নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারিগরসহ তিনজন গ্রেপ্তার: সিটিটিসি|309232|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২১ ১৮:১৪
নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারিগরসহ তিনজন গ্রেপ্তার: সিটিটিসি
নিজস্ব প্রতিবেদক

নব্য জেএমবির বোমা তৈরির কারিগরসহ তিনজন গ্রেপ্তার: সিটিটিসি

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষক ও বোমা তৈরির কারিগরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সিটিটিসি।

সিটিটিসি জানায়, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছে থেকে বিস্ফোরকদ্রব্য, ঢাকনাযুক্ত জিআই পাইপ, রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস, লোহার বল, মুঠোফোন ও ট্যাব উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. জাহিদ হাসান ওরফে রাজু ওরফে ইসমাঈল হাসান ওরফে ফোরকান, সাইফুল ইসলাম মারুফ ওরফে বাসিরা ও মো. রুম্মান হাসান ওরফে ফাহাদ ওরফে আবদুল্লাহ।

সিটিটিসির ভাষ্য, জাহিদ কাতারপ্রবাসী। তিনি নব্য জেএমবির বোমা তৈরির প্রধান প্রশিক্ষক ও প্রস্তুতকারক। তিনি অনলাইনে বিভিন্ন গোপন অ্যাপ ব্যবহার করে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিতেন। জাহিদের সহযোগী সাইফুল ও রুম্মান।

সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জাহিদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক করেছেন। জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হওয়ায় তিনি স্নাতকোত্তর করতে পারেননি। তিনি ২০১৬ সালে জেএমবির তৎকালীন আমির মুসার হাত ধরে সংগঠনে যোগ দেন। রসায়নের ছাত্র হওয়ায় তিনি অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেনেড ও বোমা বানাতে দক্ষ হয়ে ওঠেন। তিনি নিত্যনতুন কৌশলে আইইডি প্রস্তুত করেন। সংগঠনে যাঁরা বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করতেন, তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতেন জাহিদ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, নব্য জেএমবির শীর্ষ জঙ্গিরা যখন গ্রেপ্তার হচ্ছিলেন, তখন জাহিদ আত্মগোপনে চলে যান। সংগঠনকে আবার সংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি সক্রিয় হন। তিনি বাছাইকৃত সদস্যদের অনলাইনে টাইম বোমা ও রিমোট কন্ট্রোল বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিতেন। সাইফুলও বোমা তৈরিতে দক্ষ। তিনি অনলাইনে জাহিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এ ছাড়া রুম্মানও সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, জাহিদ পুলিশকে জানিয়েছেন, বড় বড় কেমিক্যাল কোম্পানি থেকে বিস্ফোরক নিয়ে আইইডি বানানো হতো। ড্রোন বানাতেও দক্ষ জাহিদ। তিনি বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন দিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, নারায়ণগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশ বক্সসহ অনেক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন জাহিদ। তিনি একাধিকবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৈঠক করেছেন। সাইফুলও স্বীকার করেছেন, তিনি বেশ কয়েকটি বোমা হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে তহবিল গঠনের পরিকল্পনায় টঙ্গীতে একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাফরল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে বলে জানায় সিটিটিসি। তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিটিটিসির পক্ষ থেকে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।