শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী |315427|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি

শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা অপরিহার্য বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদেরও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সেজন্য শিক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করা একান্ত অপরিহার্য।’গতকাল সোমবার  গণভবনে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার খসড়ার উপস্থাপনা দেখার সময় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষাব্যবস্থার আরও আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে নীতিমালা আছে সে নীতিমালার ভিত্তিতে আমরা কাজ করব। কিন্তু সব সময় সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে এবং বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আর এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্ব যখন এগিয়ে যায় তখন আমরা কোনো মতেই পিছিয়ে থাকতে পারি না।’

বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘আরেকটা বিষয় আমি লক্ষ করেছিলাম আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের বিজ্ঞানের প্রতি অনীহা। বিজ্ঞান শিক্ষা তারা নিতেই চাইত না। বিজ্ঞান বিভাগের লোকই পাওয়া যেত না। এ রকম একটা সময় কিন্তু ছিল। আমরা বিজ্ঞান শিক্ষায় গুরুত্ব দিই। ১২টা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আমরা প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি।’ এ সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি। যে সমস্ত এলাকায় স্কুল ছিল না সেসব এলাকায় আমরা স্কুল তৈরি করে দিচ্ছি। আমাদের নদী-নালা, খাল-বিলের দেশ। ছোট ছোট শিশুদের যোগাযোগ ও যাতায়াতের ব্যবস্থা বিবেচনা করেই কিন্তু আমরা বিভিন্ন এলাকায় স্কুল তৈরি করার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্কুল-কলেজ খুলে দিয়েছি, ধীরে ধীরে সবগুলো খুলে যাবে। যার ফলে আবার নতুনভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য আমরা প্রায় দেড় বছরের মতো আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে পারিনি। যদিও অনলাইনে বা টেলিভিশনের মাধ্যমে বা ঘরে বসে শিক্ষা কার্যক্রম চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘরেই আমার স্কুল- এই ধরনের বহুমুখী কার্যক্রম তার সরকার পরিচালনা করলেও স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারার আনন্দ থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত থাকতে হয়েছে।’

’৯৬ সালে সরকার পরিচালনার সময়ও সে সময়কার বিশ^মন্দার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, নানারকম প্রতিবন্ধকতা-অসুবিধা ছিল, প্রথমবার সরকার গঠন করার পরই বিশ^ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। আর এবার এলো করোনাভাইরাস। এই সবকিছু মিলে যে প্রতিবন্ধকতা এসেছে সেখানে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুরা অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা।’

করোনাকালীন শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাকালীন যখন সব কিছু স্থবির তখন আপনারা যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনকার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থাটাকে আরও আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করা যায়। আবার সেই সঙ্গে জীবন-জীবিকার পথটাও যেন খোলে। সেই বিষয়টার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে আপনারা এই কার্যক্রমগুলো (জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার খসড়া) করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্বাধীনতার পর পরই দেশবরেণ্য বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণে এবং নীতিমালা প্রণয়নে জাতির পিতার শিক্ষা কমিশন গঠনের কথা স্মরণ করেন এবং সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ’৯৬ পরবর্তী সময়ে সরকারে এসে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের উদ্যোগেরও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র ৫ বছর আমরা সময় পেয়েছিলাম কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে সাক্ষরতার হারকে আমরা ৬৫ দশমিক ৫ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেখেন সেই সাক্ষরতার হার আবার অতীতের মতো ৪৫ ভাগেই ফিরে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামাতের দেশ শাসনে সাক্ষরতার হার বাড়েনি উপরন্তু কমেছে।’