মোদির জন্মদিনে টিকা দেওয়ার রেকর্ড গড়তে মজুত! |314847|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৯:৩৩
মোদির জন্মদিনে টিকা দেওয়ার রেকর্ড গড়তে মজুত!
অনলাইন ডেস্ক

মোদির জন্মদিনে টিকা দেওয়ার রেকর্ড গড়তে মজুত!

একাত্তর বছরে পদার্পণ এবং সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রধান প্রশাসক হিসেবে দুই দশক পূর্ণ করাকে স্মরণীয় করে রাখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে রেকর্ড সংখ্যক টিকাদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে টিকা মজুতের অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।

এ ছাড়া স্বচ্ছতা অভিযান, নরেন্দ্র মোদির মুখের ছবি সংবলিত ব্যাগে রেশন বিতরণ, পাঁচ কোটি পোস্টকার্ড পাঠানোসহ হাজারো পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা শুক্রবার বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দলের লক্ষ্যই হলো, যত বেশি সংখ্যক সম্ভব মানুষকে কভিডের টিকা দেওয়া। ওই দিনে রেকর্ড সংখ্যক টিকাকরণ যাতে হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েছে দল।

দলটি বলছে, সম্প্রতি চোখে পড়ার মতো টিকাদান গতি বেড়েছে, কমেছে সংক্রমণ। এই কৃতিত্বের হকদার যে শুধু মোদি, সেই বার্তা দিতেই তার জন্মদিনকে রেকর্ড টিকাকরণের জন্য বেছে নিয়েছে দল।

কিন্তু বিরোধী শিবিরের একাংশের প্রশ্ন, ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে যেখানে একদিন আগে কাউকে টিকা দিতে পারলেও সংক্রমণে রাশ টানার ক্ষেত্রে খানিকটা সুবিধা হয়, সেখানে রেকর্ড গড়তে একটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য বসে থাকা কেন? যদি আগাম এমন পরিকল্পনা করা যায়, তার মানে তো হাতে টিকা রয়েছে। তা হলে তা আগেভাগে না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দেওয়ার যুক্তি কী?

এক বিরোধী নেতার প্রশ্ন, ‘‘তবে কি ওই নির্দিষ্ট দিনের জন্য আগাম মজুত করা হচ্ছে প্রতিষেধক? এর আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে (২১ জুন) রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে তার আগের কয়েক দিনে যেমন করা হয়েছিল!’’

ওই দিন থেকেই ভারতে ১৮ বছর কিংবা তার বেশি বয়সী সবার জন্য প্রতিষেধক বিনা মূল্যে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। টিকা দেওয়া হয়েছিল ৮৫ লাখ। তখন অভিযোগ উঠেছিল, ওই রেকর্ড গড়তে তার আগের কয়েক দিন টিকা কিছুটা কম দেওয়া হয়েছিল। রেকর্ডের পরেও ফের ঝিমিয়ে পড়েছিল তার গতি।

বিরোধীদের দাবি, শুরু থেকে কেন্দ্রের ভুল নীতির কারণেই টিকাকরণ হয়েছে শ্লথ গতিতে। করোনা যোদ্ধা এবং ৪৫-ঊর্ধ্বদের নিখরচায় টিকা দেওয়ার কথা শুরুতে বলা হলেও, বাকিদের জন্য ওই নীতি ঘোষণায় গড়িমসি করেছে কেন্দ্র। মোট জনসংখ্যার অনুপাতে দুই ডোজ টিকা পাওয়া মানুষ এখনও যথেষ্ট কম। তারপরও ‘রেকর্ড’ গড়তে জন্মদিনের জন্য অপেক্ষা করা নিয়ে প্রশ্ন তাদের।

তবে সমালোচনার মুখে জন্মদিন পালনের ‘এলাহি’ পরিকল্পনায় কাটছাঁট হওয়ার সম্ভাবনা কম। টানা তিন সপ্তাহ ধরে মোদির ৭১তম জন্মদিন ও প্রশাসক হিসেবে বিশ বছর (প্রধানমন্ত্রী ও তার আগে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মিলিয়ে) পূর্ণের বিষয়টি এক যোগে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। ওই উপলক্ষে বিভিন্ন নদীর ৭১টি স্থান পরিষ্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জীবন তুলে ধরতে থাকছে দেশ জুড়ে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। বিতরণ করা হবে পাঁচ কোটি পোস্টকার্ড। তাতে তুলে ধরা হবে মোদি সরকারের সাফল্যের খতিয়ান। করোনা-কালে ‘গরিবের মসিহা’ মোদি যে দরিদ্র মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন, তা মনে করিয়ে দিতে রেশন দোকানগুলির সামনে দেওয়া হবে তার মুখের ছবি লাগানো ১৪ কোটি ব্যাগ।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের বক্তব্য, দেশের মানুষের প্রতিদিন দারিদ্র্য বাড়ছে আর বিজেপি সেখানে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অর্থ উড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে কটাক্ষ করেন, মার্গদর্শক মণ্ডলীতে যেতে আর মাত্র চার বছর বাকি। সুস্থ থাকবেন। প্রসঙ্গত, বিজেপিতে অঘোষিত নীতি হলো ৭৫ বছরের পরে প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে অবসর নিতে হয় নেতাদের। অবসর নেওয়া নেতাদের স্থান হয় মার্গদর্শক মণ্ডলীতে। যেমনটি হয়েছে লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলী মনোহর জোশীদের ক্ষেত্রে।

সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরির কটাক্ষ, সমস্ত ম্যাগালোম্যানিয়াকরা এমন করে থাকে। রোম যখন পুড়ছিল তখন নীরো বেহালা বাজাচ্ছিলেন। দেশের মানুষ চাকরি হারিয়ে, না খেতে পেয়ে সমস্যায়। আর সেখানে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিন পালনে ব্যস্ত।