‘কঠোর বিধিনিষেধ’ শুরু প্রথম দিনে গ্রেপ্তার ৪০৩|305747|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০
‘কঠোর বিধিনিষেধ’ শুরু প্রথম দিনে গ্রেপ্তার ৪০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘কঠোর বিধিনিষেধ’ শুরু প্রথম দিনে গ্রেপ্তার ৪০৩

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে কোরবানির ঈদের এক দিন পর গতকাল শুক্রবার থেকে ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ শুরু হয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল থেকে দেশজুড়ে দুই সপ্তাহের ‘কঠোর লকডাউন’ শুরু হয়। প্রথম দিনেই ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর অবস্থানে ছিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। বিশেষ করে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি ছিল বেশ তৎপর। নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় বের হওয়ার অভিযোগে ঢাকায় ৪০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া ২০৩ জনকে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা। পাশাপাশি ৪৪১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, ‘লকডাউন’ শিথিলের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৭ জুলাই করার যে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই জানিয়ে তা উড়িয়ে দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এবারের বিধিনিষেধ মানুষের অবাধ চলাফেরায় ‘সবচেয়ে কঠোর’ হবে বলে জানান তিনি।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানুষের জীবন-জীবিকা ও উৎসবের চিন্তা করে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ-পূর্ববর্তী ব্যবসা পরিচালনা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত আরোপিত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হলো। তবে এ সময় সর্বাবস্থায় জনসাধারণকে সতর্কাবস্থা থাকা, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই প্রজ্ঞাপনে ঈদের পর ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে নির্দেশনা জারি করা হয়। সে আদেশে চলমান বিধিনিষেধের মতোই সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গণপরিবহনসহ সব যাত্রীবাহী যানবাহন বন্ধ এবং শপিং মল ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এর পাশাপাশি সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধের ঘোষণাও আসে। ফলে যারা বাড়ি গিয়ে ঈদ আনন্দ উদযাপন করছেন তাদের কর্মস্থল বা নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে আসতে হবে শুক্রবার ভোর ৬টার মধ্যে।

এদিকে, ‘কঠোর লকডাউন’ উপেক্ষা করে রাজধানীতে যারা রাস্তায় বের হয়েছেনযৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারলে তাদের করা হচ্ছে জরিমানা। রাস্তায় প্রতিটি সড়কে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি। চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া অভিযান পরিচালনা করছেন বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও। গতকাল গাবতলী, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, মিরপুর ১, মিরপুর ১০সহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, চেকপোস্টে প্রতিটি যানবাহনের গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করতে পারলেই ছাড় পাচ্ছেন তারা। অন্যথায় মামলা কিংবা জরিমানা করা হচ্ছে।

গাবতলীতে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ মোর্শেদ মিশু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যারা বের হচ্ছেন তারা যৌক্তিক কারণ না দেখাতে পারলে আমরা মামলা দিচ্ছি এবং জরিমানা করা হচ্ছে।’ দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আসাদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের পর কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে রাজধানী থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা লোকজনের মধ্যে কম দেখা যাচ্ছে। যেসব যানবাহনে মানুষ রাজধানী থেকে বের হচ্ছেন সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাদের গন্তব্য সম্পর্কে। কেউ কেউ যুক্তি দেখালেও আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেকে অযৌক্তিক বিষয় সামনে আনছেন। অযৌক্তিক বিষয়গুলো প্রতীয়মান হলে আমরা সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি।’

ডিএমপির এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সড়ক রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শপিং মল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সব পর্যটনকেন্দ্র রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। ব্যাংকিং/বীমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাপ্তরিক কাজ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন। আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমনকৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন/বিক্রয়, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কভিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) প্রদর্শন কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবা, ব্যাংক, ভিসাসংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্সাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়ত করতে পারবে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।