পুলিশি হয়রানি-মামলায় তটস্থ কাশ্মীরের সাংবাদিকরা|315069|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:৪৪
পুলিশি হয়রানি-মামলায় তটস্থ কাশ্মীরের সাংবাদিকরা
অনলাইন ডেস্ক

পুলিশি হয়রানি-মামলায় তটস্থ কাশ্মীরের সাংবাদিকরা

ভারতীয় পুলিশ ও প্রশাসনের চাপে আতঙ্কে রয়েছেন কাশ্মীরের সাংবাদিকরা। যখন-তখন হানা দিয়ে থানায় তুলে নিয়ে তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে ইউএপিএ’র মতো কড়া আইনে মামলা।

এমনকি সম্প্রতি শ্রীনগরে বিবিসি’র দপ্তরটিকে গোয়েন্দা বিভাগের সদরদপ্তরে পরিণত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে হিলাল মির, শাহ আব্বাস, শওকত মোত্তা ও আজহার কাদরি নামে চার সাংবাদিকের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। প্রায় কয়েক ঘণ্টার তল্লাশিতে তাঁদের ল্যাপটপ, ক্যামেরা, কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক এবং কাজের সূত্রে সফর সংক্রান্ত নানা নথি বাজেয়াপ্ত করে তারা।

এই সাংবাদিকরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। এর পরে ওই চার সাংবাদিককে থানায় তলব করা হয় এবং রাত পর্যন্ত দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে তাদের বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও পরের দিন সকালে ফের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরেই কাশ্মীরের মাটিতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। অতীতে সেনা, পুলিশ, রাষ্ট্র, বিচ্ছিন্নতাবাদী- তাদের ছেড়ে কথা বলেনি কেউই। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের।

কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে পুলিশি হেনস্তা ও হুমকি বহু গুণ বেড়েছে বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের একাংশের। ধরপাকড়, মারধর, হেনস্তা এমনকি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাও করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে।

কাশ্মীর প্রেসক্লাবের এক প্রবীণ সদস্য বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের জেরা, তল্লাশি, অত্যাচার যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার আমাদের কাজকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।’

‘গ্রেটার কাশ্মীর’ ও ‘কাশ্মীর রিডার’- এই দুই ইংরেজি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের অতীতে এনআইএ (জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা) শুধু তলবই করেনি, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাও করেছিল।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য জেরার মুখেও পড়তে হয় তাদের।

তবে পুলিশের দাবি, ‘কাশ্মীরফাইটওয়ার্ডপ্রেস’ নামে একটি ব্লগের সঙ্গে জড়িত থাকায় হিলাল মির, শাহ আব্বাস, শওকত মোত্তা ও আজহার কাদরিদের জেরা করা হয়।

সম্প্রতি শ্রীনগরে বিবিসি’র একটি অফিসকে গোয়েন্দা বিভাগের সদরদপ্তরে পরিণত করা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাংবাদিকরা। কাশ্মীরে কাজ করতে যাওয়া বহু দেশি-বিদেশি সাংবাদিক এই অফিসটিতে থাকতেন।

শ্রীনগর প্রেস এনক্লেভের ভেতরে অবস্থিত এই অফিসটি সরকারের নোটিশ পেয়ে খালি করে দেয় বিবিসি। তার এক সপ্তাহের মধ্যে এখানে গোয়েন্দা বিভাগের অফিস খোলে সরকার।