দেড় মাসেও চালু হয়নি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড সব হাসপাতাল|314368|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
দেড় মাসেও চালু হয়নি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড সব হাসপাতাল
প্রতীক ইজাজ

দেড় মাসেও চালু হয়নি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড সব হাসপাতাল

ঘোষণার দেড় মাসে দেশে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ছয় হাসপাতালের মধ্যে মাত্র একটি হাসপাতাল চালু করতে পেরেছে সরকার। এই ছয়টি হাসপাতালের পাঁচটি ঢাকায় ও একটি ঢাকার বাইরে গাজীপুরে। এর মধ্যে ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ঘোষণা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলছে। ঢাকার বাকি চারটি হাসপাতালে এখনো ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়নি। এসব হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামাদি চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এখনো এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এ চার হাসপাতালকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসা শুরু করতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঢাকার ডেঙ্গু ডেডিকেটেড চার হাসপাতালের মধ্যে কমলাপুরের রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এখনো ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পায়নি। গত বছর এ হাসপাতালকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সেবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ হাসপাতালে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। কিন্তু এবার এখনো রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে ঢাকার মিরপুর লালকুঠি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গর্ভবতী নারী ও নবজাতক শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ হাসপাতালকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও এখানে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এমনকি এ সংক্রান্ত সঠিক কোনো নির্দেশনাও হাসপাতালে পৌঁছায়নি।

অবশিষ্ট দুই হাসপাতালের মধ্যে কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতালে আগামী শনিবার থেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক। এজন্য সেখানে আজ থেকে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আর আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতাল সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে হওয়ায় এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অথচ এ ছয় হাসপাতালকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে দুই দফায় ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেড় মাস আগে গত ২৫ জুলাই প্রথম ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সেদিন তিনি বলেন, করোনার চিকিৎসা আর ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা এক হাসপাতালে দেওয়া সম্ভব নয়। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা হাসপাতাল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেদিনই তিনি এ ছয় হাসপাতালের নাম ঘোষণা করেন। পরে গত ২৩ আগস্ট সর্বশেষ আরেক দফা ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সেদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড হাসপাতাল), রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, আমিনবাজার ২০ শয্যা হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতাল ও ঢাকার বাইরে গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালকেও ডেঙ্গু ডেডিকেটেড করা হয়েছে।

দেড় মাসেও সব ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালু করা গেল না কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া গতকাল বুধবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নানা কারণে এখনো চালু করতে পারিনি। কারণ যেগুলোকে ডেডিকেটেড বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আমাদের সেবা বিভাগের বাইরের হাসপাতাল। একটা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে আর একটা আছে ঢাকা জেলার অধীনে। একটা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে, একটা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এগুলো চালু করা কঠিন।’

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটা জুম মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম। ছয়টির মধ্যে ঢাকায় একটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আরেকটি ঢাকার বাইরে গাজীপুরে চালু হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরে আগে থেকেই রোগী ভর্তি করছে। বাকি হাসপাতালগুলো বিভিন্ন কারণে এখনো চালু করতে পারিনি। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ লোকবল, যন্ত্রপাতি, পথ্য এসব চেয়ে চাহিদাপত্র দিয়েছে। চাহিদাগুলো পূরণ করার জন্য আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখেছি। যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এখনো অনুমোদন পাইনি, সেহেতু চালু করতে পারিনি।’

অবশ্য সব কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালকে নন-কভিডের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করতে গতকাল চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে এসব হাসপাতালকে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গতকাল পাঠানো চিঠিতে কভিডের পাশাপাশি নন-কভিড চালু করার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, ‘ডেঙ্গু হাসপাতালগুলো চালু না হলেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারব। যেহেতু কভিড আক্রান্ত ও ভর্তির সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তাই সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড যেসব হাসপাতাল আছে, তাদের বলেছি কভিডের পাশাপাশি নন-কভিড রোগী ভর্তি করতে। যেমন ডিএনসিসি কভিড হাসপাতাল। সেখানে অনেক সিট খালি আছে। তাদের বলেছি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করতে। তাই ডেঙ্গু হাসপাতাল হিসেবে যেগুলো ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো চালু না হলেও আমরা ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা করতে পারব।’

অথচ এই দেড় মাসে দেশে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এ বছরের শুরু থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৬৯০ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩২, ফেব্রুয়ারিতে ৯, মার্চে ১৩, এপ্রিলে ৩, মে মাসে ৪৩, জুনে ২৭২, জুলাইয়ে ২ হাজার ২৮৬ ও আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন। এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৪১২ জন অর্থাৎ জুলাই মাসে প্রায় আড়াইগুণ রোগী বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই জুলাই মাসের চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। মৃত ৫৩ জনের মধ্যে জুলাই মাসে ১২, আগস্টে ৩৪ এবং সেপ্টেম্বরে ৭ জনের মৃত্যু হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৫৬ এবং মারা গেছে ১ জন। যার মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১২ এবং ঢাকার বাইরে ৪৪ জন। আর এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৬৯০ জন। ভর্তি রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১ হাজার ৩৯৫ জন।

চালু হয়েছে একটি : ঢাকায় ডেঙ্গু ডেডিকেটেড পাঁচ হাসপাতালের মধ্যে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. কাজী মো. রাশিদ উন নবী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো ওই রোগ ছাড়া অন্য রোগের চিকিৎসা করে না। কিন্তু এই হাসপাতালে ডেঙ্গুসহ সব রোগের চিকিৎসা চলে। কারণ করোনার সঙ্গে অন্য রোগের চিকিৎসা করা যায় না। কিন্তু ডেঙ্গুর সঙ্গে অন্য রোগের চিকিৎসা করা যায়। এখানে সব চিকিৎসা চলছে।’

ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ঘোষণা দেওয়ায় এখানে অন্য রোগের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর চাপও বেশি উল্লেখ করে এই পরিচালক বলেন, ‘এ হাসপাতালে আজ (গতকাল বুধবার) রোগী ছিল ১ হাজার ৪৩১ জন। এর মধ্যে ২১৭ জন ডেঙ্গু রোগী। বাকি রোগী মেডিসিন, গাইনি, শিশুসহ বিভিন্ন বিভাগের।’ এ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের ডায়াগনসিস পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘জ¦রসহ ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ থাকলে আমরা প্রথমে এনএস১ পরীক্ষা করি। এটি করলে আক্রান্তের দুয়েক দিনের মধ্যেই রোগটি শনাক্ত করা যায়। চার-পাঁচ দিন হলে অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে হয়। ডেঙ্গুর কারণে রক্তের প্লাটিলেট বা অনুচক্রিকা কমে যায়। প্লাটিলেট কমে গেলে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। ছয়-সাত দিন পর যখন প্লাটিলেট বাড়তে থাকে, তখন রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়। প্লাটিলেট কমলে রোগীর শরীরে ইন্টারনাল ব্লিডিং বা রক্তক্ষরণ হয়। তখন প্লাটিলেট কাউন্ট করে রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করি।’

অন্যান্য হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘এখানে বেডের চেয়ে রোগী এমনিতেই বেশি। তার ওপর ডেঙ্গু রোগীর চাপ। তাই অবশ্যই অন্যান্য হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা বাড়ানো উচিত।’

শনিবার থেকে শুরুর চেষ্টা কামরাঙ্গীরচরে : রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এর আগে সেখানে গত সপ্তাহে সরেজমিন গেলে হাসপাতালে কথা বলার মতো কেউ নেই বলে হাসপাতালের ফ্রন্টডেস্ক থেকে জানানো হয়। পরে গতকাল হাসপাতাল ডেস্কে ফোন দিলে অফিস সময়ে গিয়ে কথা বলার জন্য বলেন কর্মরত এক ব্যক্তি। তবে তিনি তার নাম বলেননি।

পরে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. সোহেলী পারভীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চার-পাঁচটা ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রেখেছি। কিন্তু রোগী পাচ্ছি না। এনএস১ পরীক্ষা করা যায়। বিনামূল্যে রোগী থাকতে পারবে। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) এখানে আটজন চিকিৎসকের ট্রেনিং হবে। মানুষ তো জানে না এখনো যে এখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হয়। আমরা আগামী শনিবার থেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি চালু করার চেষ্টা করব।’

এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ হাসপাতাল নিয়ে অনেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, যাতে এখানে রোগী ভর্তি না হয়। অথচ সরকারি হাসপাতাল। এখানে সব বিনামূল্যে। চিকিৎসক আছেন ১১ জন। ৩১ শয্যার হাসপাতাল। এক্স-রে মেশিন আছে, কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। একজন ছিলেন, তাকে ডিএনসিসি নিয়ে গেছে। পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হবে। এটাও অসুবিধা নেই। আমি ব্যবস্থা করে দেব। বললে বাইরে থেকে এসে পরীক্ষা করাবে।’

এখনো নির্দেশনা আসেনি রেলওয়ে হাসপাতালে : রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন দাস গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। সাধারণ রোগীর চিকিৎসা চলছে। ডেঙ্গুর জন্য ডেডিকেটেড না। হাসপাতাল ৭৫ শয্যার। এখন চালু ৪১ বেড। এটা রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে।’ তিনি বলেন, ‘গতবার নির্দেশনা পেয়েছিলাম, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দিয়েছি। কিন্তু এবার স্বাস্থ্য বা রেলপথ মন্ত্রণালয় কারও কাছ থেকে নির্দেশনা পাইনি। এ হাসপাতালে রেলওয়ে বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। জনবলও সে অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। এখন ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা করতে হলে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি লাগবে। আমরা আমাদের চাহিদাপত্র দিয়েছি। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা সম্ভব নয় লালকুঠিতে : লালকুঠি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়নি বলে এ হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা জানান, এই হাসপাতালে মূলত গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানে সবকিছু সে অনুযায়ী পরিচালিত। সুতরাং এখানে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দিতে চাইলে আলাদা অবকাঠামো দরকার। জনবল ও যন্ত্রপাতি লাগবে। তবে এখানে বহির্বিভাগে ফিভার ক্লিনিকে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভর্তি করানো যাচ্ছে না। সরকার প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি দিলে ভর্তি করা যাবে।

আমিনবাজারে কোনো রোগী নেই : আমিনবাজারের ২০ শয্যার আমিনবাজার সরকারি হাসপাতাল সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে পরিচালিত। এখানে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সাইদুল ইসলাম। কিছুদিন আগে তাকে এখানে দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগী ভর্তি শুরু করেছি। রোগী আসছে। পজিটিভও পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ রোগী ভর্তি থাকতে চায় না। বাড়িতে যেতে চায়। আপাতত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই। যারা ছিল ছুটি দেওয়া হয়েছে।’ এর বেশি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

পরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাইমুল হুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর থেকেই এ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। এখানে সিবিসি বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট ও এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট (নন স্ট্রাকচারাল প্রোটিন১) করা হয়। ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে। এখানে মেডিসিন কনসালটেন্ট, আরএমও (রেসিডেন্সিয়াল মেডিকেল অফিসার) বসেন। আরও তিন-চারজন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। সবাই প্রতিদিন রোগী দেখছে।’

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বেশি না। এ পর্যন্ত দুজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল। গতকাল তাদের ছুটি হয়ে গেছে।’

গাজীপুরে আগে থেকেই ডেঙ্গু রোগী ভর্তি চলছে : গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানে ডেঙ্গুর চিকিৎসা শুরু হয়েছে এ বছরের শুরু থেকেই। ঢাকার পাঁচটি ও এ হাসপাতালকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ঘোষণা দেওয়ার আগে থেকেই এখানে রোগী ভর্তি হয়। এ বছরের জানুয়ারি থেকেই দুই-একটা করে রোগী ভর্তি হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল। এনএস১ পরীক্ষার জন্য কিট দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জ্বরের রোগীদের এই পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের নিয়মে প্লাটিলেট পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষাও হয়। এ পর্যন্ত ৫৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে এখানে। ৪৮০ জন সুস্থ হয়ে গেছে। মৃত্যু নেই। জটিল হওয়ার কারণে ২০টির মতো রোগী ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। তাদের প্লাটিলেট ৩০ হাজারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তারাও সুস্থ হয়ে ফিরেছে।’