কৃষিঋণের লক্ষ্য বাড়ল ৭.৯৮%|306895|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০
কৃষিঋণের লক্ষ্য বাড়ল ৭.৯৮%
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিঋণের লক্ষ্য বাড়ল ৭.৯৮%

কৃষিখাতের উৎপাদন বাড়াতে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষকদের ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এই লক্ষ্যমাত্রা গত ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর কৃষিঋণের লক্ষ্য ছিল ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ প্রণীত নতুন অর্থবছরের কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।  

নীতিমালায় বলা হয়, করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এবং সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালায় তিনটি বিষয় জোর দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পল্লী অঞ্চলে পর্যাপ্ত কৃষিঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো।

এবার কৃষি ও পল্লীঋণের চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৭ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মোট ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করেছে, যা অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ বা ৭৮১ কোটি টাকা কম। অর্থাৎ গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৯৭.০৩ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। 

জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও কৃষিখাতের উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল ছিল। তাই মহামারীতে ঋণ বেশি প্রয়োজন ছিল কৃষকদের। কিন্তু ব্যাংকগুলো তাদের সঠিক সময় ঋণ সহায়তা দেয়নি। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলো ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৬ লাখ ৫ হাজার ৯৪৭ জন নারী প্রায় ৯ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন।

এ ছাড়া গত অর্থবছরে ২২ লাখ ৪৫ হাজার ৫১২ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৭ হাজার ৭৯৬ জন কৃষক প্রায় ৩৩ লাখ ৯৬ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষকদের কাছে কৃষিঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশ কিছু বিষয় সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনালি মুরগি ও মহিষ এবং গাড়ল পালনের জন্য ঋণ দেওয়া, কৃষিঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ করা, একরপ্রতি ঋণসীমা কৃষকদের প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো ও কমানোর সুযোগ, মাছ চাষে একরপ্রতি ঋণসীমা বাড়ানো এবং ব্যাংক কর্র্তৃক বিতরণকৃত ঋণের তদারকি অধিকতর জোরদার করা।