ভিসি সোবহানের সেই ১৩৮ নিয়োগ হাইকোর্টে স্থগিত|314020|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
ভিসি সোবহানের সেই ১৩৮ নিয়োগ হাইকোর্টে স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও রাজশাহী

ভিসি সোবহানের সেই ১৩৮ নিয়োগ হাইকোর্টে স্থগিত

চার মাস আগে বিদায়বেলায় রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান যে ১৩৮ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট। তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত এসব নিয়োগ বাতিল ও আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে রুল জারি করেছে। এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। বিতর্কিত এই নিয়োগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলাকালে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ এলো।

এদিকে স্থগিতাদেশের প্রতিক্রিয়ায় বিতর্কিত ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ারা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, তারা এ ব্যাপারে হাইকোর্টে আপিল করবেন। আর রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ বলছে, আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আদালত যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ীই বিশ^বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ কাজ করবে।

বিদায়বেলায় ভিসি সোবহানের দেওয়া নিয়োগ বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে গত ৩১ অগাস্ট কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষে রিট আবেদনটি করা হয়। গতকাল আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, আদালতের রুলে বলা হয়েছে, পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর বিধান ও নিয়োগনীতি লঙ্ঘন করে গত ৫ ও ৬ মে এম আব্দুস সোবহানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ কেন অবৈধ ও আইনগত কর্র্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না? সেই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা সচিব,

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। শিক্ষা সচিব, বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও সাবেক উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নিয়োগনীতিমালা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

হাইকোর্টের রুলের পর তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুস সোবহানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটি ৬০ দিনের মধ্যে দুদককে প্রতিবেদন আকারে জানাতে বলেছে হাইকোর্ট।’ 

হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চমান সহকারী হিসেবে নিয়োগ (বিতর্কিত ওই নিয়োগ) পাওয়া এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের  চলমান আন্দোলনের আহ্বায়ক ওমর ফারুক ফারদিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কোর্টের আদেশ জেনেছি। আমরা এটিকে আইনগতভাবেই দেখতে চাই। আমরা হাইকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই।’

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যমেই জেনেছি আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে। এখনো কোনো কাগজ পাইনি। এটি পেতে সময় লাগে। আদালতের কপি হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আমরা কাজ করব। আদালত যে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব। এর বাইরে আমাদের বলার কিছুই নেই। কিছু করারও নেই।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গত ৬ মে ছিল অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের শেষ কর্মদিবস। কিন্তু শেষ দিনে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে ১৩৮ জনকে ‘অ্যাডহক’ (অস্থায়ী) ভিত্তিতে নিয়োগ দেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ পাহারায় উপাচার্যের বাসভবন ছাড়েন অধ্যাপক সোবহান। ওই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। একই দিনে ওই নিয়োগের কার্যকারিতা স্থগিত করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মো. আলমগীরকে ওই কমিটির প্রধান করা হয়। গত ২৩ মে তদন্ত কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে ১৩৮ জনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ভিসি সোবহানসহ দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।