বর্ষণ-জোয়ারে উপকূলে বন্যা|306957|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০
বর্ষণ-জোয়ারে উপকূলে বন্যা
রূপান্তর ডেস্ক

বর্ষণ-জোয়ারে উপকূলে বন্যা

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েক দিন ধরে সারা দেশে ঝরছে বৃষ্টি। তবে উপকূল এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা দেশের অন্যান্য এলাকায় তুলনায় বেশি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পূর্ণিমার কারণে অধিক উচ্চতার জোয়ার। ভারী বর্ষণ আর জোয়ার যোগে উপকূলের বেশিরভাগ এলাকায়ই দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ফসলি জমির পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়িতেও প্রবেশ করেছে পানি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে, ভেসে গেছে হাজার হাজার মাছের ঘের। আর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় ঘটেছে বহু হতাহতের ঘটনা। এর মধ্যে গতকালও আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে আরও দুয়েক দিন। যার ফলে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসও হতে পারে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, টানা অতি ভারী বর্ষণে লামায় মাতামুহুরীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানে দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া গতকাল জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার নাগাদ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকা এবং দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। ফলে এ সময়ে দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অববাহিকার নদীসমূহের পানির সমতল সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে।

তিনি জানান, আজ শুক্রবার নাগাদ কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার কতিপয় স্থানে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে লামায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন বিভিন্ন নদনদীর ১০৯টি পয়েন্টের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৩৬টির পানির সমতল বেড়েছে, কমেছে ৭১টি পয়েন্টের পানির সমতল। একটি পয়েন্টের পানির সমতল বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের (খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর) স্থলভাগে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোনো কোনো জায়গায় অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি টেকনাফে ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে ১৯০, চট্টগ্রামে ১২৯, মোংলায় ১২৩, কক্সবাজারে ১১৯, খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার অবস্থা দেখা দিয়েছে।

দেশ রূপান্তরের ব্যুরো অফিস ও বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত

টেকনাফে ডুবল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর : কক্সবাজারের টেকনাফে বন্যার পানিতে ডুবল প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর। গত তিন দিন ধরে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরগুলোর বাসিন্দাদের আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যত্রে।

সারা দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার দেওয়ার অংশ হিসাবে কক্সবাজারের টেকনাফেও বরাদ্দ দেওয়া হয়। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অর্থায়নে টেকনাফে ২২৯টি ঘর বরাদ্দ পায়। এই প্রকল্পের আওতায় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার থেকে পূর্বদিকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে সীমান্ত সড়কের কাছাকাছি সরকারি উদ্যোগে নির্মিত হয় ২৮টি ঘর। অথচ গত তিন দিন ধরে ভারী বৃষ্টিতে পানিতে ডুবে রয়েছে এসব ঘর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্নীলা ইউনিয়নের আবুল কালাম, মো. সাবের, সৈয়দুল আমিন ও হোসেন বলিসহ লবণ চাষিদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সড়কের বেড়িবাঁধের স্লুইস গেট বন্ধ রেখেছে। ফলে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে এলাকাটি পানিতে তলিয়ে গেছে।

হ্নীলার মৌলভীবাজারের উপহারের ঘরে পানিবন্দি সমিরা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘দুই দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছি। নৌকায় করে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। কেউ সহায়তা দিতে আসেনি। এখানে ২৮টি পরিবারের মধ্য আমরা চার পরিবার ছাড়া বাকিরা অন্যত্র চলে গেছেন। আমাদের কোনো স্বজন নেই, তাই পানিবন্দি থাকার পরও কোথাও যাওয়ার জায়গা পাচ্ছি না।’

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের অভাবে এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরও রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সীমান্ত সড়কের বেড়িবাঁধের স্লুইস গেটের বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে পানি না জমে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

জলাবদ্ধতার শহর চট্টগ্রাম : বৃষ্টির পানিতে হাঁটু-কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা। গত তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নগরীর নি¤œাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৬৬.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, গলি ও উপগলি হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।

পতেঙ্গা অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ ও পূর্বাভাস কর্মকর্তা উজ্জ্বল কান্তি পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব ও লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রামে গত তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৬৬.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর ও নদীবন্দরসমূহকে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লামা-আলিকদমে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : টানা বর্ষণে বান্দরবান পার্বত্য জেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে লামা ও আলিকদম উপজেলার সড়ক যোগাযোগ। এছাড়াও বন্ধ আছে থানচি উপজেলা সদরের সাথে তিন্দু ও রেমাক্রি ইউনিয়নের যোগাযোগ।

স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, বনানি সমিল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে লামায় সোমবার থেকে টানা বর্ষণের ফলে উপজেলায় অবস্থিত নদী, খাল ও ঝিরির পানি ফুঁসে উঠে পৌরসভা এলাকার নয়াপাড়া, বাসস্ট্যান্ড, টিএন্ডটি পাড়া, বাজারপাড়া, গজালিয়া জিপ স্টেশন, লামা বাজারের একাংশ, চেয়ারম্যান পাড়ার একাংশ, ছোট নুনারবিলপাড়া, বড় নুনারবিলপাড়া, উপজেলা পরিষদের আবাসিক কোয়ার্টারসমূহ, থানা এলাকা, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বাজাররসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও থানচি উপজেলার বলিবাজার ইউনিয়নের হিন্দু পাড়া ও বাগান পাড়া সহ বিভিন্ন পাড়া প্লাবিত হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে অনেক গ্রাম। অনেকে যাতায়তের জন্য ব্যবহার করছেন নৌকা এবং বাঁশের ভেলায়।

প্রশাসন সূত্রে আরো জানা যায়, জেলার দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এছাড়া পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে স্থানে যেতে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে প্রশাসন। এছাড়াও দুর্গতদের জন্য জেলায় ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসন থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের দেয়া হচ্ছে খাদ্য।

আলিকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়েদ ইকবাল জানিয়েছেন, সড়ক প্লাবিত হয়ে লামা ও আলিকদম এই দুই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে নি¤œাঞ্চল। পানি ঢুকেছে বসতবাড়ি ও দোকানপাটে। গতকাল রাতেই আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে সাধারন মানুষ । আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের গতকাল রাত থেকে দেয়া হচ্ছে খিচুড়ি।

বাগেরহাটে শত শত পরিবার পানি বন্দি, তলিয়ে গেছে মাছের ঘের : উপকূলীয় বাগেরহাটে টানা প্রবল বর্ষণে পৌরসভাসহ জেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে শত শত পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের। বৃষ্টির পানি ঘরবাড়িতে উঠে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। রান্না ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্না খাওয়ায় দারুণ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে তাদের। বাগেরহাট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের নাগেরবাজার ও পূর্ব বাসাবাটি এলাকার রেকর্ডীয় খাল দখল ও সরু হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ভোগ বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। প্রশাসনের কাছে এই খালটি দখলমুক্ত করে সংস্কারের দাবি তাদের। এছাড়াও টানা বৃষ্টিতে জেলার উপকূলীয় শরণখোলা, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল ও বাগেরহাট সদরের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির পানিতে বাগেরহাটের চারটি উপকূলীয় উপজেলার কয়েকশ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এসব মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশংকা করছে মৎস্য বিভাগ।

তবে টানা বৃষ্টিতে এসব নদনদীর পানিতে লবণাক্ততা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে উপকূলীয় শরণখোলাতে। একদিনে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে অনেক দেরিতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এই জেলার প্রধান চারটি নদনদীর পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। যার কারণে ফসলী জমিতে এই পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে এসব নদনদীর পানিতে লবনাক্ততা অনেকটাই কমে যাওয়ায় তা ফসলের মাঠে ব্যবহার উপযোগী হবে বলে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে গত তিন দিনের টানা বর্ষণে নি¤œাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টির পানিতে মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে। টানা বৃষ্টির পানিতে প্রায় দুই সহস্রাধিক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষিরা।

এদিকে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে মোংলা পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। পৌরসভার চার তৃতীয়াংশ হাঁটু ও কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। শহরের রাস্তাঘাটের উপর হাঁটুপানি আর বাড়িঘরে কোমর সমান। অতিরিক্ত পানিতে তলিয়ে রয়েছে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও খাল। পানি নামানোর কোন অবস্থাই নেই। ভাটির সময় খাল দিয়ে সামান্য পানি নামলেও অতি বৃষ্টিতে তা আবার বাড়ছে। প্রায় ৩/৪ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে ঘরবাড়ি।

স্থানীয়রা বলছেন, তিনদিনের বৃষ্টিতে যে পানি হয়েছে ১৯৮৮ সালের বন্যায় এতো পানি হয়নি, তখন খাটে পানি উঠেনি, এখন খাটের উপরেও পানি। সব ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট পানির নিচে। রান্নাবান্না বন্ধ, ঘরে থাকার উপায় নেই। তাই অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

বরগুনায় মৎস্য ও কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি : বরগুনায় টানা বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় নি¤œাঞ্চল। বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত কাঁচা বসত ঘর ও আবাসন প্লাবিত হয়েছে। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে নি¤œআয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে।

বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বরগুনায় ৪৭৩ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবর্ষণে বরগুনার পায়রা-বিশখালী ও বলেশ্বর এই তিনটি নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। অতিবর্ষণের সাথে ঝড়ো হাওয়ায় সৃষ্ট ঢেউয়ে জেলার বন্য নিয়ন্ত্রন বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ২২ টি পোল্ডারের ৮০০ কিলোমিটার বেরিবাধের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন কবলিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আ. রশিদ বলেন, বৃষ্টিতে বরগুনায় কৃষি সেক্টরের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে বেশকিছু সেক্টরের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করেছি। আর্থিক ক্ষতিসহ পুর্নাঙ্গ ক্ষতি নিরুপনে ২/৩ দিন সময় লাগবে বলেও তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, টানা বর্ষণে বরগুনায় মৎস্য কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তদের নিজ এলাকার খোঁজ খবর রাখার জন্য বলেছি। সরকারের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।