার পরে। ভ্যাকসিন দেওয়ার এই মুহূর্তে বিকল্প নেই। পাশাপাশি মাস্ক পরিধানসহ করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানতেও জোর দিতে হবে।

দেশ রূপান্তর : করোনায় বিদেশি বিনিয়োগকারী হারানোর ভয় কতটা যুক্তিসংগত?

জসিম উদ্দিন : দেশে বর্তমানে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিতে যে নতুন করে লকডাউনের শুরু হলো এটা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার বিষয়ে চিন্তিত করবে। বাংলাদেশের যারা বায়ার রয়েছেন, তারা যে সব দেশের তাদের হাতে অর্থ আছে। তাদের দেশের মানুষ স্বাভাবিক কেনাকাটায় ফিরছেন। তাই তারা পণ্য উৎপাদনে মনোযোগ দেবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে এই মূহূর্তে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধিজনিত কারণে যে লকডাউনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, তাতে করে  তারা উৎপাদনের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। বিনিয়োগ করে উৎপাদন না পেলে তারা নতুন করে বিনিয়োগ করতে চাইবেন কেন! বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা আসেন মূলত শ্রমের কম মূল্যের জন্য। এখন এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা কম দামে পণ্য পাওয়ার ঝুঁকিটি নেবেন কি না সেটি ভেবে দেখার বিষয়। তাই ব্যাপকহারে ভ্যাকসিন চালু করা না গেলে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। সরকার অবশ্য ভ্যাকসিনের জন্য চেষ্টা করছে। তবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা ও বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখতে এটিতে আরও জোর দিতে হবে।

আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোর দিকেও যদি তাকাই, তাহলেও বুঝতে পারব বিনিয়োগে কেন মানুষ আগ্রহী হচ্ছেন না। ব্যাংকে টাকা আছে। ব্যাংকগুলো স্বল্পসুদে ঋণ দিতে চাইলেও বিনিয়োগকারীরা নিচ্ছেন না। কারণ, তারা টাকা তুলে কী করবেন?  ব্যবসা কার্যক্রম তো স্থবির হয়ে আছে। মাস্ক ব্যবহার করে তো রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। টাকা তুলে ঘরে বসে থাকবেন না বলেই নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না।

ইউরোপে আমারিকায় করোনা পরিস্থিতি আমাদের চেয়েও ভয়াবহ ছিল। তারা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে ভ্যাকসিনের জন্যই। তাই আমাদেরও সেদিকেই সবার আগে নজর দিতে হবে। নইলে এভাবে করোনায় মৃত্যু ও লকডাউন দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। আর সুনাম নষ্ট হলে বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হবে। যা সামগ্রিকভাবে অর্ধনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

দেশ রূপান্তর : বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন সরকারের কাছে প্রণোদনা, সুদ মওকুফসহ নানা দাবি পেশ করেছে। এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য শুনতে চাই।

জসিম উদ্দিন : আমাদের সরকার তার সীমিত সুযোগের মধ্যেও অনেক সুবিধা দিয়েছে। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী অনেক বড় প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। প্রায় এক লাখ আটাশ হাজার টাকার অনেকগুলো প্রণোদনার প্যাকেজ দিয়েছেন। এটি খুবই দরকারি ছিল। এই প্যাকেজটি অনেকটা কোরামিনের মতো কাজ করেছিল। এর সুবিধা দেশের গার্মেন্টসগুলো পেয়েছে। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যে বন্ধ হয়ে যায়নি, তার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রণোদনা প্যাকেজ ভূমিকা রেখেছে। তবে বেশ কিছু খাত এখনো কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি। বিশেষ করে পর্যটন, হোটেল, সার্ভিসিং খাতগুলো এখনো ক্ষতি থেকে বের হতে পারছে না। এখন কেউ হোটেলে যাচ্ছে না। রেস্তোরাঁয় মানুষ খেতে যায় না। পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ আছে। কমিউনিটি সেন্টারে মানুষ যেতে পারছে না। এতে করে এই খাতগুলো খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এইসব খাতের বিনিয়োগকারীরা লোকসানের মধ্যে রয়েছে। তাদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া দেশের একটি বড় খাত হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এই খাতের যারা রয়েছেন তারা কিন্তু সরকারের সুযোগ-সুবিধার বাইরে রয়েছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা সবই বড় বড় খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য। তাই এই খাতের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কাজ হচ্ছে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করতে হবে। চলমান লকডউনে এ সব খাতসহ পরিবহন খাত যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, এদের জন্য নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আমাদের দাবি থাকবে।

দেশ রূপান্তর : করোনাকালে আপনার পরামর্শ কী?

জসিম উদ্দিন : এখন ভ্যাকসিন না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের ব্যাপকহারে মাস্ক পরিধান ও করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার হওয়ার আগেই চীন মাস্ক ব্যবহার চালু করে প্রথম থেকেই সুবিধা পেয়েছিল। এ বিষয়ে কেবল সরকার নয়, সরকারের কাজ হতে হবে দেশের সব শ্রেণি পেশা ও সংগঠনের মধ্যে ব্যাপকহারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা। ভ্যাকসিন পাওয়ার বাস্তবসম্মত চেষ্টার পাশাপাশি সবার সচেতনতাই এখন এই পরিস্থিতিতে বেশি দরকার।