ইন্টারনেট দুনিয়ার বিপ্লব ‘মেটাভার্স’|307116|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০
ইন্টারনেট দুনিয়ার বিপ্লব ‘মেটাভার্স’
রূপান্তর ডেস্ক

ইন্টারনেট দুনিয়ার বিপ্লব ‘মেটাভার্স’

কল্পনা করুন আপনার থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরের এক বন্ধু আপনার পাশে সোফায় বসে আছেন। কিংবা আপনি অফিসে বসেই সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন। এখন অবশ্য এই কল্পনার দৌড় বেশিদূর এগোচ্ছে না। কিন্তু বর্তমানের টেক জায়ান্টরা কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই এমন রিয়েলিটির দিকে এগোতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ শুরু করেছেন। আর যে বিষয়ের ওপর এত বিনিয়োগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে মেটাভার্স।

ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ মনে করছেন, নতুন এই প্রযুক্তি ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিপ্লব হয়ে আসবে। কল্পবিজ্ঞানের সম্ভাবনাকে বাস্তবতায় নিয়ে আসবে মেটাভার্স। আর তাই তো এমন প্রযুক্তি তৈরির কাজও শুরু হয়ে গেছে।

১৯৯২ সালে নিল স্টিফেনসনের ‘স্নো ক্র্যাশ’ উপন্যাসের চরিত্ররা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট ব্যবহার করে ডিজিটাল বিশ্বে বসবাসের গল্প হয়ে উঠে এসেছিল। সিলিকন ভ্যালির প্রকৌশলীদের কাছে এই উপন্যাস দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বলা হচ্ছে, ওই উপন্যাসের প্রভাবেই তৈরি হচ্ছে মেটাভার্স। বিভিন্ন কোম্পানি বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে এই প্রযুক্তিতে।

সম্প্রতি সেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন জুকারবার্গ। তিনি জানিয়েছেন, তার কোম্পানি মেটাভার্সের নিজস্ব ভার্সন তৈরি করবে। তার জন্য কোম্পানির মধ্যে একটি বিশেষ টিম তৈরি করেছেন তিনি। টেক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জে গত সপ্তাহে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুকারবার্গ বলেছেন, ‘এটা প্রযুক্তি দুনিয়ার পরবর্তী বড় অধ্যায় হতে চলেছে। আগামী পাঁচ বছরে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি থেকে মেটাভার্স কোম্পানিতে পরিণত হবে ফেইসবুক।’

মেটাভার্সের সংজ্ঞা এক একটা মানুষের কাছে এক এক রকম। কিন্তু মোটের ওপর আপনার চারপাশের পরিবেশকে ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার নামই মেটাভার্স। অগমেন্টেড রিয়েলিটি গ্লাসের মাধ্যমে আপনি যখন রাস্তাঘাটে চলাফেরা করবেন, তখন আপনার চোখের সামনে বিভিন্ন তথ্য দেখাতে পারবে এই প্রযুক্তি। তবে মেটাভার্স সম্পর্কে উৎসাহীরা এর বাইরেও অনেক কিছু করার কথা ভাবছেন। আপনি চাইলেই যেকোনো জায়গায় সরাসরি ভার্চুয়ালি পৌঁছে গিয়ে সেই জায়গা উপভোগ করতে পারবেন। মহামারীর সময় ডিজিটাল ভিডিও কলে অভ্যস্ত হওয়ার কারণেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব সহকর্মীকে ভার্চুয়ালি একঘরে নিয়ে আসার কথা ভাবছেন জুকারবার্গ।

শুধুমাত্র ডিজিটাল দুনিয়া নয়, গেমিংয়ের ক্ষেত্রেও বিপ্লব আনতে পারে মেটাভার্স। ফেইসবুক এমন একটি প্রযুক্তিতে লগ্নি করেছে, যেখানে সংস্থা মনে করে মানুষ এক জায়গায় বসে অন্য জায়গায় থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন। তার জন্য অ্যাকুলাসের মতো ব্র্যান্ড অধিগ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল কোম্পানিটি। তবে জুকারবার্গ স্বীকার করেছেন যে, এখন বাজারে যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটগুলো রয়েছে, তা দৈনন্দিন ব্যবহারের তুলনায় কিছুটা বড়।