তালেবানের সামনে নতুন আফগানিস্তান তৈরির সম্ভাবনা|313723|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৪:৫১
তালেবানের সামনে নতুন আফগানিস্তান তৈরির সম্ভাবনা
এম হুমায়ুন কবির

তালেবানের সামনে নতুন আফগানিস্তান তৈরির সম্ভাবনা

এম হুমায়ুন কবির

কূটনীতিক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বর্তমানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার মধ্য দিয়েই কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিন দশকেরও বেশি সময় কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিজি ও নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও কলকাতায় উপ-হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন উচ্চতর পদে আসীন ছিলেন। কাজ করেছেন জাতিসংঘে। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা, একদা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো বিশ্ব শক্তিগুলোর নতুন মেরুকরণ এবং তালেবানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে জাতীয় সংহতির সম্ভাবনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : আমরা জানি, ২০০১ সালে নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে নাইন/ইলেভেনের ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বহুল সমালোচিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আফগানিস্তানে তালেবানি শাসনের পতন হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী ২০ বছর পর ধরে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক অধিগ্রহণের পক্ষেও মূল যুক্তি ছিল এই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ। এখন আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে কি সেই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল? নাকি এখন সেই যুদ্ধের কোনো নতুন রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে? এর মধ্যে দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিরও একটা রূপান্তর ঘটছে?

এম হুমায়ুন কবির : আপনি যে প্রশ্নটা দিয়ে শুরু করলেন সেটা বেশ জটিল বটে। বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি যে যুক্তরাষ্ট্রের বিগত দুই দশকের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ বা সন্ত্রাসবাদ দমনকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতিতে একটা পরিবর্তন আনার বিষয়ে সচেষ্ট, সেটা বোঝা যায়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে স্নায়ুযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রের যে একচ্ছত্র আধিপত্য তারই সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী পররাষ্ট্রনীতি যুক্ত করা হয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট বুশ, ওবামা এবং খানিকটা ব্যতিক্রম হলেও ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন প্রশাসনও সেই নীতির অনুসরণ করেছেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষত ইরাক ও সিরিয়াসহ অন্য দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পররাষ্ট্রনীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাবও আমরা দেখেছি। সবশেষ ইরানের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন সেটাকেও এই নীতিরই অংশ বলা যেতে পারে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাইডেন এসে কিন্তু বললেন, বাইরের পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখতে চাইলেও আমরা পররাষ্ট্রনীতিকে কাজে লাগাতে চাই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তের জন্য সুযোগ তৈরির জন্য।

বাইডেন প্রশাসন এটাকে বলছে, ‘ফরেন পলিসি অব দ্য আমেরিকান মিডল ক্লাস’। মূল কথাটা হচ্ছে, পররাষ্ট্রনীতি উৎসারিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে এবং সেই নীতির সুফলও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে পেতে হবে। সেই অর্থে এটা কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতির ঠিক উল্টো চেহারার কথাই তিনি বলছেন। সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে ইরাকে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তানে ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এরই নেতিবাচক প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ের আর্থিক সংকট এমনকি এই করোনা মহামারীর সময়েও সেখানে যে সংকট দেখা যাচ্ছে সেসবও এই পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বাইডেন প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতির একটি মৌলিক গুণগত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, বাইরের পৃথিবীতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তার তিনি চান না। তিনি হয়তো একটা রূপান্তর চান। সেক্ষেত্রে তিনি সম্ভবত চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিমিত্তেই পররাষ্ট্রনীতিকে পুনর্বিন্যস্ত করতে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে যতটুকু প্রয়োজন সন্ত্রাসবিরোধী নীতিও হয়তো ততটুকুই থাকবে। আপাতত এমনই মনে হচ্ছে। তবে আরও সময় গেলেই বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যাবে।        

দেশ রূপান্তর : আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের শেষ দিনগুলোয় সবচেয়ে বড় হামলাটি চালিয়েছে ‘আইএস-কে’ বা আইএসের খোরাসান শাখা। কাবুল বিমানবন্দর এলাকায় ওই হামলায় ১৩ মার্কিন সেনাসহ ১৭০ জনের বেশি নিহত হন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্ক মিলি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আইএস-কে’ জঙ্গিদের দমনে ভবিষ্যতে তালেবানের সঙ্গে কাজ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তাহলে বিষয়টি কী দাঁড়াচ্ছে? যে তালেবানকে দমনে যুক্তরাষ্ট্র দুই দশক আফগানিস্তানে ছিল সেই তালেবান এখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে?

এম হুমায়ুন কবির : আসলে ইতিহাস তো একটা নিরন্তর প্রক্রিয়া। স্থান-কাল-পাত্র এবং রাজনীতি ও রণনীতির কারণে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়। যেমনটা দেখা গেছে যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা মুজাহিদিন বাহিনী তৈরি করল, আবার রাশিয়ার প্রস্থানের পর মুজাহিদিনদের নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু হলো এবং তাদেরই একটা অংশ তালেবান হিসেবে আবির্ভূত হলো। আবার তালেবানের বিরুদ্ধে বিশ বছর ধরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই চালিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র। এখন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সেখানে আরেকটা রূপান্তর ঘটছে। আসলে এখানে আদর্শের চেয়েও প্রয়োজনটাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। লক্ষ্য করেন, একসময় যে রাশিয়াকে আফগানিস্তান থেকে হটাতে তালেবানের পূর্বসূরিরা লড়াই করেছিল সেই রাশিয়াও কিন্তু এখন তালেবানের মিত্রে পরিণত হয়েছে। এখানে রাষ্ট্র এবং প্রাতিষ্ঠানিকতার একটা বিষয় আছে। রাশিয়াবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা যে মুজাহিদিনদের সহায়তা করেছিল তারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে ছিল। কিন্তু এখন তালেবানরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হতে যাচ্ছে আর আইএস এমন প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরের শক্তি। আসলে কে কার শত্রু বা মিত্র হবে, সেটা অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

কয়েক বছর আগে আইএস বা ইসলামিক স্টেটের উত্থান পর্বে যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈত ভূমিকা পালন করেছিল বলেই মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বিশ্লেষকরা দাবি করেন। বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল প্যাট্রিয়ার্ক ‘সুন্নি এওয়ারনেস প্রোগ্রাম’-এর অধীনে সুন্নিদের হাতে অস্ত্র দিয়েছিলেন যাতে সুন্নিরা শিয়াদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে পারে। সুন্নি এওয়ারনেস গ্রুপের যোদ্ধারাই কিন্তু পরবর্তীকালে ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। আবার যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। ফলে এই বিষয়গুলো কোনো নির্ধারিত সূত্র অনুসারে যে ঘটে না সেটা দেখাই যাচ্ছে।   

দেশ রূপান্তর : এবার একটু আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে শুনতে চাইব। ভৌগোলিক অবস্থান যেমন শত শত বছর ধরে আফগানিস্তানে বিদেশিদের টেনে এনেছে, তেমনি কোনো বিদেশি শক্তিই দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে দখলদারিত্ব বজায় রাখতে পারেনি। অন্যদিকে, এই ভূখণ্ডের পাখতুন, তাজিক, উজবেকসহ নানা জাতি-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক বিভেদ বরাবরই দেশটিতে জাতীয় সংহতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন চীন-রাশিয়ার মতো পরাশক্তির সমর্থন কিংবা সামরিক ও রাজনৈতিক বিজয় যা-ই ঘটুক না কেন, চরমপন্থি মতাদর্শ অনুসরণকারী তালেবানের পক্ষে কি আফগানিস্তানে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মনে করেন? 

এম হুমায়ুন কবির : আফগানিস্তানে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আপনার প্রশ্নের মধ্যে ‘চরমপন্থি মতাদর্শ’ বলে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সেটা একটু স্পষ্ট করা দরকার। এই প্রশ্ন খুবই যৌক্তিক যে, কোনো চরমপন্থি মতাদর্শ আর জাতীয় সংহতি কি একসঙ্গে হতে পারে? আমারও মনে হয় পারে না। কিন্তু এই দুটো বিষয়ের একসঙ্গে চলতে না পারার বিষয়টিই হয়তো এখন আফগানিস্তানে একটা নতুন সংহতির সম্ভাবনার ভিত্তি হতে পারে। কেননা, আসলে তালেবান সম্পর্কে এমন ধারণাগুলো এসেছে বিগত দশকগুলোতে তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে। কিন্তু এখন তালেবানি শক্তির মধ্যেই বিগত দশকগুলোতে অনেক রূপান্তর ঘটেছে। নতুন একটা প্রজন্ম তালেবানে এসেছে এবং নেতৃত্বেও অনেক গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে। এক্ষেত্রে একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, আসলে আফগানিস্তানে গত পাঁচশ বছর ধরে এমন একটি সামন্তীয় কাঠামোর সমাজ প্রতিষ্ঠিত যার তেমন কোনো আধুনিক রূপান্তর ঘটেনি। ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে ক্ষমতায় এসে বামপন্থি সামরিক কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তারাকি আফগানিস্তানকে খানিকটা আধুনিকতার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পারেননি। এরপর হাফিজুল্লাহ আমিন একই চেষ্টা করেছেন। পারেননি। ব্যর্থ হয়েছেন। বারবাক কারমাল সোভিয়েতদের সমর্থনে এসে চেষ্টা করেছেন। পারেননি। অর্থাৎ বাইরে থেকে এসে ব্রিটিশরা যেমন পারেনি, রাশিয়ানরা যেমন পারেনি, বিশ বছর ধরে চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্রও সেটা পারেনি। আর ভেতর থেকে যে বদল সেটাও ঘটেনি। এর নেপথ্যে কিন্তু ওই বহু জাতি-গোষ্ঠী-গোত্রের বিভক্তি আর বিভেদ। এখানে আরেকটা বিষয় খেয়াল করা দরকার। তালেবানরা এখন ক্ষমতায় আসার আগেও কিন্তু আফগানিস্তান ইসলামিক রিপাবলিকই ছিল। আশরাফ গণির সরকারের সময়ও সাংবিধানিকভাবেই এটা ইসলামিক রিপাবলিকই ছিল। তখনো কিন্তু শরিয়া আইন প্রচলিত ছিল। তালেবান যেমন নব্বই দশকের আফগানিস্তানে একটা নতুন মাত্রা যুক্ত করেছিল, এবারও হয়তো তারা আরেকটা মাত্রা যুক্ত করতে পারে। সেই মাত্রাটা কি তার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কী করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দেশ রূপান্তর : তালেবান এখন আফগানিস্তানে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে এমন ধারণার পক্ষে কী যুক্তি আছে?

এম হুমায়ুন কবির : কারণ তালেবানের সামনে এখন আধুনিক আফগানিস্তান তৈরির একটা বড় সুযোগ এসেছে। কেননা, এর আগে আর কোনো শক্তিই এককভাবে প্রায় পুরো আফগানিস্তানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আর এ কারণেই আফগানিস্তানের ভেতর উৎসারিত একটা শক্তি হিসেবে একটা জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার সুযোগও তালেবানের সামনে উপস্থিত হয়েছে। সামরিক বিজয়ের পর তালেবান চাইলে এককভাবে সরকার গঠনের ঘোষণা দিতে পারত। কিন্তু দুই-আড়াই সপ্তাহ ধরে তালেবান যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সেটাও ইতিবাচক লক্ষণ। লক্ষ্য করুন, তালেবানের প্রেস উইংয়ের নেতা জবিউল্লাহ প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছেন, আমরা আফগানিস্তানের পরিবর্তিত অবস্থার বিষয়টা অনুধাবন করি। আবার এখন যারা দেশ ছেড়ে যেতে চাইছে, তালেবান তাদেরও বলছে যে, তোমরা যেও না। কারণ তারা হয়তো ভাবছে এই মানুষরা চলে গেলে দেশ চালাতে সমস্যা হবে।

দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হলো, একসময়ের পাকিস্তানি মাদ্রাসা থেকে আসা যোদ্ধাদের তালেবান আর এখনকার তালেবানের মধ্যেও অনেক পার্থক্য আছে। নতুন একটা প্রজন্ম যেমন আছে তেমনি নেতৃত্বেরও অনেক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। খেয়াল করুন গত দেড়-দুই বছর ধরেই তালেবান নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য যথেষ্ট দক্ষতা ও সামর্থ্যরে প্রয়োজন আছে। এই নেতৃত্ব দীর্ঘদিন কাতারে নির্বাসিতও ছিল। এর মধ্য দিয়ে তালেবানি নেতৃত্বের আরেক রকম আন্তর্জাতিক এক্সপোজার তৈরি হয়েছে।

তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেমন তেমনি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে তালেবানের সমঝোতাকেও গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে। খেয়াল করা দরকার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রেও কিন্তু যেসব শর্ত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, তালেবানের আর কোনো সন্ত্রাসবাদী বা জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত না থাকা কিংবা বিস্তারে সহায়তা না করা। ফলে পুরনো অভিজ্ঞতার আলোকে তালেবানকে বিচার করলে বর্তমানের পরিবর্তিত বাস্তবতা বোঝা যাবে না।