মুক্ত আকাশে স্বস্তি ববিতার|307107|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০
মুক্ত আকাশে স্বস্তি ববিতার
আল মাসিদ

মুক্ত আকাশে স্বস্তি ববিতার

গতকাল শুক্রবার ছিল ঢালিউডের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতার ৬৮তম জন্মদিন। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষের কাছে তো বটেই, বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসেও নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ভিন্নধারার সিনেমাতেও তিনি ছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত। তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হননি এমন প্রজন্ম খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই সত্তরের দশকেই ববিতা বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ঘুরেছেন। বাংলাদেশের সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেই সময়ে দেশের সব গুণী নির্মাতারও পছন্দের তালিকায় ছিলেন তিনি। কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের মতো পৃথিবীখ্যাত নির্মাতার ‘অশনি সংকেত’ সিনেমাতেও।

দেশবরেণ্য এ অভিনেত্রীর জন্মদিনে ফেইসবুক যেন ববিতাময় হয়ে ওঠে। ভক্ত-দর্শকের পাশাপাশি শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনের বিখ্যাত তারকারা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন। তাকে নিয়ে এমন দারুণ সব কথা দেখে ভীষণ আপ্লুত এই নায়িকা। তিনি এখন ছেলের কাছে কানাডায়। সেখান থেকে বলেন, ‘জন্মদিনটি এলেই দুই রকম অনুভূতি হয়। প্রথমত এত মানুষের ভালোবাসায় মনে হয় জীবনে হয়ত ভালো কিছু কাজ করতে পেরেছি। নয়ত এত বছর পরও সেগুলো মানুষ এভাবে স্মরণ করত না। এভাবে আমাকে নিয়ে তাদের হৃদয় নিংড়ানো কথাগুলো সবার সামনে বলতে পারত না। আবার এটাও ভাবি যে বয়স বাড়ছে। মৃত্যুর দিকে একপা একপা করে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে এ দুই মিলিয়েই তো মানুষের জীবন। আমরা কেউই তার ব্যতিক্রম নই। ভালো থাকাটাই আসল।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনাকালে ঢাকায় ঘরবন্দি থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ভীষণ একঘেয়ে জীবনযাপন করছিলাম। কতক্ষণ আর ঘর পরিষ্কার, বই, পত্র-পত্রিকা পড়া আর টিভি দেখা যায়! তাই ছেলের কাছে কানাডা চলে এসেছি। এখানে অন্তত অত দম বন্ধ করা অবস্থা নেই। প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, দ্রুত আমাদের দেশের মানুষও যেন এই দম বন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। আর সবাই আমার ও আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন। যেন সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারি।’

জন্মদিন কীভাবে কাটল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে তো আর দেশের মতো করে জন্মদিন পালন করা সম্ভব নয়। কয়েক বছর ধরে ডিসিআইআইয়ের (ডিসট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল) শুভেচ্ছাদূত হওয়ায় আমার কাছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আসত। তাদের রান্না করে খাওয়াতাম। ওরা আমাকে গান শোনাত, নেচে দেখাত। আমার জন্য নানা ধরনের উপহার আনত। এবার ওদের মিস করেছি। এ ছাড়া চলচ্চিত্রের আমার অনুজ অনেকে স্বাভাবিক সময়ে বাসায় আসত, তাদেরও ভীষণভাবে মিস করব। তবে আমার ছেলে সব সময় দিনটিকে স্পেশাল করে তোলে। আমাকে কোনো না  কোনো সারপ্রাইজ দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসলে তার সঙ্গই আমার কাছে বিশেষ ভালোলাগার। অন্য কিছুর দরকার পড়ে না। তবে দেশ থেকে অজস্র মানুষের ভালোবাসাবার্তা পেয়েছি। পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে স্মরণ করা হচ্ছে জেনে আনন্দ লাগছে।’

জন্মদিনে এই কিংবদন্তিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ঢালিউডের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খান তার ফেইসবুক পেজে আফসোসের কথা লিখেছেনÑ ‘ষাট, সত্তর ও আশির দশকের সিনেমার অভিনেতা অভিনেত্রীদের ঘিরে পাশের দেশে কত কত সিনেমা নির্মিত হচ্ছে; অথচ ববিতা ম্যাডামদের মতো গুণী অভিনয়শিল্পীদের আমরা পরবর্তীতে আর ব্যবহারই করতে পারলাম না! তাদের জন্য যুতসই গল্প-চরিত্র নির্মাণ করতে পারলাম না! এজন্য বহুদিন তিনি সিনেমা থেকে দূরে। তার সঙ্গে আমার প্রায়ই কথা হয়। বর্তমান সিনেমার খোঁজখবর নেন। আগের মতোই মমতাময়ী মায়ের কণ্ঠে সঠিক দিকনির্দেশনা দেন। তার মতো গুণী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে মাঝেমধ্যে নিজেদের ব্যর্থতার কথাগুলোও স্মরণ করি। হয়তো এসব আফসোসও একদিন ঘুচবে। অন্তত ববিতা ম্যাডামের জন্মদিনে এমন প্রত্যাশাই জানিয়ে রাখলাম।’

সিনেমা থেকে দূরে থাকার বিষয়ে বরাবরই তিনি বলে আসছেন, ‘আমি কখনই বলিনি আর অভিনয় করব না। তবে এই বয়সে এসে এমন কোনো সিনেমা করতে চাই না যাতে কাজ শেষে মনে হবে সময় নষ্ট হয়েছে। মিনিংফুল গল্প ও চরিত্র পেলে অভিনয় করতে চাই। যদিও এখন করোনাকালে সেভাবে সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে না। তাই সহসা অভিনয়ে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

কানাডায় সময় কাটছে কীভাবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আছি কিচেনার শহরে। এখানে তো সবকিছু নরমাল। মাস্ক পরে নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। আমি প্রতিদিনই হাঁটতে বের হই। অনিকের সঙ্গে দোকানপাটে যাই। মুক্ত আকাশে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছি। আমার ভিসা তো সাড়ে চার বছরের। বর্ডার খুলে দিলে কানাডা থেকে ইউএসএতে যাব। দুই ভাই ওখানে থাকে। ভাইদের সঙ্গে কিছুদিন সময় কাটাতে চাই। এরপর দেশে ফেরার কথা ভাবা যাবে।’