চোখ ভেসে যায়|308590|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০
চোখ ভেসে যায়
আনোয়ারা সৈয়দ হক

চোখ ভেসে যায়

আমাদের চোখ ভেসে যায়, অশ্রু এসে আমাদের দুচোখ প্লাবিত করে দেয়, যখন বঙ্গমাতার কথা ভাবি। এই মহীয়সী নারীর অবদানের কথা লিখতে গেলে লেখা আর শেষ হবে না। যে স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা আজ বসবাস করি, যে স্বাধীন বাংলাদেশ তলাহীন ঝুড়ি থেকে মাথা উঁচিয়ে বিশ্বের দরবারে আজ সম্মানের সঙ্গে আসন পেতেছে, সেই বাংলাদেশের জন্মই হতো না যদি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা রেণু সাহস এবং বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে এসে না দাঁড়াতেন।

রাজনীতির ইতিহাস ঘাঁটলে কত ইতিহাস যে জানা যায়! কিন্তু সেসব শুধুই বীর রাজনীতিবিদদের ইতিহাস। সেখানে তাদের পেছনে নারীর অবদান এবং তাদের অশ্রুজলের কথা লেখা থাকে না। বঙ্গমাতা রেণুও আজ তাদের মধ্যেই হারিয়ে যেতেন যদি না নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মহামহিম বঙ্গবন্ধু অনুগ্রহ করে ফজিলাতুন নেছার কথা লিখে না যেতেন তার স্বহস্তে লিখিত আত্মজীবনীগুলোর ভেতরে।

তারপরও কথা থাকে। পৃথিবীর বহু প্রতিভাসম্পন্ন রাজনীতিবিদ, যাদের সংবাদ আমরা জানি না, শুধু মাত্র পরিবারের কারণে তারা রাজনীতি থেকে এককালে সরে গেছেন। কেউ কেউ জেলখানায় থেকে পরিবারের আগ্রহেই সারা জীবনের জন্য মুচলেকা লিখে জেল থেকে বেরিয়ে মহাকালের প্রবাহে মিশে গেছেন।

কারণ পরিবারের আছে এক অমোঘ আকর্ষণ, সে আকর্ষণের হাত এড়িয়ে রাজনীতির বিপদসঙ্কুল পথে এগিয়ে যাওয়া কোনো সহজ কাজ নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন তো সে রকমেরই হতে পারত। হলে আশ্চর্য কিছু হতো না। তার আত্মজীবনীতেই তো আছে একবার পরিবারের সঙ্গে মাত্র সাতদিন একনাগাড়ে কাটিয়ে আবার একাকী নদীপথে ঢাকায় ফেরার সময় মনে হয়েছিল, তার যেন এবার নিজের পরিবারের প্রতি একটু বেশি মায়া হয়েছিল! তাহলে আরও কিছুদিন তিনি যদি পরিবারের সঙ্গে থাকতেন, যে পরিবারে রেণু ছিল, বাচ্চারা ছিল, স্নেহশীল বাবা-মা ছিলেন, ছিলেন ভাইবোন, তখন সেই মায়ার বশে তিনি কি রাজনীতির অনিশ্চিত ডামাডোল থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন না? অবশ্যই পারতেন।

কারণ তার আগে ও পরে বহু রাজনৈতিক নেতা এরকম কাজ করেছেন। পরিবারের মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে তারা বেরিয়ে আসতে পারেননি। বাবা-মায়ের সজল চোখ, স্ত্রীর কান্নারত মুখ, ছেলেমেয়েদের পিতার গলা জড়িয়ে মুখ গুঁজে বাবার বুকে পড়ে থাকা, এইসব মায়ার বন্ধন ত্যাগ করে জেলখানায় ফিরে আসা কোনো স্বামী, পিতা কিংবা পুত্রের পক্ষে কি সম্ভব ছিল?

অনেক সময় সম্ভব ছিল না এবং এভাবে পৃথিবী তার বহু প্রতিভাবান ও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে। কালের অতলে তারা মিশে গেছেন।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পক্ষে সেটা করা সম্ভব ছিল না।

কারণ তিনি লক্ষ করতেন যতবার তিনি কলকাতা বা ঢাকার দিকে রওনা হতেন, তার বালিকা স্ত্রী রেণু কিছু টাকা হাতে করে গোপনে তার জন্য অপেক্ষা করছেন, টাকাগুলো তার হাতে তুলে দেবেন বলে। না, বিলাসিতা করবার জন্য নয়, নাটক বা সিনেমা দেখার জন্য নয়, রাজনীতি করতে গেলে যে খরচ হয়, তার কিছুটা সুরাহা করবার জন্য। এ টাকা রেণুর সংসার থেকে বাঁচানো টাকা নয়, এ টাকা ছিল রেণুরই নামে রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তির উপার্জন।

শ্বশুর-শাশুড়ি বা দেবর-ননদকে সাক্ষী রেখে তার দানের কথা জনসমক্ষে প্রচার করে নয়, গোপনে, সঙ্গোপনে।

আর তার এই মনোভাব দেখেই বঙ্গবন্ধু বুঝে যেতেন যে তিনি যে পথে তার জীবনকে চালিত করেছেন, তা যত বন্ধুর এবং সমস্যাসঙ্কুল পথই হোক না কেন, তার জন্য রেণুর পূর্ণ সমর্থন আছে। কারণ রেণু বেশি কথা খরচ করার মানুষ ছিলেন না। অযথা বায়না ধরার মানুষও ছিলেন না। ছেলেবেলা থেকে ছিলেন চুপচাপ, শান্ত। কিন্তু যেটা তার জীবনের কর্তব্য বলে মনে করতেন, সে ব্যাপারে তার মনে কোনো দ্বিধা বা ভয় ছিল না।

দেশভাগের আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করতেন। তখন ছিল মুসলিম লীগ, তিনি সোহরাওয়ার্দীর  হাত ধরে মুসলিম লীগের রাজনীতি করতেন। বিভাগপূর্ব কলকাতা ছিল তার কর্মক্ষেত্র। দেশ স্বাধীনের পর তিনি ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হলেন। কিন্তু মুসলিম লীগের অপরাজনীতি দেখে তিনি বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন। তখন পাকিস্তানের মুসলিম লীগ সরকার তাকে জেলে পাঠাল।

সেই থেকে জেলখানা হলো বঙ্গবন্ধুর ঘরবাড়ি। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি তখনকার পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় তার রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করতে লাগলেন। মুসলিম লীগ ত্যাগ করে বয়স্ক নেতাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠন করলেন। যে ঢাকা ছিল বিভাগপূর্ব কালে বঙ্গবন্ধুর অচেনা ও বন্ধুহীন একটি শহর, সেই ঢাকাই হয়ে উঠল তার রাজনীতির কর্মক্ষেত্র।

আর সবুজ শ্যামলিমায় ভরা শান্ত নিরুপদ্রব টুঙ্গিপাড়া গ্রামের সহজ-সরল গৃহবধূ ফজিলাতুন নেছা রেণু কী করলেন? যা করলেন তা প্রায় অবিশ্বাস্য।

তিনি ততদিনে ৩ ছেলেমেয়ের মা হয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর জেলখানার সহচরী হওয়ার জন্য চলে এসেছেন ঢাকায়। তিনি জেলে থাকতে পারবেন না, জানেন, কিন্তু জেলখানার কাছে তো থাকতে পারবেন। বঙ্গবন্ধু ও তার সমমনা রাজবন্দিদের জন্য খাবারটা তো জেলখানায় পৌঁছে দিতে পারবেন! বঙ্গবন্ধু তো বলেছিলেন, ‘রেণু তুমি দেশে ফিরে যাও, আমি কবে জেল থেকে মুক্তি পাব, জানি না, এই অচেনা, অজানা শহরে তুমি তিন তিনটে নাবালক ছেলেমেয়ে নিয়ে কীভাবে বসবাস করবে?’

বঙ্গমাতা মন দিয়ে তার কথা শুনেছিলেন, কিন্তু কোনো উত্তর দেননি। কারণ ততদিনে তিনি আর গ্রাম্য বালিকা নন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত একজন রমণী। তিনি তখনই বুঝেছিলেন যে এই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে বঙ্গবন্ধুর অর্থ দরকার, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী দরকার, সেইসব কর্মীরও দেখভাল করা দরকার, কারণ তারাও কোনো না কোনো পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তাদেরও স্ত্রী-ছেলেমেয়ে আছে, বাবা-মা-বোন আছে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে তারা রাজনীতি করতে নেমেছেন বলে তো পরিবারের দায়িত্ব একেবারে ভুলে যাননি। তো এইসব দায়িত্ব পালন কে করবে? বঙ্গবন্ধু তো নিজের পরিবারেরই কোনো তোয়াক্কা করেন না, তো এদের কী হবে?

একবার তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ঢাকায় এসে রেণু আর ফিরে গেলেন না। কিন্তু ঢাকা শহরে বাড়ি ভাড়া করা কি কম ঝামেলার! বাড়ি ভাড়া নিতে গেলেই বাড়িঅলার প্রশ্ন, মা, আপনার স্বামী কী করেন? তিনি রাজনীতি করেন। বাড়িঅলা উত্তর শুনে অবাক। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার নাম ছিল তখন রাজনীতি করার অর্থ। তার নাম কি, মা? বাড়িঅলার জিজ্ঞাসা। তার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। স্বামীর নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে কি রেণুর গলাটা কেঁপে যায়? কিন্তু সেটা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।

কিন্তু নাম শুনে বাড়িঅলার নিজের গলা কেঁপে যায়। তড়িঘড়ি করে বলে ওঠেন, ওরে বাবা, শেখ মুজিব? শেখ মুজিবুর রহমান? যাকে পুলিশ রাতদিন খুঁজে বেড়ায়? না, না না, এখানে বাড়ি ভাড়া হবে না, অন্য জায়গায় দেখুন। পুলিশের দৌরাত্ম্য সহ্য করতে পারব না। পাড়ায় বদনাম হয়ে যাবে।

তিনটে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে মায়ের পেছনে দাঁড়িয়ে বাড়িঅলার কথা শোনে। কিন্তু তারা এই বৈরী ব্যবহারের মানে বুঝতে পারে না। কারণ তাদের বাবার সঙ্গে যখন জেলখানায় মাঝে মাঝে দেখা হয়, সেই বাবা তখন এমন করে তাদের আদর করেন যে, এতদিন বাবাকে যে চোখে দেখেনি, সেই দুঃখও তারা ভুলে যায়।

কিন্তু বাড়িঅলার হেনস্তা শুনে গ্রাম্যবধূ রেণুর কিছু আসে যায় না। তিনি বাড়িভাড়ার জন্য বাড়ি খুঁজে বের করবেনই। খুঁজতে খুজতে বাড়িও পেয়ে যান। তবে কখনো সেটা গে-ারিয়ার রজনী চৌধুরী লেনে, কখনো সেটা নাজিরা বাজারের গলিতে, কখনো সেগুন বাগিচায় যেখানে পানি নেই, ইলেকট্রিসিটি নেই। কিন্তু তাতে কি। শেখ মুজিবের জেলখানার তো কাছাকাছি।

ততদিনে শেখ মুজিবের আওয়ামী কর্মী বাহিনী তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু রেণুর কর্মকান্ড এবং মনোভাব দেখে মনে মনে বিস্মিত মুজিব এখন তার বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা মামলার জন্য রেণুকেই যেতে বলছেন উকিলের বাসায়, সরকারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করবার জন্য। তিনি জেলখানায় থাকলেও তার মাথার ওপর কমসে কম ১৪টা মামলা ঝুলছে। সেগুলোর বিচার পাকিস্তান সরকার এমনভাবে করবে যেন শেখ মুজিব জীবনেও জেল থেকে বেরোতে না পারেন। এসব নীলনকশা শেখ মুজিবের জানা আছে।

কিন্তু তিনি এখন তার দলকে নয়, দল তার নির্দেশের অপেক্ষায় সর্বদাই বসে আছে। তবু তিনি গ্রামে বেড়ে ওঠা, উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত ফজিলাতুন নেছা রেণুকেই বলছেন, উকিলের দপ্তরে গিয়ে মামলার তদ্বির করতে। তিনিই এখন শেখ মুজিবের অতিশয় বিশ্বাসী হাত নুড়কুড়। তাকেই মামলার কাগজপত্র গুছিয়ে উকিলের বাসায় ঢুঁ মারতে হচ্ছে। পার্টি সদস্যদের কাছে শেখ মুজিবের নির্দেশ পৌঁছে দিতে হচ্ছে, ছোট্ট রাসেলকে কোলে নিয়ে, গায়ে বোরকা জড়িয়ে, পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে দৌড়াতে হচ্ছে। বঙ্গমাতা রেণু, যে রেণু পাখিডাকা এক অজপাড়াগাঁয়ে শ্যামল সবুজের নিবিড় ছায়ায় নিরীহ সরল মনে পৃথিবীর ঘোরপ্যাঁচ না জেনে বড় হয়ে উঠেছেন। যে অচেনা ঢাকার রাস্তাঘাট তাকে প্রতি নিয়তই নতুন করে জানতে হচ্ছে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু যতই এখন রেণুকে দেখছেন, ততই বিস্মিত হচ্ছেন। আগে তার ডায়েরির রোজনামচায় রেণুকে রেণু বলে সম্মোধন করতেন, রোজনামচার পাতা পাঠক এখন যত ওল্টাচ্ছেন, ততই লক্ষ করছেন যে রেণুকে তিনি এখন বেগম সাহেবা বলে সম্বোধন করছেন! যেন রেণুর ক্ষমতা এবং বুদ্ধিমত্তা রেণুকে তার কাছে ভালোবাসার বাইরেও শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলছে। তিনি যেন এই প্রাক-পঞ্চাশ বয়সেও জেলখানায় বসে তার ছেলেবেলার সাথী রেণুকে আবিষ্কার করে চলেছেন!

রেণু এখন ধানম-িতে তার নিজের হাতে গড়ে তোলা বাড়িতেই আওয়ামী লীগের সভা হতে দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনেই হচ্ছে। ফজিলাতুন নেছা রেণুর বাড়ির রান্নাঘরে এখন ডজনকে ডজন কাপ শোভা পাচ্ছে। কারণ কর্মীরা সভা শেষে কেউ চা না খেয়ে বাড়ি যায় না। কর্মীদের বিশেষ সভা হলে কেউ ভাত না খেয়েও বাড়ি ফেরে না। রেণু নিজের হাতে এবং তদারকে সে সব রান্না করেন। ‘ভাবী’ রেণুকে না হলে কর্মীদের চলে না। তাদের যে কোনো সমস্যায় বঙ্গবন্ধু এখন কর্মীদের নির্দেশ দেন, তোমাদের ভাবীকে বলো। বাড়ি ভাড়া দিতে পারছ না? ভাবীকে বলো। মেয়ের বিয়ে দিতে পারছ না? ভাবীকে বলো। বাড়ি ফিরে যাওয়ার গাড়িভাড়া নেই? ভাবীকে বলো।

যেন বঙ্গবন্ধুর অজান্তেই ফজিলাতুন নেছা রেণু হয়ে উঠলেন আওয়ামী লীগের একজন বিশেষ কর্মকর্তা এবং ট্রেজারার। আর এই রেণুকেই কিছু বছর আগে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, রেণু বাড়ি ফিরে যাও। এখানে, তোমার জন্য এই অচেনা শহরে, আত্মীয়-পরিজনহীন শহরে তিন তিনটি ছেলেমেয়ে নিয়ে একাকী বসবাস করা কঠিন হবে। তুমি বাড়ি ফিরে যাও, তোমার সেই নিজের গৃহে, নিজের ছেলেবেলার পরিবেশে। আমাকে এখানে রাজনীতি করতে দাও। জেলখানায় বসবাস করতে দাও।

নিজের পরিশ্রম এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফলে তিনি ঢাকার ধানম-িতে একটি বাসস্থান গড়ে তোলেন যা পরবর্তী সময়ে রাজনীতিবিদদের জন্য একটি সভাস্থলে পরিণত হয় এবং বাংলা ও বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যা বর্তমানে জাদুঘরে পরিণত হয়েছে।

বঙ্গমাতা যখন জীবিত ছিলেন তখন তার নাম কি আমরা খুব বেশি উচ্চারিত হতে শুনেছি? মোটেও নয়। প্রথম তার নাম আমরা জানতে পারি যখন তিনি আগরতলা মামলায় ঘাগু রাজনীতিবিদদের অনুরোধ না মেনে বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি নিতে নিষেধ করেন। সেই প্রথম আমরা বঙ্গমাতার রাজনীতির অঙ্গনে কোনো অ্যাকটিভ ভূমিকার কথা জানতে পেরেছিলাম। তার আগেও নয়, পরেও নয়।

জীবনের এ রকম এক কর্কশ যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি হিমালয় পর্বত পার হয়েছিলেন, নীরবে নিভৃতে তিনি বাংলা ও বাঙালির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সেই কথা মনে পড়ে এখন আমাদের চোখ ভিজে যায়, অশ্রুতে ভেসে যায় চোখ। আরও দুঃখ লাগে যখন ভাবি যে ৮ আগস্টে এই মহীয়সী নারীর জন্মদিন তার ঠিক সাত দিন বাদেই হলো তার মৃত্যুদিন। মাত্র সাতদিন আগেই তার বাড়িতে কত হাসিখুশির আসর বসেছিল! কত কথা, কথা প্রশংসা, কত ভালোবাসা, কত শ্রদ্ধা, আরও কত- কত- কত। অথচ তার মাত্র সাতদিন বাদেই তার সংসারে নেমে এলো দানবের তান্ডব।

আজ তোমার জন্মদিনে তোমাকে আমরা স্মরণ করি, মাতা। যতদিন এই বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন তোমার কীর্তির কথা দেশের মানুষ ভুলবে না। তুমি চিরজীবী হও, বঙ্গমাতা। তোমাকে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন।

লেখক : মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক