মোস্ট ওয়ান্টেড ও গুয়ানতানামো বন্দিদের নিয়ে তালেবান সরকার|314370|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
মোস্ট ওয়ান্টেড ও গুয়ানতানামো বন্দিদের নিয়ে তালেবান সরকার
রূপান্তর ডেস্ক

মোস্ট ওয়ান্টেড ও গুয়ানতানামো বন্দিদের নিয়ে তালেবান সরকার

অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে গত মঙ্গলবার আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে তালেবান। শুরুতে বলা হচ্ছিল তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল গনি বারাদারের নেতৃত্বেই হবে মন্ত্রিসভা। কিন্তু এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দীর্ঘ বছর আড়ালে থাকা তালেবানের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধান করেই করা হয়েছে মন্ত্রিসভা। আর তার নেতৃত্বেই ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেছে তালেবান। এই মন্ত্রিসভায় এমন কয়েকজন মন্ত্রী আছেন যারা যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক কালো তালিকায় রয়েছেন এবং তাদের মাথার দামও ঘোষণা করা আছে।

কাবুলের ক্ষমতা নেওয়ার পর একাধিক সংবাদ সম্মেলনে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ ‘সমন্বিত অন্তর্বর্তীকালীন’ সরকারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রিসভা ঘোষণা হওয়ার পর দেখা যায়, ৩৩টি পদের অধিকাংশেই আছেন তালেবান নেতারা। অবশ্য গত মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পরবর্তীকালে মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ানো হবে এবং সেখানে আফগান নেতাদের জায়গা হবে। বর্তমান মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ মন্ত্রীই পশতুন গোষ্ঠীর। এ ছাড়া তাজিক ও উজবেক গোষ্ঠীরও কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আছে। ‘সন্ত্রাসী’দের মতাদর্শিক প্রশ্রয়দাতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার ডেপুটি হিসেবে আছেন মোল্লা আবদুল গনি বারাদার ও মৌলভি হান্নাফি। অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন হক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা সিরাজউদ্দিন হক্কানি। এ ছাড়া মোল্লা ইয়াকুব ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী, আমির খান মুত্তাকি ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও  মোল্লা হেদায়েতুল্লাহ বাদরিকে ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পাওয়া অন্যরা হলেন শিক্ষামন্ত্রী মৌলভি নূরুল্লাহ মুনির, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী মোল্লা খায়রুল্লাহ খায়েরখাহ, অর্থমন্ত্রী কারি দ্বীন হানিফ, হজমন্ত্রী মৌলভি নূর মোহাম্মদ সাকিব, আইনমন্ত্রী আবদুল হাকিম শাহরি, সীমান্ত ও আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী মোল্লা নূরুল্লাহ নূরী, গ্রামীণ পুনর্বাসন ও উন্নয়নমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইউনুস আখুনজাদা, গণপূর্তমন্ত্রী মোল্লা আবদুল মান্নান ওমারি, খনিজ ও পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ এশা আখুন্দ, পানি ও জ্বালানিমন্ত্রী মোল্লা আবদুল লতিফ মানসুর, বেসামরিক বিমান ও পরিবহনমন্ত্রী মোল্লা হামিদুল্লাহ আখুনজাদা, উচ্চতর শিক্ষামন্ত্রী আবদুল বাকি হক্কানি, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী নাজিবুল্লাহ হক্কানি, শরণার্থীমন্ত্রী খলিলুর রহমান হক্কানি, গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক আবদুল হক ওয়াসিক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক হাজি মোহাম্মদ ইদ্রিস, প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক কার্যালয়ের পরিচালক আহমাদ জান আহমাদী, দাওয়াত-উল-এরশাদমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ খালিদ, উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ফাজিল, সেনাপ্রধান কারি ফসিউদ্দিন, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই, উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলভি নূর জালাল, উপ-তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী জবিউল্লাহ মুজাহিদ, গোয়েন্দা বিভাগের প্রথম উপ-প্রধান মোল্লা তাজমির জাভেদ, গোয়েন্দা বিভাগের প্রশাসনিক উপ-প্রধান মোল্লা রহমাতুল্লাহ নাজিব এবং মাদকবিরোধী উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোল্লা আবদুল হক আখুন্দ।

ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সিরাজউদ্দিন হক্কানি এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত। তালেবান ও আল কায়েদার সঙ্গে যুদ্ধের পর সিরাজউদ্দিন হক্কানির মাথার দাম ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৮ সালে কাবুলের একটি হোটেলে হামলা চালানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ওই হামলায় ছয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন আমেরিকার নাগরিক। এ ছাড়া সিরাজউদ্দিন হক্কানির চাচা শরণার্থীমন্ত্রী খলিলুর রহমান হক্কানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ৫০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিল।

এ ছাড়া তালেবানের সীমান্ত ও আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী মোল্লা নূরুল্লাহ নূরী, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী মোল্লা খায়রুল্লাহ খায়েরখাহ, উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ফাজিল ও গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক আবদুল হক ওয়াসিক দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি হয়ে গুয়ানতানামো বে কারাগারে ছিলেন। ২০১৪ সালে তালেবানের হাতে বন্দি থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট বোয়ে বার্গধালের সঙ্গে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ওই চার তালেবান নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর বাইরে গণপূর্তমন্ত্রী মোল্লা আবদুল মান্নান ওমারিও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি ছিলেন।

দীর্ঘদিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকার কারণে মন্ত্রিসভার অন্য নেতাদের সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি আফগানিস্তানের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।