‘গণহত্যা অস্বীকার’ নিষিদ্ধ করায় ক্ষুব্ধ বসনিয়ার সার্বরা |306788|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০২১ ১০:২২
‘গণহত্যা অস্বীকার’ নিষিদ্ধ করায় ক্ষুব্ধ বসনিয়ার সার্বরা
অনলাইন ডেস্ক

‘গণহত্যা অস্বীকার’ নিষিদ্ধ করায় ক্ষুব্ধ বসনিয়ার সার্বরা

যুদ্ধাপরাধী রাতকো ম্লাদিচকে 'হিরো' বর্ণনা করে লাগানো পোস্টার

১৯৯৫ সালের শান্তি চুক্তি অনুসারে বসনিয়ার ‘গণহত্যার অস্বীকার’ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন আনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সার্বরা। বিষয়টি দেখভাল করেন আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের নিযুক্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ভ্যালেন্টিন ইনজকো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের গুণকীর্তন বন্ধ করতে এ নিষেধাজ্ঞা দরকার ছিল।

তার মতে, বিবেক অনুসরণ করে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। যদি কোনো দেশ অপরাধীদের মহিমান্বিত করে, তাদের ভবিষ্যত ভালো হতে পারে না।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, এমন উদ্যোগের সঙ্গে একমত নয় বসনিয়ার সার্বরা।

গত মাসে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধকালীন সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচকে যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু কিছু জাতিগত-সার্ব নেতা এখনো তাকে ‘নায়ক’ নিয়ে বর্ণনা করছে। এ কারণে অস্ট্রিয়ান কূটনীতিক ইনজকো গণহত্যার অস্বীকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনেন।

প্রতিক্রিয়ায় দেশটির জয়েন্ট প্রেসিডেন্সির সার্ব সদস্য মিলোরাদ দোদিক জানান, তিনি ফৌজদারি ধারায় সংশোধনী গ্রহণ করবেন না।

এমন একটি পিটিশনও চালু করেন যেখানে দাবি করা হচ্ছে, স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা আসলে হত্যাযজ্ঞ ছিল না। যদিও এমন অস্বীকারের কারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সাজা হওয়ার কথা তার।

ওই গণহত্যায় ৮ হাজার বন্দি মুসলিম পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে ম্লাদিচের নেতৃত্ব দেওয়া বাহিনী।

১৯৯৫ সালে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ ওঠার পর থেকে পালিয়ে থাকা ম্লাদিচকে ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০১৭ সালে জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধবিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। গত জুনে ওই আপিল খারিজ দেয় আদালত।

গণহত্যাকারীকে বীর হিসেবে বর্ণনা করে দেশটিকে পোস্টার ও গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। তবে ইনজকো জানান, এর কোনোটিই থাকবে না। কিছু কিছু ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

শান্তি চুক্তির অধীনে ইনজকো রাজনীতিবিদদের বরখাস্ত, আইন প্রয়োগ ও ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।