কে ছিলেন আবিমায়েল গুজমান|315348|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
কে ছিলেন আবিমায়েল গুজমান
মুমিতুল মিম্মা

কে ছিলেন আবিমায়েল গুজমান

পেরুর শাইনিং পাথ নেতা আবিমায়েল গুজমান পরিচিত ছিলেন প্রেসিদেন্তো গনজালো নামে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু। মাওবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে একসময় সারা বিশে্ব আলোচিত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করা গুজমানকে নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা

শাইনিং পাথ

১৯৬৮ সাল। পেরুর প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো বেলাউন্দের শাসনামলে দ্বন্দ্ব ও বিরোধই যেন পরিণত হয়েছিল রাজনৈতিক আদর্শে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় টালমাটাল পেরু। এরই মধ্যে চে গুয়েভারার সাফল্যে উৎসাহী বিপ্লবীরা বেশ কয়েকটি স্থানে সামরিক প্রতিরোধ শুরু করে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি বেগতিক। ইতিমধ্যে একটি পেট্রোলিয়াম কোম্পানির অর্থনৈতিক দুর্নীতি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়। এই ভুলের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো জনসমর্থন হারাতে শুরু করেন। সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দোকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসেন জেনারেল ভেলাস্কো। অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দিকে নজর দেয় সামরিক সরকার। কারণ ক্ষমতায় টিকে থাকতে জনসমর্থন দরকার। কিন্তু সেনাবাহিনী দেশের অস্থিতিশীল অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি ওয়াকিবহাল না হওয়ায় এবং সরাসরি শাসন ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত না থাকায় পরিস্থিতি হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। মাঠে নেমে পড়ে রাজনৈতিক দল শাইনিং পাথ। শাইনিং পাথের লোকেরা উপর্যুপরি গেরিলা হামলার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে তটস্থ করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তখন শাইনিং পাথের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। শাইনিং পাথের নেতা হিসেবে অবিস্মরণীয় নাম হয়ে উঠেছেন আবিমায়েল গুজমান। তিনি পেরুর মানুষকে সশস্ত্র হামলায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। জনমানুষের মনে সেনাবাহিনীর প্রতি তেমন কোনো আবেগ না থাকায় তার পক্ষে জনসমর্থন ক্রমেই বাড়তে থাকে। এভাবেই একদিকে গুজমান হয়ে ওঠেন জনমানুষের নেতা, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের জন্য তীব্র আতঙ্ক। 

আবিমায়েল গুজমান

শাইনিং পাথের আবিমায়েল গুজমান বা প্রেসিদেন্তো গনজালো হিসেবে আমরা যাকে চিনি তার রয়েছে একাধিক পরিচয়। কেউ তাকে চেনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে, কারও কাছে তিনি দার্শনিক, কারও কাছে নেতা। তবে নিজের সব পরিচয় ছাপিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন রাজনীতিবিদ গুজমান। গুজমানের পুরো নাম ম্যানুয়েল রুবান আবিমায়েল গুজমান রেইনোসো। ১৯৩৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ পেরুর মোলেন্দো শহরে তার জন্ম। বিত্তশালী বাবার বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান হিসেবে জন্ম তার। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি তার মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। ১৯৪৭ সালে পাঁচ বছর বয়সে মায়ের মৃত্যুর পর তিনি তার বাবার সংসারে এসে বসবাস করতে শুরু করেন। ক্যাথলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় কোলেজিও দে লা সালে তার পড়াশোনা শুরু হয়। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক শেষে আরেকুইপায় সান আগাস্টিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আবেগপ্রবণ। লাজুক, সুশৃঙ্খল ও অধ্যবসায়ী হিসেবে তিনি তরুণ বয়সেই মানুষের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়েন মার্ক্সবাদের দিকে। বিত্তশালী বাবার সন্তান হয়েও মার্ক্সবাদের দিকে ঝুঁকে পড়াতে অবাক হন তার আশপাশের সবাই। আরেকুইপাতে গুজমান দর্শন ও আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার গবেষণায় স্থান পেয়েছিল বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দেশের কথা। তবে সে দেশ বলতে তিনি পেরুকেই বুঝিয়েছিলেন কিনা তখনো তা স্পষ্ট নয়। ১৯৬২ সালে আয়াকুচোর সান ক্রিস্টবাল ডি উয়ামাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত হন। গুজমান পেরুর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত কেচুয়া ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। আস্তে আস্তে তিনি পেরুর রাজনৈতিক মহলে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের উজ্জ্বল মানুষেরা তার মতবাদে সাড়া দেওয়া শুরু করে। ১৯৭০ সালের মধ্যেই তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি জনমানুষকে দেশের শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন। তার কাজের মধ্য দিয়ে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে গবেষণাপত্রের বুর্জোয়া দেশটি আসলে পেরুই ছিল। নেতা গুজমান শক্তিশালী হয়ে ওঠার পেছনে শিক্ষক গুজমানের অবদান বিশাল। বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তার কাছে কর্মী সংগ্রহের স্থান। কর্মী সংগ্রহ করা, দীক্ষা দেওয়া, সুগঠিত করার মধ্য দিয়ে তিনি অদূর ভবিষ্যতের জন্য নিজের দলের কর্মী বাড়াচ্ছিলেন। এরই মধ্যে গুজমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ স্কুল খুলে বসেন। স্কুলটি পরিচালনা করতেন তার কাছে দীক্ষা নেওয়া মানুষরা। কোনো মানুষকে দীক্ষা নিতে গেলে গুজমানের কাছে তাকে চূড়ান্ত পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে হতো। হয় তুমি আমার দলের, নইলে তুমি বুর্জোয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করছ– এই ছিল গুজমানের মূল নীতি। তার প্রশিক্ষিত ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে তার দলীয় কর্মী হিসেবে থেকে যেত। কেউ কেউ আবার গ্রামে ফিরে গেলেও গুজমানের হয়েই কাজ করত।   

শাইনিং পাথের উত্থান

১৯২৮ সাল। পেরুর মার্ক্সবাদী আন্দোলনকর্মী ও রাজনৈতিক মতবাদের প্রবক্তা হোসে কার্লোস মারিয়াতেগির বই ‘সেভেন ইন্টারেপ্টিভ এসে অন পেরুভিয়ান রিয়ালিটি’ প্রকাশিত হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের ফলেই বোধ হয় বই প্রকাশের দুই বছর আগে তিনি মারা যান। মার্ক্সবাদী চিন্তায় বিশ্বাসী বলে বইয়ে বাম মতবাদের প্রভাব থাকবে একথা সবাই-ই জানত। কিন্তু বই প্রকাশের পর দেখা গেল পাঠকের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন চমক। বাম চিন্তায় বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও একেবারে স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা হাজির হলো এ বইয়ে। কোনো মতবাদই সরাসরি গ্রহণ করাটা বেশ দুঃসাধ্য। একেক দেশের প্রেক্ষাপটে একেকরকম করে বদলে যায় মতবাদের সংজ্ঞা। ঠিক সে কারণেই লেখক হোসে কার্লোস মারিয়াতেগি বাম নেতা স্টালিন ও মাওয়ের রাজনৈতিক দর্শনকে এড়িয়ে নিজ দেশ পেরুর জন্য স্বতন্ত্র মার্ক্সবাদী চিন্তাভাবনা ব্যাখ্যা করলেন তার বইয়ে। তিনি খুব স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেন পেরুর সমস্ত সমস্যার মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক সমস্যা। রাজধানী লিমাকে বাদ দিলে গ্রামীণ পেরুর ভূমি ব্যবস্থাপনা এত করুণ যে, সেখানকার অর্থনৈতিক অবস্থাও ভীষণ করুণ। সমস্যা সমাধানের পূর্বশর্ত– সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারা। যে কাজটি তিনি খুব ভালোভাবে করেছিলেন। ফলে তৎকালীন সামন্ততান্ত্রিক সমাজে তার ব্যাখ্যা বেশ আলোড়ন তোলে। তিনি জনমানুষের মনে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। সবমিলিয়ে আলোচনার তুঙ্গে থাকে ‘সেভেন ইন্টারেপ্টিভ এসে অন পেরুভিয়ান রিয়ালিটি’। পেরুর বাম রাজনৈতিক দলের প্রায় ৩ হাজার কর্মী নিজেদের মারিয়াতেগির ভাবনার উত্তরসূরি বলে দাবি করতে থাকে। শাইনিং পাথও এদের ব্যতিক্রম ছিল না। মার্ক্সের মতবাদে বিশ্বাসী হওয়ায় ৬০-এর দশকে তিনি মারিয়াতেগির রাজনৈতিক দল পেরুভিয়ান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের প্রভাব পড়ে গুজমানের পার্টিতেও। ১৯৬৩ সালে পার্টি দুইভাগে ভাগ হয়ে গেলে চীনপন্থি দলের নেতা হয়ে বসেন গুজমান। এরই মধ্যে সস্ত্রীক চীন ভ্রমণ তার রাজনৈতিক ভাবনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে। বলা চলে তার রাজনৈতিক ভাবনার মোড় ঘুরে যায় চীনের মাও সে তুং-এর সংস্পর্শে এসে। মাওয়ের বহুল প্রচলিত উক্তি ছিল– বিপ্লবী বার্তার জন্য বিপ্লবী বার্তাবাহক প্রয়োজন। কিন্তু গুজমান ছিলেন ঠিক এর বিপরীত। তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমতকে তার দলের লোকের ওপরে চাপিয়ে দিয়েছেন। তার কথা না মানলে দলীয় কর্মীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো। দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন তিনি। বলা যায়, গুজমানই হয়ে ওঠেন শাইনিং পাথ। দলের মূলনীতিও গুজমান। সমাজতান্ত্রিক হয়ে ওঠার বদলে গুজমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে ধর্মীয় মৌলবাদী দলের মতো। যেখানে পরম সত্য আর পরম মিথ্যা ছাড়া কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই। এমনকি  মার্ক্সবাদী অন্যান্য দলের লোকেরাও গুজমানের টার্গেটে পরিণত হতে থাকেন।

শাইনিং পাথ কতটা উজ্জ্বল

শুরুতে শাইনিং পাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বৃত্তে ঘুরপাক খেলেও ৭০ দশকে সেটি পরিণত হয় গেরিলা গোষ্ঠীতে। ১৯৮০ সালে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে ব্যাহত করার মধ্য দিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। মধ্য ও দক্ষিণ পেরু এমনকি পেরুর রাজধানী লিমায়ও এরা আক্রমণ শুরু করে। আক্রমণের মধ্য দিয়ে সরকারকে দুর্বল করে তোলাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সহিংস অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরির জন্য যা যা করা লাগে সবই করেছে শাইনিং পাথ। সশস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে শাসনতন্ত্রকে দুর্বল করার লক্ষ্যে তারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে টার্গেট করা শুরু করে। তারা প্রত্যক্ষ জনসমর্থন লাভের আশায় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি দেওয়া শুরু করে। সরকার ও শাইনিং পাথের সংঘর্ষে প্রায় ৭০ হাজার লোক মারা পড়ে। যাদের প্রায় অর্ধেকের রক্ত লেগে আছে শাইনিং পাথের লোকদের হাতে।

গুজমানের কারাবরণ

প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরাসরি কর্মীদের দেখা হলেও দেশের জনগণের কাছে গুজমান ছিলেন সাক্ষাৎ দেবদূত। নতুন এক স্বপ্নের পথে হেঁটে যাওয়া সাহসী নেতা দেখে তৎকালীন মানুষজন আশার আলো দেখেছিল তার মধ্যে। কিন্তু গেরিলা হামলার মধ্য দিয়ে ক্রমেই অসহনীয় হয়ে ওঠে দেশের পরিস্থিতি। শাইনিং পাথের সাহসী ও নিখুঁত পরিকল্পনা তাকে রাজপথে যত বেশি উজ্জ্বল করছিল, গুজমান ততই জনসমর্থন হারাচ্ছিলেন। প্রায় দুই দশকের হামলা-সহিংসতায় মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে। গুজমানের তথ্যদাতা ও গুপ্তচর নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তখনকার সময়ে পেরুর কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারত না। সুশৃঙ্খল গুপ্তচর বাহিনীর মাধ্যমে তিনি বছরের পর বছর গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন। বছরের পর বছর লড়াইয়ের সময় মৃত, গুরুতর অসুস্থ আবার কখনো বা ইউরোপে আরামদায়ক জীবন যাপন করছেন বলে গুজব ওঠে। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেন জীবন্ত কিংবদন্তি। অবশেষে ১৯৯২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পেরুর একটি রেস্ট হাউজ থেকে বন্দি করা হয় তাকে। সামরিক আইনে বিচার হয় তার। বিচারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। এ বছর কারাবন্দি জীবনের ২৯ বছর পরিপূর্ণ হওয়ার ঠিক আগের দিন ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি।

লাশ নিয়ে বিতর্ক

মৃত্যুর পর গুজমানের লাশ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পেরুর আইন অনুসারে, কারাবন্দির লাশ তার সরাসরি আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু গুজমানের স্ত্রী এলেনা ইপারগুগেইর ছাড়া তার সরাসরি কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। আবার গুজমানের স্ত্রী এলেনা শাইনিং পাথের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনিও সন্ত্রাসবাদের দায়ে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এলেনা তার সহ-কারাবন্দি কুইনোনজকে গুজমানের লাশ গ্রহণ করে সৎকারের ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় দেশের সরকারি কার্যালয় থেকে বলা হয় পর্যালোচনার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ব্যক্তি গুজমান মারা গেছেন কিন্তু মুছে যায়নি তার আদর্শ। গুজমান অনুসারীদের কাছে গুজমানের লাশ বা কবর হয়ে উঠতে পারে নতুন সমাবেশস্থল। সে ভাবনা থেকে এখনো গুজমানের লাশ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দেশটির সরকার। পেরুর বিচারমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি লাশ পুড়িয়ে ফেলা দেখতে চান। তার মতে, ‘শ্মশান হবে এই ব্যক্তির উপযুক্ত জিনিস। এ ভিন্ন অন্য কোনো উপায় নেই। তার অনুসারীরা তাকে শ্মশানে শ্রদ্ধা জানাতে পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী গাইডো বেলিডো জোর দিয়ে বলেছেন যে, এ বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেবে পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়। তাই যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন সরকার তা সবসময় সম্মান জানাবে। এদিকে গুজমানের লাশ দাহ করে ছাইভস্ম প্রশান্ত মহাসাগবে ফেলে দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। গুজমানের অনুসারীরা তাদের নেতার মৃত্যুর পর বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করেছেন। সব মিলিয়ে গুজমানের লাশ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয় সেটা সময়ই বলে দেবে।