শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত স্কুল-কলেজ|315057|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:৩৭
শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত স্কুল-কলেজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত স্কুল-কলেজ

মোংলার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট পলস্ উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: দেশ রূপান্তর

এত দিন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিল সুনসান নীরবতা। আজ যেন প্রাণ ফিরে পেল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে স্কুল-কলেজ। দীর্ঘ ৫৪৩ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার খুলেছে দেশের সব স্কুল-কলেজ। 

শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খোলায় একদিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তবে অনেক অভিভাবকই স্বাস্থ্যবিধি ও সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সকালে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিফর্ম, মাস্ক পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসা শুরু করেছেন। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। ভেতরে প্রবেশের আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।

ছেলে-মেয়েদের গেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে অভিভাবকেরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের ভিড় দেখা গেছে।

দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের দেখা পেয়ে শিক্ষার্থীরা একে অপরের কুশল বিনিময় করছেন, তাদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস।

রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অপেক্ষারত এক অভিভাবক বলেন, ছেলেমেয়েরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থেকে বোর হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ খোলায় একটু স্বস্তি পেয়েছে। স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের বরণ করার জন্য আগের দিন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেলুন, কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে একেক দিন একেক শ্রেণির ক্লাস হবে।

আজ রবিবার থেকে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থী, পঞ্চম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রতিদিন এবং প্রথম থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে সপ্তাহে একদিন ক্লাস নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারীকে টিকাদানের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কমিটি মনে করছে, করোনার শুরু থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার নজির রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেলায় এই শঙ্কা আরও বেশি।

তবে গতকাল শনিবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জামালপুরে বলেছেন, ‘সংক্রমণ বেড়ে গেলে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ একই দিন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে বসে টিফিন খেতে পারবে না।’ একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ করেন তিনি।