বিশ্ববিদ্যালয় খোলার খবর নেই|315234|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার খবর নেই
সানমুন আহমেদ

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার খবর নেই

দেড় বছর পর স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কোনো খবর নেই। অথচ দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোতে পরীক্ষা চলছে সশরীরে। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল। শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে এসে রুম ভাড়া নিয়ে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এতে করে দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে তেমনি হল-ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় খাওয়া-দাওয়া নিয়েও বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

হল এবং ক্লাস চালুর দাবিতে গত ছয় মাস ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ক্লাসও নিচ্ছেন শিক্ষকরা। দেশ রূপান্তরের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একমত।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার দাবি উঠেছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত না করে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে না এমন অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে ১২ সেপ্টেম্বর (গতকাল) স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সরকারি ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি আরও প্রকট হয়। তবে এ ব্যাপারে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাকিয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিদ্ধান্তের দিকে।

এরই মধ্যে ঢাবি কর্তৃপক্ষ আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এরপর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও একই সময়ে খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করে হল ও প্রতিষ্ঠান খোলা হবে সরকার এবং কভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির এ ঘোষণার পর থেকে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যদিও গত ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় আরও আগে খুলে দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছর মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে ঢাবির আবাসিক হল। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের পর যেকোনো দিন হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তবে আবাসিক হলে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই টিকাগ্রহণ করতে হবে। গতকাল রবিবার মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন উপাচার্য।

এদিকে আবাসিক হল বন্ধ থাকলেও ঢাবির কয়েকটি বিভাগে চলছে সশরীরে ফাইনাল পরীক্ষা। ইতিমধ্যে পরীক্ষা নেওয়া শেষ করেছে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, আরবি বিভাগ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগসহ আরও কয়েকটি বিভাগ।

সশরীরে পরীক্ষার বিষয়ে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহম্মাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরে বিষয়টি বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটিতে নিয়ে আসা হয়। কমিটি শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয়। পরে পরীক্ষার রুটিনটি সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিনের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠালে কর্র্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়।’

জানা গেছে, ঢাবি কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হল খোলার প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট হলের নীতিমালার আলোকে হলে অবস্থান করতে পারবেন। যাদের ছাত্রত্ব নেই, তারা হলে থাকতে পারবেন না। 

ঢাবির একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর প্রভোস্ট কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর হবে জরুরি অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা। ধারণা করা হচ্ছে, ১৬ তারিখের ওই সভা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

হল খোলার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাবির প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবাসিক হলগুলোতে সংস্কারের কাজ চলছে। ১৫ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্ভবত আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকে হল খুলে দেওয়া হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। ১৬ তারিখে আমাদের একটা মিটিং রয়েছে। এরপর জানা যাবে কবে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়। হল থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই টিকা নিতে হবে।’

এদিকে কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ক্লাস হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে ‘চুপ করিয়ে দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিকতা’ বিষয়ের ওপর ক্লাস নেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী। দেড় ঘণ্টার এ ক্লাসে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

প্রতীকী ক্লাস শেষে অধ্যাপক মানস চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনাহীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটা হতাশাজনক। সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে না পেরে তারা একত্রিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হতাশার বিষয়টি অনুভব করে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছি।’

এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে গত ২৬ আগস্ট দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন এবং ২৯ আগস্ট পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু প্রতীকী ক্লাস নেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও সশরীরে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা চলছে। প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ হলে থাকছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের আশপাশে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। সবাই চান দ্রুত হল খুলে দেওয়া হোক।