স্কুল-কলেজগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে কিনা নিয়মিত তদারকি: শিক্ষামন্ত্রী|315063|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৫৬
স্কুল-কলেজগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে কিনা নিয়মিত তদারকি: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্কুল-কলেজগুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে কিনা নিয়মিত তদারকি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, করোনাকালে স্কুল-কলেজগুলো নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানছে কিনা সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। আজ প্রথম দিন জানিয়ে পরিদর্শনে এসেছি। অন্যদিন না জানিয়েও পরিদর্শনে আসতে পারি।

আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার খুলেছে স্কুল-কলেজ। এদিন সকালে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকায় শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণও কমে আসছে। সবদিক বিবেচনা করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, করোনার সঙ্গেই মানিয়েই আমাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সংক্রমণ বেড়ে যা্ওয়ার আশঙ্কা থাকলে আবার আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় সবার মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিন নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে হবে। সেগুলো তদারকি করা হবে। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের পাশাপাশি অভিভাবক, সমাজের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে যেসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা মানতে হবে। করোনার পাশাপাশি এখন ডেঙ্গুর সিজন চলছে। এখন ইউনিফর্ম পরার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও শিক্ষার্থীরা যেন ফুল হাতা জামা-প্যান্ট পরে আসে সেদিকে অভিভাবকদের নজর দিতে হবে। স্কুল-কলেজ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখলে ডেঙ্গু প্রতিরোধেও কাজে দেবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত তদারক করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি আনাচেকানাচে নজর দিতে হবে।

দীর্ঘদিন পর খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ। মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরাসরি ক্লাস নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ১৯ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা, ভিড় এড়াতে প্রতিষ্ঠানের সব প্রবেশমুখ ব্যবহার করা, একটি প্রবেশমুখ থাকলে একাধিক প্রবেশমুখের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখা, প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ, আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশনা রয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে তাদের বসার ক্ষেত্রে তিন ফুট দুরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে, কোথাও যেন পানি না জমে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতেও বলেছে শিক্ষা অধিদপ্তর।

স্কুল-কলেজ খোলার পর শুরুতে দিনে দুটি করে ক্লাস রেখে রুটিন তৈরি করতে বলা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর সংযুক্ত রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে ওইসব স্তরের জন্য নির্ধারিত ক্লাসগুলো সমন্বয় করে রুটিন তৈরি করতে হবে।

এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চলমান ডিগ্রি, সম্মান ও মাস্টার্স পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২১ ও ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য রুটিন তৈরি করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

রুটিন এমনভাবে প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে, যেন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, প্রস্থান ও অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনো বিষয় যেন না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রেখে রুটিন তৈরি করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপাতত অ্যাসেম্বলি বা সমাবেশ বন্ধ থাকবে এবং প্রতিদিন নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে হবে।