বিএনপির একার নয়, এখন পুরো বাংলাদেশের খারাপ সময়|315094|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:৫২
বিএনপির একার নয়, এখন পুরো বাংলাদেশের খারাপ সময়

বিএনপির একার নয়, এখন পুরো বাংলাদেশের খারাপ সময়

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব। তার জন্ম ১৯৪৮ সালের ১ আগস্ট, ঠাকুরগাঁওয়ে। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়েই বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর থেকে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭২-এ দিনাজপুর সরকারি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৮২ থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৯-এ ঠাকুরগঁাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬-এর সংসদ নির্বাচনে হেরে যান। ২০০১-এ ঠাকুরগাঁও থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ থেকে প্রায় পাঁচ বছর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬-এর মার্চ মাসে বিএনপির জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, দলটির নেতৃত্ব, নির্বাচন কমিশন গঠন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে বিতর্ক এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের এহ্সান মাহমুদ ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রেজাউল করিম লাবলু

দেশ রূপান্তর : বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে ৪৩ বছর পূর্ণ করল। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এই সময়ে বিএনপির সফলতা ও ব্যর্থতা কী বলে মনে করেন?

মির্জা ফখরুল : একটি দেশে যখন গণতান্ত্রিক কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়ে, তখন রাজনৈতিক দলসমূহের জন্য গণতান্ত্রিক কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে আমরা এই সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আজ থেকে ৪৩ বছর আগে যখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তখন তার সামনে একটা বড় লক্ষ্য ছিল দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেই সঙ্গে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও বেগবান করা। সেই হিসেবে আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসনে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। এটা রাজনৈতিক দল হিসেবে মোটাদাগে বিএনপির সফলতা। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশে একটি স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনীতি বিরাজ করছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশ প্রবেশ করেছে। বিএনপির বড় সফলতা যদি একত্রে বলতে হয়, তবে তা হচ্ছে একটি দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। পাশাপাশি মুক্তবাজার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ফলে দেশ আধুনিক অর্থনীতিতে ফিরতে পেরেছে।

আর ব্যর্থতা হচ্ছে বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য দেশি এবং বিদেশি চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র করেছে। তবে বিএনপি এক্ষেত্রে উত্তরণ ঘটিয়েছে। আর ক্রান্তিকালে একটি ব্যর্থতা থাকে। বিএনপিরও তা রয়েছে। সেটি হচ্ছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসামূলক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আছেন, এটা বিএনপির একটি ব্যর্থতা।

দেশ রূপান্তর : প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি এখন সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলের চেয়ারপারসন অসুস্থতা নিয়ে মামলায় সাজাভোগ করছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে। ২০০৭ থেকে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে। দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মামলার আসামি। এই অবস্থায় দলটির মহাসচিব হিসেবে আপনি দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে সফল কর্মসূচি পালন করতে না পারার বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। আপনার অভিমত শুনতে চাই...

মির্জা ফখরুল : এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই বিএনপি কেবল একটি দল হিসেবে খারাপ সময় পার করছে তা নয়। পুরো বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং এর সব রাজনৈতিক দলই খারাপ সময় অতিক্রম করছে। দেশে গণতান্ত্রিক কার্যক্রম ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। তাই এটাকে বিএনপির একার খারাপ সময় না বলে পুরো বাংলাদেশের খারাপ সময় বলতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এখন বাংলাদেশ তার চরিত্র থেকে বেরিয়ে পড়েছে। একাত্তরে যেই উদ্দেশ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, এখন সেখান থেকে দেশকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এখনকার বাংলাদেশে যে সংকট সেটি বিএনপির একার নয়। পুরো দেশই সংকটের মুখে বিপর্যস্ত। এখন কোনো মন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হয় না। কোনো আমলাকে জবাবদিহি করতে হয় না। বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে এমন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। দলীয় পরিচয় ছাড়া বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগ হয় না। বিচার বিভাগ দলীয়করণ করা হয়েছে। আমরা দেখছি, সরকার গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণ করছে। গণমাধ্যমগুলোর কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : বিএনপি এই সময়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকতে পারছে না বলেও সমালোচনা আছে...

মির্জা ফখরুল : আমাদের দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেটিতে সবাই অভ্যস্ত। এখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি মানে হচ্ছে হরতাল, অবরোধ করে সরকারের স্বাভাবিক কাজকর্মকে অচল করে দেওয়া। এটাকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি বলা হয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার যেভাবে বিরোধী দল ও মতকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন এমপিও আছেন। সহস্রাধিক মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো দেশের কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে এত হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

দেশ রূপান্তর : দল পরিচালনায় গতিশীলতা আনতে শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে কি?

মির্জা ফখরুল : আমাদের নেতৃত্বে কোনো সমস্যা নেই। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আমরা কর্মসূচি দিচ্ছি। আমাদের নেতৃত্বে পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। দলের চেয়ারপারসন সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলক মামলায় দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের পূর্বনির্ধারিত রায়ে সাজাভোগ করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে নির্বাসিত আছেন। কিন্তু তিনি অত্যন্ত সফলভাবে ওখান থেকেই নির্দেশনা দিচ্ছেন। এখানে আমরা যারা রয়েছি, তার পরামর্শেই দল পরিচালনা করছি। দলের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। দল পরিচালনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তাই এই মুহূর্তে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার প্রয়োজনীয়তা নেই।

দেশ রূপান্তর : এবার আমরা সাম্প্রতিক বিষয়ে একটু আলোকপাত করতে চাচ্ছি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন নেতা সম্প্রতি সংসদ ভবন এলাকা থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। এই বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী?

মির্জা ফখরুল : এগুলো হচ্ছে কু-তর্ক। এসব হচ্ছে রাজনীতি যখন না থাকে, তখনকার অর্থহীন প্রলাপ। যখন নিয়মিত রাজনীতি থাকে না তখন কবর-মাজার এসব নিয়ে কু-তর্ক শুরু করে তারা। যখন তাদের রাজনীতি নিয়ে বলার মতো কিছু থাকছে না, তারা এইসব নিয়ে কথা বলছে। যখন তারা নিজেরা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হচ্ছেন, দুর্নীতি রোধ করতে পারছেন না, সংসদকে অর্থবহ করতে পারছেন না, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রোধ করা হচ্ছে এসব প্রশ্নে যখন জবাব দিতে পারছেন না, তখন এইসব অর্থহীন কু-তর্ক করছেন তারা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর সংসদ এলাকায় হয়েছে। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ জানাজা হয়েছিল। লাখো মানুষ তাদের প্রিয় প্রেসিডেন্টকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। তাই জিয়াউর রহমানের মরদেহ ওখানে আছে কি না এটা একটি মীমাংসিত বিষয়। এসব নিয়ে বির্তক তুলে তারা জনগণের মনোযোগ সরিয়ে নিতে চাইছেন। জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। একটি রাজনৈতিক দলের কাজ কী? রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনসাধারণের অধিকার রক্ষিত হয়, এমন কর্মসূচি প্রণয়ন করা, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অতীতের কর্মকা- জনগণের সামনে তুলে ধরবে, ভোট চাইবে নির্বাচনের আগে। কিন্তু বর্তমান শাসক দল কী করছে? তারা নাগরিকের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মানুষ এখন ভোট দিতে যাচ্ছে না কেন? কারণ তারা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। এখন তাই তারা জনসাধারণের সঙ্গে নিজেদের প্রতারণা আড়াল করতে গিয়ে প্রতারণামূলক কর্মসূচি হিসেবে জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা বলছেন।

দেশ রূপান্তর : ২১ আগস্ট এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা নিয়ে কী বলবেন? এ দুটি ঘটনায় আওয়ামী লীগের অভিযোগের তীর বিএনপির দিকে...

মির্জা ফখরুল : এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। কোনো সরকারই চাইবে না, তার আমলে এমন কোনো ঘটনা ঘটুক, যাতে সে বিব্রত হবে। ১০ ট্রাক অস্ত্র কি বিএনপি এনেছে? সরকার এনেছে? যারা অস্ত্রের ব্যবসা করে তারা এনেছে। বিশ^ব্যাপী স্মাগলিং রয়েছে। এটা তাদের কাজও হতে পারে। এখন এর জন্য বিএনপি কেন দায়ী হবে? তৎকালীন সরকার কেন দায়ী হবে? এই মামলার বিচারে এমনভাবে নিজের মতো একটা আদালত তৈরি করা হলো, যেখানে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলো মনমতো। সাক্ষী হাজির করা হলো পছন্দমতো। এই মামলায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবরকে জড়ানো হলো। একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তার তো নিজের দেশের পুলিশ বাহিনী রয়েছে, বৈধ অস্ত্র রয়েছে, তার কেন অস্ত্র আনতে হবে! এ-সবই হচ্ছে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ। এগুলো হচ্ছে বিএনপিকে ক্ষতি করতে দেশি-বিদেশি কুচক্রীদের যোগাসাজশে তৈরি একটি মিথ্যা প্রচারণা। এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়।

দেশ রূপান্তর : করোনা মহামারীতে দেশের সবকিছুই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এখন ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিও সীমিত ছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আপনারা রাজপথে কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচির কথা বলে আসছেন। আওয়ামী লীগ বলছে, রাজপথে আন্দোলন করার সক্ষমতা বিএনপির নেই। এই অভিযোগের বিষয়ে কী বলবেন? 

মির্জা ফখরুল : করোনা বৈশি^ক সমস্যা। পুরো বিশ^ই করোনার প্রভাবে স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে। এখন যদিও বলা হচ্ছে করোনা কমে আসছে দিন দিন। কিন্তু আমেরিকায় করোনা বাড়ছে। আবার প্রতিবেশী কলকাতাতেও করোনা বাড়ছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও কয়েক বছর হয়তো লেগে যাবে। এখন যেটা বলা হচ্ছে এই সময়টাতে আমরা পরিবর্তিত বাস্তবতায় ‘নিও নরমালে’ অভ্যস্ত হয়ে যাব। এই নতুন বাস্তবতায় সবকিছু চলবে। এইভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিও নতুন করে সাজানো হবে।

দেশ রূপান্তর : আপনারা বলছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন করা হবে। এই আন্দোলনের রূপরেখা কেমন হবে?

মির্জা ফখরুল : আন্দোলনের রূপরেখা এখনই বলা সম্ভব না। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে এসবসহ আরও কিছু দাবি-দাওয়া আমরা সরকারের কাছে দেব। সরকার কী করে, তা দেখে পরে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঠিক কখন আন্দোলন শুরু হবে বা কর্মসূচি দেওয়া হবে তার দিনক্ষণ এখনই বলা ঠিক হবে না।

দেশ রূপান্তর : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। আগামী নির্বাচন হবে নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আপনার দলের প্রস্তাব ও অবস্থান জানতে চাই।

মির্জা ফখরুল : একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই এখন যেভাবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, এই অবস্থা থেকে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে। এভাবে দেশে নির্বাচন হতে পারে না। নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যে আসলে কোনো নির্বাচনই নয়, এটা দেশের জনসাধারণ দেখেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন কতটা নির্বোধ এবং অযোগ্য তা তাদের সময়কালে দেশের প্রতিটি নির্বাচন থেকেই দেখা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী নতুন ইসি গঠন করার উদ্যোগ রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করবেন। তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ করবেন। সব দল প্রস্তাব দেবে। তার আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

দেশ রূপান্তর : আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির সভানেত্রী সম্প্রতি তার দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আপনাদের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমন কোনো বার্তা বা আহ্বান আছে কি না?

মির্জা ফখরুল : একটি গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল সবসময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। যখনই বলা হবে আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে দেব। যে কোনো সময়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা বিএনপির রয়েছে।

দেশ রূপান্তর : বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি আপনার কোনো বিশেষ বার্তা বা আহ্বান আছে কি না?

মির্জা ফখরুল : দেশবাসীর প্রতি একটাই আহ্বান থাকবেএই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।