সিদ্ধান্ত নিতে তৃণমূলের মত চায় বিএনপি|315236|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
নির্বাচন কমিশন গঠন
সিদ্ধান্ত নিতে তৃণমূলের মত চায় বিএনপি
রেজাউল করিম লাবলু

সিদ্ধান্ত নিতে তৃণমূলের মত চায় বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। ভোটের পাশাপাশি আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাদের মতামত নিতে চায় বিএনপি। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। তারা বলেছেন, ‘আগামীকাল ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারাবাহিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। ভার্চুয়ালে বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

নির্বাহী কমিটির বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এই মুহূর্তে কোনো অডিটরিয়ামে বৈঠক করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ভার্চুয়াল সভা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। বৈঠকে নেতারা যে পরামর্শ দেবেন তার আলোকে আগামীর কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। এরপর তা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করে তাকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা নেতাকর্মীদের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছি। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে আমরা ইতিমধ্যে সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি।’

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে হোটেল লা মেরিডিয়ানে ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি কারাবন্দি হওয়ার পর আর কোনো সভা ডাকা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভা করেন। সভায় নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন। এরপর গত শনিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভা হয়। সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় দলের নির্বাহী কমিটির সভা ডাকার সিদ্ধান্ত হয়।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সভায় যোগ দেবেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিসহ সংশ্লিষ্টরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে সশরীরে বৈঠকে থাকবেন। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে এ বৈঠক শুরু হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্যরা অংশ নেবেন। এরপর বুধবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকদের নিয়ে বসবে বিএনপি। এছাড়া বৃহস্পতিবার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হবে। পর্যায়ক্রমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও বিএনপির হাইকমান্ড বৈঠক করবে।’

তারা আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান চাই। তবে এর আগে নিরপেক্ষ সরকার চাই যাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে এ সমাধান হতে হবে। এজন্য দেশের গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নিতে হবে। কাজটি এমনভাবে করতে হবে যা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়। বিগত দিনের মতো একতরফা হলে কেউ মেনে নেবে না।’

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, ‘দলীয় ফোরামে আলোচনার পর আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আমাদের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির কাছে দেব। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে আমাদের আন্দোলন চলবে। দেশের জনগণ এ সরকারের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করে না।’

বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘নির্বাহীর কমিটির বৈঠক সাধারণ কমিটির সবার উপস্থিতিতে বড় পরিসরে হয়ে থাকে। কিন্তু বড় কোনো স্থান না পাওয়ায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রত্যাহার হচ্ছে ১২ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ : স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ১২ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১২ সদস্যকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। শনিবার স্থায়ী কমিটির সভায় তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাব দেন। তা সমর্থন করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিগগিরই তাদের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার চিঠি দেওয়া হবে।