কারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ|306970|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০
কারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক

কারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ

করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পসহ সব ধরনের কারখানা খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা। আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শঙ্কা, সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়া, বন্দরে জট, সার্বিক অর্থনীতিসহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এ অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়েছেন কারখানা খুলে দিতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ও ঢাকা চেম্বারের নেতারা গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অনুরোধ জানান।

এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, যত শিগগির সম্ভব দেশের রপ্তানি খাতসহ সব ধরনের উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় রপ্তানি খাতের অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সব ধরনের রপ্তানি বাণিজ্য। পণ্য সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের টিকা প্রদানের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এফবিসিসিআইর সভাপতি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, কভিডজনিত বিধিনিষেধের আওতায় সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগামীতে পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রপ্তানি খাতের উৎপাদনব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মতো পরবর্তী রপ্তানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানির অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে উৎপাদনব্যবস্থাকে সচল রাখা জরুরি বলে তিনি জানান।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও ছোট কারখানা বন্ধ রাখায় উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারখানাগুলো পুনরায় চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় রপ্তানি ও উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বার শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এফবিসিসিআইর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

গত এপ্রিল ও জুলাই মাসের শুরুতে যখন লকডাউন জারি হয়েছিল, তখন শিল্পকারখানা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও ঈদের ছুটির পর ২৩ জুলাই শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে কারখানাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে শিল্প খাতের মধ্যে কোরবানির পশুর চামড়াসংশ্লিষ্ট খাত, খাদ্যপণ্য ও কভিড-১৯ প্রতিরোধে পণ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রয়েছে।

খাদ্য, চামড়া, ওষুধশিল্পকে খুলে দেওয়া হলেও সেখানেও সরবরাহব্যবস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন এফবিসিসিআইর সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ফুড ইন্ডাস্ট্রির র‌্যাপিংয়ের দরকার। কার্টনের দরকার। এমন অবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ রাখা যায় না।

ভরা মৌসুমে রপ্তানি পণ্য যথাসময়ে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা তাদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিলের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

বৈঠকে শেষে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সাংবাদিকদের বলেন, যে লকডাউনটা আছে, এটা থেকে যেন সব ধরনের শিল্পকে বাদ দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, এটাই অনুরোধ করতে এসেছিলাম।

সরকারের তরফ থেকে কোনো আশ^াস দেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে এ অনুরোধটা আমরা করেছি। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্তটা দেবেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, সংক্রমণ, মৃত্যু সবকিছু মাথায় নিয়ে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার এটা বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। পোশাকশিল্প শুধু নয়, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে আমরা এসেছি। সব শিল্পের সঙ্গে অনেক কিছু ইনভলভড। সে কারণে আমরা এটা আবারও অনুরোধ করেছি। যেন এটাকে লকডাউনের বাইরে রাখা হয়, যেন বিষয়টা বিবেচনা করা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কারখানা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেহেতু ২৩ তারিখ থেকে লকডাউনে সবকিছু বন্ধ আছে, ঈদের আগে অলমোস্ট ১৮-১৯ তারিখ থেকে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে, সবকিছু অনেক দিন বন্ধ থাকার কারণে সবকিছুরই সরবরাহ ব্যবস্থায় একটা শর্টেজ হয়।

আমাদের এক্সপোর্ট যেটা আছে, তার সঙ্গে সঙ্গে লোকাল এবং পোর্টেও অনেক ইমপোর্টেড মাল আসে। জাহাজগুলো আনলোড করা, মালগুলো পোর্টে রাখার জায়গা থাকছে না। সে কারণে যদি কারখানাগুলো, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো না খোলে, পোর্ট থেকে কন্টেইনারে মাল রিলিজ না করলে একটা জটিলতার দিকে চলে যাচ্ছে।

এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান, এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআইর সাবেক সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হকসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারা।