ফকির আলমগীরের কয়েকটি গান |305762|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জুলাই, ২০২১ ০৯:৫৭
ফকির আলমগীরের কয়েকটি গান
অনলাইন ডেস্ক

ফকির আলমগীরের কয়েকটি গান

ফকির আলমগীর (২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ - ২৩ জুলাই ২০২১)

বাংলাদেশের গণসংগীতে ফকির আলমগীরের অবদান অনন্য। অন্য ঘরানার গানেও তিনি ছিলেন সাবলীল।

৬৯ বছর বয়সে শুক্রবার রাতে প্রয়াত এ শিল্পী দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন স্মরণীয় অনেক গান।

ফকির আলমগীরের ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’, ‘বনমালী তুমি’, ‘কালো কালো মানুষের দেশে’, ‘মায়ের একধার দুধের দাম’, ‘আহা রে কাল্লু মাতব্বর’, ‘ও জুলেখা’সহ বেশ কিছু গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।

এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

ষাটের দশকে তার সংগীতচর্চা শুরু। গান গাওয়ার পাশাপাশি বংশীবাদক হিসেবেও খ্যাতি ছিল। বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রামে এবং উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। গণ–অভ্যুথান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের সামরিক শাসনবিরোধী গণ–আন্দোলনে তিনি শামিল হয়েছিলেন তার গান দিয়ে।

যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে সঞ্চিত যন্ত্রণাকে প্রকাশ করার জন্যই দেশজ সংগীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ও সমসাময়িক কয়েকজন শিল্পী শুরু করেছিলেন প্রথম বাংলা পপ ধারার গান। বাংলা পপগানের বিকাশেও তার রয়েছে বিশেষ অবদান।

সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ পর্যন্ত পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’। তার ঝুলিতে আরও রয়েছে শেরেবাংলা পদক, ভাসানী পদক, সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার, তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক, জসীমউদ্‌দীন স্বর্ণপদক, কান্তকবি পদক, গণনাট্য পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মহাসম্মাননা ও বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ।

ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় দিনটিতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির, মা বেগম হাবিবুন্নেসা। শিল্পী জগন্নাথ কলেজে থেকে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।