করোনা মহামারীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ|305693|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০
করোনা মহামারীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ

করোনা মহামারীতে ডেঙ্গু সংক্রমণ

করোনা ও ডেঙ্গু দুটি রোগের লক্ষণ প্রায় একই রকম হওয়ায় কোথাও কোথাও রোগ নির্ণয় ভুল হয়ে যায়। সুতরাং বৃষ্টির এ সময়ে জ্বর ও আনুষঙ্গিক উপসর্গ নিয়ে হাজির হলে কভিড-১৯-এর পাশাপাশি ডেঙ্গুকেও স্মরণে রাখতে হবে।

শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই কভিড-১৯-এর উপসর্গ মামুলি ধরনের। হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, সর্দি, কাশি, ক্ষুধামান্দ্য, শারীরিক দুর্বলতা, পাতলা পায়খানা, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। কেউ আবার একেবারে উপসর্গবিহীন। এসব লক্ষণ দুটো রোগেই দেখা যায়। তবে ডেঙ্গু জ্বর হয় হঠাৎ উচ্চমাত্রার। কভিড-১৯-এর জ্বর সাধারণত মৃদুমাত্রার। তবে কভিডের জ্বর ক্ষেত্রবিশেষে তীব্র হতে পারে। কভিডে শ্বাসনালির আক্রমণ বেশি হয়। তবে ডেঙ্গুর মারাত্মক আক্রমণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ডেঙ্গু হলে চামড়ায় লালচে ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। এমনকি কভিড-১৯-এও এমনটি হতে পারে। তবে ডেঙ্গুতে এমন ছোপ ছোপ দাগ খুব বেশি হয়ে থাকে। ডেঙ্গুতে অনেক ক্ষেত্রে অক্ষিগোলকে ব্যথা হয়। চোখ নাড়াচাড়া করলে অক্ষিগোলকের এমন ব্যথা কভিডে সাধারণত হয় না। ডেঙ্গুতে রক্তক্ষরণ হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষত শুরুতে দাঁতের গোড়া থেকে। কভিডে রক্তক্ষরণ সাধারণত হয় না। উল্টো রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে।

ডেঙ্গু ও করোনার চিকিৎসা

কারও জ্বর দেখা দিলে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কভিড-১৯-এর পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষা করে নিতে হবে। মৃদু বা মাঝারি মাত্রার কভিডের সঙ্গে ডেঙ্গু দেখা দিলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে অবস্থা নিরীক্ষণ করতে হবে। ডেঙ্গুতে অনেক সময় হু-হু করে রক্তের অণুচক্রিকা কমে রক্তক্ষরণ হতে পারে। সেজন্য নিয়মিত রক্তের অণুচক্রিকা (প্লাটিলেট) এবং হেমাটোক্রিটের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাঝারি মাত্রা এবং তীব্র কভিডের চিকিৎসায় হেপারিন ইনজেকশন চিকিৎসা হিসেবে দেওয়া হয়। ডেঙ্গুর কারণে রক্তের অণুচক্রিকা এক লাখের নিচে নেমে গেলে হেপারিন প্রয়োজনে বন্ধ করে দিতে হবে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় কখনো আমরা পর্যাপ্ত ফ্লুইড দিয়ে থাকি শিরাপথে। কভিড তীব্র মাত্রায় থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ফ্লুইড দিতে রক্ষণশীল থাকতে হয়। সুতরাং দুটো ভাইরাস একসঙ্গে আক্রমণ করে বসলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিতে হবে।

করোনা প্রতিরোধের পাশাপাশি ডেঙ্গু মশার কামড় থেকে বাঁচতে হবে। আর কভিড নিয়ন্ত্রণের জন্য লকডাউন মানতে হবে। ভ্যাকসিন নিতে হবে, মাস্ক পরতে হবে এবং হাত স্যানিটাইজ করতে হবে আর জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।